চৌহালীর যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন || সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৮, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি


সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সিরাজগঞ্জের চৌহালীর যমুনা নদী থেকে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি। এতে হুমকির মুখে পড়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বসত-বাড়ি, মসজিদ, কবরস্থান ও ফসলি জমি। এদিকে প্রায় দেড়মাস ধরে উপজেলা সদরের দক্ষিণে অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলনের বিষয়টি অবগত নন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনিছুর রহমান। তবে অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
জানা যায়, যমুনার ভাঙনে বিধ্বস্ত চৌহালী উপজেলার অবশিষ্ট অংশকে যমুনার করালগ্রাস থেকে রক্ষায় ১০৭ নির্মীত কোটি টাকার নদীর তীর রক্ষা বাঁধের দক্ষিনে খাষপুখুরিয়া এলাকায় যমুনা নদীর পাড়ের পাশে তলদেশ থেকে স্থানীয় একটি বালু দস্যু চক্রের নেতৃত্বে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি।
এদিকে চৌহালী উপজেলার কোথায়ও অনুমোদিত কোনো বালুমহল নেই এবং নদী থেকে বালু উত্তোলনে নেই প্রশাসনের অনুমতিও। তারপরও প্রভাবশালীদের ছত্র ছায়ায় দীর্ঘ দিন ধরে যমুনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ড্রেজারসহ বিভিন্ন দেশিয় পদ্ধতিতে বালু তুলে গড়েছে বালুর স্তুপ। সেখান থেকে কিনে বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে নির্মাণ কাজ ও খাল ভরাটের কাজ চলছে। বালু ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে বালু বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা আর সরকার হারাচ্ছে মোটা অঙ্কের রাজস্ব। তবে বালু দস্যুদের কাছে থেকে প্রশাসনের কতিপয় কর্তাব্যক্তি নিচ্ছে অনৈতিক সুবিধা এমন অভিযোগ তুলেছে এলাকাবাসি। এভাবে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদী ভাঙনের কবলে পড়ে প্রতি বছরই নদী ভাঙনে কবলে পড়ছে চৌহালী উপজেলা। বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় হুমকির মুখে রয়েছে নদী তীরবর্তী ঘরবাড়ি ও আবাদি জমির মালিকরা। এ অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নেই প্রশাসনের কার্যকর কোন উদ্যোগ। এবিষয়ে ড্রেজারের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাওয়া না গেলেও কর্মরত শ্রমিক আবু তালেব জানান, মোটামুটি একমাস ধরে এলাকার মানুষের ভিটা বাড়ি ও খাল ভরাটের জন্য যমুনার ফাঁরি থেকে বালু তুলছি। এবিষয়ে এলাকার সবাই অবগত। যমুনা নদীর বালু উত্তোলনের কোন অনুমতি আপনাদের আছে কি ? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এবিষয়ে মালিক জানেন। মালিকতো সব সময় থাকে না, আমরা শ্রমিক কাজ করি এর চেয়ে বেশি বলতে পারবো না।
চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আনিছুর রহমান জানান, চৌহালীতে কোন ইজারাকৃত বালু মহাল নেই। খাষপুখুরিয়া এলাকায় বালু উত্তোলনের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর যমুনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন ও বিক্রি বন্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ