চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন শহিদ সহধর্মিণী জাহানারা জামান

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৭, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

ড. মোহাম্মাদ আজিবার রহমান


মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক বাংলাদেশের অন্যতম স্থপতি শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামানের সহধর্মিণী মহীয়সী নারী জাহানারা জামান ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭, রোববার রাত সাড়ে ১২টায় রাজধানী ঢাকার গুলশানে ছোট ছেলে এহসানুজ্জামান স্বপন এর বাসভবনে ইন্তেকাল করেন (ইন্নাল্লিাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)। মৃতকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তিনি দুই ছেলে ও চার মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুর খরব গণমাধ্যমে প্রকাশিত হবার সাথে সাথে বাংলাদেশ বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের সর্বস্তরে শোকের ছায়া নেমে আসে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী মরহুমার বিদেহী আত্মার শান্তি ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। বিভিন্ন ব্যক্তি, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক জানানো হয়েছে। তাছাড়া তাঁর মৃত্যুতে রাজশাহীতে তিন দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার বাদ আসর গুলশাল আজাদ মসজিদে প্রথম জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে মহদেহ রাজশাহীতে আনা হয়। প্রথমে রাজশাহীর উপশহরে বড় ছেলে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক সফল মেয়র তাঁর বড় ছেলে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের বাসভবনে রাখা হয়। প্রাণপ্রিয় মানুষটিকে এক নজর দেখার জন্য হাজার মানুষের উপচে ভীড় ছিল বাসাটিতে। এরপর শহরের কাদিরগঞ্জের বাসভবনে আনা হয়, সেখানে তিনি দীর্ঘ জীবন কাটিয়েছেন। এই বাড়িটিকে ঘিরে বহু স্মৃতি রয়েছে তাঁর। সেখানেই তাঁর জন্য নির্মিত বেদীতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। শ্রদ্ধা শেষে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় রাজশাহীর কেন্দ্রƒীয় ঈদগাহ ময়দানে (শাহমখদুম ঈদগাহ)। সেখানে মন্ত্রী, এমপিসহ হাজার হাজার মানুষ তাঁর জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত গণমানুষের নিকট তাঁর বড় ছেলে খায়রুজ্জামান লিটন অশ্রুসিক্ত নয়নে মায়ের জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন। জানাজায় ইমামতি করেন কাদিরগঞ্জ জামে মসজিদের খতিব রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. বারকুল্লাহ বিন দূরুল হুদা।
জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তাঁদের পারিবারিক কবরস্থান কাদিরগঞ্জে। সেখানে শায়িত আছেন তাঁর স্বামী বাংলার কৃতী সন্তান বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর জাতীয় চারনেতার অন্যতম শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান হেনা। তাঁকে স্বামীর কবরের পশ্চিম পার্শ্বে সমাহিত করা হয়। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর স্বামী এএইচএম কামারুজ্জামানকে হারিয়ে ছিলেন। ছোট ছোট সন্তানদের ছায়ার মতো করে আগলে রেখেছিলেন। অনেক কষ্ঠ করে সন্তানদের তিনি মানুষ করেছেন। অনেক বড় মনের মানুষ ছিলেন তিনি।
সর্বজন শ্রদ্ধেয়া এই মানুষটিকে মাটি দিতে আসা মানুষগুলোর চোখে মুখে ছিল শোক আর বেদনার ছাপ। চলে গেলেন ‘মা’ আমাদের ছেড়ে। আর কোনদিনও দেখা হবে না। পৃথিবীর কোথাও আর মা’ কে খুঁজে পাওয়া যাবে না। মা তুমি শান্তিতে ঘুমাও। তোমার লক্ষ লক্ষ সন্তান কায়মনোবাক্যে অনন্যচিত্তে তোমার জন্য ফরিয়াদ করছে। তুমি জান্নাতবাসী হও মা।
লেখক : কো-অর্ডিনেটর, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ এবং প্রক্টর, নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রাজশাহী।