চিকিৎসক সংকট || প্রতিদিন ১৭ ঘণ্টা চিকিৎসক শূণ্য থাকে বদলগাছী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯, ১:৪৩ পূর্বাহ্ণ

এমদাদুল হক দুলু, বদলগাছী


বদলগাছী উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-সোনার দেশ

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চিকিসৎসক সংকটের কারণে ১৭ ঘণ্টা চিকিৎসক শূন্য থাকার খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে চিকিৎসা সেবাপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলাবাসী।
জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কানিস ফারহানা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন এবং মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুব আলী ও ডা. সামছুল আলম হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। ডা. কানিস ফারহানা এবং ডা. সামছুল আলম নওগাঁ সদরে ও ডা. মাহবুব আলী রাজশাহী শহরে অবস্থান করেন। তারা তাদের স্ব-স্ব অবস্থান থেকে সকাল ১০টা থেকে ১১টায় বদলগাছী হাসপাতালে এসে চিকিৎসা সেবা দিয়ে বিকেল ৫ টায় আবার তিনজন নওগাঁ এবং রাজশাহী সদরে চলে যান। এরপর থেকে পরের দিন সকাল ১০/১১টা পর্যন্ত ১৭ ঘণ্টা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চিকিৎসক শূন্য অবস্থায় থাকে। চিকিৎসক শূন্য ১৭ ঘণ্টা অবস্থায় আন্তঃবিভাগ (ভর্তি), বর্হিঃবিভাগ ও জরুরী বিভাগে আগত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকে উপ সহকারী মেডিকেল অফিসার। অর্থাৎ ২ জন ডাক্তার দিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে । ডাক্তারদের কর্ম তালিকা অনুযায়ী ২১ জন ডাক্তারের অনুমোদিত পদ রয়েছে। জুনিয়র কনসালটেন্ট (পেড্রিয়াটিক্স) ডাক্তার রতন কুমার সিংহ ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর যোগদানের পর থেকে ডেপুটেশনে নওগাঁ সদর হাসপাতালে কর্মরত আছেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কানিস ফারহানার কার্যালয়ে তার সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান. ডা. মাহবুব আলী ও ডা. সামছুল আলম রাজশাহী ও নওগাঁতে অবস্থান করেন। তবে কোয়াটারে থেকে পালাক্রমে আড়াই দিন অর্থাৎ ৫৬ ঘণ্টা করে তারা ডিউটি করেন। এছাড়াও তিনি বলেন, সোমবার, বৃহস্পতিবার ও শ্ক্রুবার এই তিন রাত প্রায় ৪৮ ঘন্টা হাসপাতালটি ডাক্তার শূন্য থাকে। এসময় উপ-সহকারী অফিসাররা চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন। চিকিৎসক সংকট জনিত কারণে বর্হিঃবিভাগে ডাক্তার দেওয়া যায় না। প্রতিমাসে রোগির সংখ্যা ও চিকিৎসা বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন গত আগস্ট মাসে বর্হিঃবিভাগে ৩ হাজার ৮শ ১৮ জন, আন্তঃবিভাগে ৪শ ২৪ জন ও জরুরী বিভাগে ৯শ ৭৭জন রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেন। তবে অনুমোদিত বাকীঁ ১৯ জন ডাক্তার না থাকায় কাঙ্খিত চিকিৎসা সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেন্টাল চিকিৎসক ডা. মো. ফেরদৌস আমিন ২০১৪ সালের ২৬ এপ্রিল থেকে কর্মস্থলে নিখোঁজ রয়েছেন। এখন পর্যন্ত তার বিপরীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এ কারণে ডেন্টাল চিকিৎসকের কক্ষটি ৫ বছর থেকে তালা ঝুলানো রয়েছে। ফলে ডেন্টাল চিকিৎসার যন্ত্রগুলি মরিচা ধরে নষ্ট হচ্ছে। উপজেলার জনগণের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অনুমোদিত পদ অনুযায়ী ডাক্তার জরুরী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন উপজেলাবাসী।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ