চিকিৎসক ছাড়াই চলছে পাকশী রেল হাসপাতাল

আপডেট: মার্চ ১১, ২০১৭, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

সেলিম সরদার, ঈশ্বরদী


পাক্শী রেলওয়ে হাসপাতালে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের চিকিৎসা সেবা বিনামূল্যে পাবার কথা থাকলেও এখানে টাকা ছাড়া কোন চিকিৎসা সেবা পাওয়া যায় না। আবার হাসপাতালটি রেলওয়ের হওয়ায় কোন ধরনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এখানে চলছে হরিলুট। এই হাসপাতালে ৪ জন নিয়মিত ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও একজন ডাক্তারও নেই এই হাসপাতালে। কয়েকজন নার্স ও তাদের সহকারীদের দিয়েই চলছে পাকশী রেলওয়ে হাসাপাতালের ‘চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম’। ভূক্তভোগী রোগিরা জানান, তারা ঠিকমত সেবা পাচ্ছেন না। সেবা দেওয়ার সব সরাঞ্জম থাকা সত্বেও সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রোগীরা। প্রতিদিন যে কোন ধরনের রোগি হাসপাতালে এলে তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়, ‘এখানে ডাক্তার নেই, সদর হাসপাতালে যান।’
এই হাসপাতালে একজন বিভাগীয় মেডিকেল অফিসার, একজন ইনডোর চিকিৎসক, একজন আউটডোর চিকিৎসক ও একজন সার্জন চিকিৎসক থাকার কথা অথচ এই চার পদের বিপরিতে একজনও নেই এই হাসপাতালে। বিভাগীয় মেডিকেল অফিসার (ডিএমও) ডা. পরিতোষ চক্রবর্তী পদোন্নতী পেয়ে সিএমও হিসেবে রাজশাহীতে যোগদান করার পর থেকে এই পদে এখানে কোন কর্মকর্তা আসেননি। সহকারী সার্জন হিসেবে ডা. এস.কে.রায় নিজেই অসুস্থ্য হয়ে গত দুই মাস ধরে ছুটিতে আছেন। এই পদের অতিরিক্ত দায়িত্বে ডা. এস এম মারুফুল হাসান শান্তাহার থেকে সপ্তাহে একদিন এই হাসপাতালে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে আসেন। তিনি এসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্বাক্ষর করে চলে যান।
এ বিষয়ে ডা. মারুফুল হাসান জানান, আমি শান্তাহার রেলওয়ে হাসপাতালের সহকারী সার্জন হিসেবে কর্মরত আছি অথচ আমাকে রাজশাহী রেল হাসপাতালের ইনডোর, আউটডোর এবং সপ্তাহে একদিন পাকশী রেল হাসপাতালে কাগজপত্র স্বাক্ষর করতে আসতে হয়। তিনি বলেন, আমি মানুষ একজন অথচ তিন স্থানে দায়িত্ব পালন করতে হয় আমাকে। ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশনের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে জানান, তিনি একজন রেলওয়ের কর্মচারী। বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী এই হাসপাতালে তিনি বিনামূল্যে সেবা পাবেন। অথচ তাকে বিনামূল্যের সেবা নিতে হয়েছে টাকা দিয়ে। বহির্বিভাগের রোগিরা জানান, হাসপাতালেই এক্স-রে মেশিন আছে, সেখান থেকে বিনামূল্যে এক্স-রে সেবা পাওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও টাকা ছাড়া এক্স-রে করেন না অপারেটর। পাকশী রেলওয়ে হাসপাতালে এধরনের ঘটনা প্রতিদিনই ঘটছে বলে জানান রোগিরা।
পাকশী রেলওয়ে অফিসের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী আফজাল হোসেন জানান, হাসপাতালে ঔষধ থাকা সত্বেও রোগীদের ওষুধ দেয়া হয় না। হাসপাতালের ডাক্তার-নার্স ও স্টোরের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই ওষুধ বাইরে বিক্রি করে দেয়। এমনিভাবে চলছে ঐতিহ্যবাহী পাক্শী রেলওয়ে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা।
এসব বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের ম্যানেজার অসিম কুমার তালুকদার জানান, এই হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট দুর করার জন্য আমরা চেষ্টা করছি, আশা করি দু এক মাসের মধ্যে সংকটের সমাধান হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ