চা উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জনে পিছিয়ে বাংলাদেশ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


জুন থেকে সেপ্টেম্বর দেশে চায়ের ভরা মৌসুম। এ সময় পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে দেশের বাগানগুলোয় বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় সবচেয়ে বেশি চা উৎপাদন হয়। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোয় প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাতের অভাবে চা উৎপাদন আগের তুলনায় কমার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বছরের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি-জুলাই) দেশে পানীয় পণ্যটির উৎপাদন কমার তথ্য। এ সময় দেশের বাগানগুলোয় চা উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে ১০ লাখ টন কমেছে। বছরের বাকি সময় পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও অনুকূল আবহাওয়ার দেখা পাওয়া না গেলে চলতি বছর চা উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জানুয়ারি-জুলাই সময়ে দেশের বাগানগুলোয় সব মিলিয়ে ৩ কোটি ৬৭ লাখ ৭৫ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছিল। বছরের ব্যবধানে ২০১৭ সালে দেশে পানীয় পণ্যটির উৎপাদন ৫৩ লাখ ৪৪ হাজার কেজি কমে দাঁড়ায় ৩ কোটি ১৪ লাখ ৩১ হাজার কেজিতে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি বছর দেশের বাগানগুলোয় চা উৎপাদন আরো কমেছে। গত জানুয়ারি-জুলাই সময়ে মোট ৩ কোটি ৩ লাখ ৮৩ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ লাখ ৪৮ হাজার কেজি কম। এর প্রভাব পড়বে সামগ্রিক চা উৎপাদনে।
২০১৬ সালে দেশের বাগানগুলোয় সব মিলিয়ে ৮ কোটি ৫০ লাখ ৫ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে বাংলাদেশ চা বোর্ড। পরের বছর দেশে পানীয় পণ্যটির উৎপাদন কমে দাঁড়ায় ৭ কোটি ৮৯ লাখ ৪৯ হাজার কেজিতে। অর্থাৎ বছর শেষে দেশে চা উৎপাদন কমেছে ৬১ লাখ ১ হাজার কেজি। মন্দাভাবের ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালে দেশের বাগানগুলোয় মোট ৭ কোটি ২৩ লাখ ৯০ হাজার কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার জের ধরে ভরা মৌসুমে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পরিস্থিতি চলতি বছর চা উৎপাদনের লক্ষ্য পূরণ নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে। বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সাত মাসে দেশে বার্ষিক লক্ষ্যের ৪১ শতাংশ চা উৎপাদন হয়েছে। সেই হিসাবে, বার্ষিক লক্ষ্য পূরণ করতে হলে পরবর্তী পাঁচ মাসে আরো ৪ কোটি ২০ লাখ ৭ হাজার কেজি চা উৎপাদন করতে হবে। আপাতদৃষ্টিতে এটি সম্ভব নয় বলেই মনে করা হচ্ছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৮ সালে দেশে চা বাগানের সংখ্যা ১৬২ থেকে ১৬৪-তে উন্নীত হয়েছে। এর ফলে বছর শেষে চা উৎপাদন প্রাক্কলনের তুলনায় বাড়বে বলে আশা করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সাত মাসে দেশের বাগানগুলোয় সাকল্যে ৩ কোটি ৩ লাখ ৮৩ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। এর বিপরীতে দেশে পানীয় পণ্যটির চাহিদা বাড়তি রয়েছে। ফলে অধিক শুল্কের কারণে আমদানি সীমিত থাকায় দেশের বাজারে কমেছে চায়ের সরবরাহ। প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পানীয় পণ্যটির দামে। চট্টগ্রাম ও মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ কয়েকটি আন্তর্জাতিক নিলামে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ সীমিত থাকার কারণে চায়ের দাম চাঙ্গা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি মো. ইউসুফ বণিক বার্তাকে বলেন, বাড়তি শুল্কের কারণে চা আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন দেশীয় আমদানিকারকরা। এ পরিস্থিতিতে ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ চাহিদার চাপ সামলাতে চায়ের উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই। তবে কয়েক বছর ধরে দেশের বাগানগুলোয় চা উৎপাদন কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়ানো সম্ভব হয়নি। এ কারণে দেশের বাজারে পানীয় পণ্যটির চাহিদা ও সরবরাহে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে। বাড়তে শুরু করেছে চায়ের দাম। প্রতিকূল আবহাওয়ার জের ধরে চলতি বছর লক্ষ্যের তুলনায় কম চা উৎপাদন হলে আগামী দিনগুলোয় দেশে পানীয় পণ্যটির দাম বর্তমানের তুলনায় আরো বাড়তে পারে।