চিকিৎসা অবহেলায় শিশু রাইফার মৃত্যু অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে

আপডেট: জুলাই ৭, ২০১৮, ১১:৫৯ অপরাহ্ণ

চিকিৎসাসেবা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ করে থাকেন সেবাগ্রহিতারা। এসব অভিযোগের যেমন ভিত্তি আছে, আবার অনেক অভিযোগ ধারণাগত ভুল থেকেও হয়ে থাকে। তবে সব ধরনের অভিযোগ নিরসনে তেমন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায় না। ফলে ডাক্তার- রোগি বা তাদের স্বজনদের সাখে ‘সাপে নেউলে’ অবস্থাটা বিরাজ করে সবসময়। পরিস্থিতি অনেক সময় এমন বেসামাল হয় যে, তাতে পুরো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার করুণ চিত্রই ফুটে ওঠে। সমস্যা যখন আস্থার, তখন আস্থা ফিরিয়ে আনার কার্যক্রমটিই অনুপস্থিত। এর একটি কারণ এই যে, এটার দায় কেউ নিতে চায় না। বরং উদাসীনতাই প্রদর্শিত হয়। মানুষকে মানুষ হিসেবে জ্ঞান করা হয় না। অনেক সময় রোগি ও তার স্বজনরা মানবিক আচরণ থেকে ভীষণভাবে বঞ্চিত হয়।
তেমনি মানবিক আচরণ ও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে ২৮ মাস বয়সী শিশু রাইফা। এটি একটি ভয়ঙ্কর ঘটনা, যা প্রতিটি মানুষকে শিহরিত না করে পারে না। ২৯ মে চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালে ত্রুটিপূর্ণ চিকিৎসার কারণে মারা যায় রাইফা। ঘটনা বেশ তোলপাড় তুলেছে। সংবাদ মাধ্যমে ওই হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও ত্রুটিপূর্ণ চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ফলে টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের। গঠিত হয় তদন্ত কমিটি। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি অভিযুক্ত তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণসহ চার দফা সুপারিশ করেন।
অপর তিন সুপারিশ সমূহের মধ্যে রয়েছে হাসপাতালটির সার্বিক ক্রুটিপূর্ণ চিকিৎসা ব্যবস্থার দ্রুত সংশোধন করা, কর্তব্যরত নার্সরা সরকারি নিয়মে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী থাকার নিয়ম থাকলেও হাসপাতালের নার্সরা তা ছিল না ফলে ডিপ্লোমাধারী নার্স দিয়ে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সার্বক্ষণিক দ্রুত ও আন্তরিক সেবা নিশ্চিত করা ও অভিভাবকদেরকে যথা সময়ে রোগীর অবস্থা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত করা।
কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশুটির রোগ নির্ণয়, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধ প্রয়োগ যথাযথ থাকলেও অভিযুক্ত তিন চিকিৎসক শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. বিধান রায় চৌধুরী, ডা. দেবাশিষ সেন গুপ্ত ও ডা.শুভ্র দেব শিশুটির রোগ জটিলতাকালীন কর্তব্যে অবহেলা করেছেন। রাইফার যখন খিঁচুনি হয় তখন তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়ার মতো অভিজ্ঞতা কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের ছিল না।
এমন অনেক চিকিৎসক আছেন যারা সেবার বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দেন না- যতবেশি গুরুত্ব দেন অন্ধ-অর্থউপার্জনের প্রতি। এরা শপথ ভঙ্গকারি, উদ্ধত এবং… আর যারা আছেন তারা শপথ রক্ষা করেন এবং সেবার ব্রত নিয়ে কাজ করেন। তবে এই শ্রেণির চিকিৎসকের সংখ্যা নেহাতই কম।
শিশু রাইফা আর ফিরে আসবে। কিন্তু বাবা-মায়ের বুকে যে ক্ষতের সৃষ্টি হলো, যে শুন্যতা- হাহাকারের সৃষ্টি হয়েছে তা তাদের মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত বয়ে বেড়াতে হবে। তবে যাদের অবহেলার জন্য রাইফার মৃত্যু হয়েছে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। রাইফার বাবা-মা এই টুকু সান্ত¦না পাওয়ার দাবিদার। অদৃশ্য কোনো শক্তির ইশারায় দায়ি ব্যক্তিরা যাতে বেরিয়ে যেতে না পারে সেই নিশ্চয়তাও থাকতে হবে। এই অপরাধের বিচার দৃষ্টান্ত হোক যাতে করে আর কোনো ডাক্তার রোগির জীবন নিয়ে অবহেলা প্রদর্শনে উৎসাহিত হতে না পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ