ছাত্রলীগ নেতা রবি হত্যা: তিনজনের যাবজ্জীবন

আপডেট: মার্চ ১৪, ২০১৯, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


ছাত্রলীগ নেতা রবি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বাবলা ও সোহাগকে কারাগারে নেয়া হচ্ছে-সোনার দেশ

নগরীতে ছাত্রলীগ নেতা রবিউল ইসলাম রবি হত্যা মামলায় তিন জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের দণ্ড দিয়েছেন আদালত।
গতকাল বুধবার দুপুরে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক অনুপকুমার এ রায় ঘোষণা করেন। তবে একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সাত আসামিকে বেকসুর খালাস দেয় আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, হাসান হকের ছেলে সেতু ইসলাম, বাবু কসাই এর ছেলে বাবলা ও বাবলু ড্রাইভারের ছেলে সোহাগ। তবে সেতু পলাতক রয়েছেন। বাকিরা রায় ঘোষণার সময় আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
রায় ঘোষণার পর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট এন্তাজুল হক বাবু এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে ছিলেন, আবু বাক্কার ও রইসুল ইসলাম।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান চলাকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চারুকলা অনুষদ চত্বরে রবিউলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এসময় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। পরদিন ১৫ এপ্রিল রবিউলের বড় ভাই শফিউল ইসলাম বাদী হয়ে বোয়ালিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
এই মামলায় আসামি করা হয়, মেহেরচন্ডী এলাকার জামাত-শিবিরের কর্মী হাসান হকারের ছেলে সেতু, বাবু কসাইয়ের ছেলে বাবলা, বাবলু ড্রাইভারের ছেলে সোহাগ, আবদুল জলিলের ছেলে সাঈদ, নেজাম উদ্দিনের ছেলে রেজাউল, এশরাম গার্ডের ছেলে নিটুল, আবদুস সাত্তারের ছেলে রাজন, আবুল কালাম মুন্সির ছেলে সুমন, আবদুল ওহাবের ছেলে জামিল, নূর মোহাম্মদ মোল্লার ছেলে কোয়েল, মুনসাদের ছেলে সুরুজ, মিঠুসহ ১২ জন ও অজ্ঞাত ৫/৬ জনকে আসামি করে এই মামলা দায়ের করেন। এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান পুলিশের উপ-পরিদর্শক হাফিজ উদ্দিন। পরে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয় ওমর শরীফকে। তিনি এক বছরের মাথায় ২০১৪ সালের ৫ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
তাতে বাদী পক্ষ নারাজি দিয়ে ফের তদন্তের আবেদন করে। ২০১৫ সালের ২৪ এপ্রিল মামলাটি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে স্থানান্তর করা হয়। পরে নিত্যপদ দাস, আশিকুজ্জামান ও রেজাউস সাদিক মামলাটি তদন্ত করেন। সর্বশেষ মামলার তদন্তে দায়িত্ব পান রাশেদুল ইসলাম।
পরে গত বছরের মার্চে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তর করা হয়। মামলার ২৩ সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত এ রায় ঘোষণা করলেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ