ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্য বাগাতিপাড়া

আপডেট: নভেম্বর ১৫, ২০১৭, ১:৩০ পূর্বাহ্ণ

নাটোর অফিস


যাত্রী বেশে ভ্যান ভাড়া নিয়ে সুযোগ বুঝে চালককে হত্যা করে একের পর এক ভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে নাটোরের বাগাতিপাড়ায়। এতে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে ভ্যান চালক ও জনসাধারণের মধ্যে। এক মাসের ব্যবধানে দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রশাসনও নড়েচড়ে বসেছে। একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত বলে ধারণা করছে পুলিশের। ইতোমধ্যে গ্রেফতারও হয়েছে কয়েকজন।
জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর বাগাতিপাড়া উপজেলার নুরপুর চকপাড়া এলাকার মোয়াজ্জেম হোসেন তার ব্যাটারী চালিত অটো-ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। এর দুই দিন পর একই উপজেলার মল্লিকপুর এলাকায় নদী থেকে হাত-পা বাধা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। দুর্বৃত্তরা ব্যাচারী চালিত ভ্যানটি ছিনতাই করে মোয়াজ্জেমের পরনের শার্ট লুঙ্গি ছিঁড়ে রশি বানিয়ে হাত পা বেঁধে নদীতে ফেলে দেয় তাকে। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে গত ১৪ অক্টোবর উপজেলার পকেটখালি এলাকায়। ছিনতাইকারীরা রাজশাহীর চারঘাটের উমরগাড়ী গ্রামের তরিকুল ইসলামের ছেলে সোহাগ হোসেনকে একই কায়দায় হাত পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করে ছিনিয়ে নেয় ভ্যানটি। এছাড়াও চলতি বছর বাগাতিপাড়া উপজেলায় ভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে বেশ কয়েকটি। এর আগের বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। উপজেলার ‘ডেঞ্জারজোন’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে মল্লিকপুর, জামনগর, কাটাকুল, পকেটখালি ও কালারা এলাকা। জনমানবশূণ্য হওয়ায় এই পাঁচটি স্পটকে নিরাপদ হিসেবে বেছে নিয়েছে ছিনতাইকারীরা।
নিহত মোয়াজ্জেম হোসেনের স্ত্রী শারমিন বেগম জানান, তার স্বামীই পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি ছিলেন। স্বামীকে হারিয়ে দুই মেয়ে নিয়ে তিনি অসহায় হয়ে পড়েছেন। স্বামী হত্যার ঘটনায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত মামলার তেমন কোন অগ্রগতি নেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ভ্যানচালক জানান, একের পর এক ভ্যান ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চরম আতঙ্ক আর নিরাপত্তাহীনতায় দিনযাপন করছেন তারা। মোয়াজ্জেম হত্যার পর মানববন্ধন করতেও অনুমনি দেয়নি পুলিশ। সন্দেহভাজন হিসেবে রহিমানপুর গ্রামের মুনছুর আলীর ছেলে বিদ্যুৎ (৪১), জামনগরের রওশনগীরী পাড়ার আবুলের ছেলে সরওয়ার (৩৫), নূরপুর মালঞ্চির শামসুদ্দিনের ছেলে ফারুখ (৩৮), একই গ্রামের মৃত দুলালের ছেলে পলাশ (৩৭) এবং কুঠি বাঁশবাড়িয়া গ্রামের আমিনুদ্দিনের ছেলে আমিরুলকে (৩২) আটক করেছিল পুলিশ। পরে কয়েকজনকে ছেড়ে দিয়েছে। নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভ্যানচালকরা।
অপরদিকে, নিহত ভ্যানচালক সোহাগ হোসেনের বাবা তরিকুল ইসলাম জানান, তার ছেলে হত্যার ঘটনায় তিনি বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত হত্যার রহস্য কিংন্বা ছিনতাই হওয়া ভ্যানটি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
বাগাতিপাড়া রিক্সা-ভ্যান চালক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জামাল উদ্দিন বাটুল বলেন, একের পর একের হত্যাকান্ডের ঘটনায় কোনটারই সঠিক বিচার হয়নি। বিচারহীনতার কারণে ক্রমাগত হত্যার ঘটনা বেড়েই চলছে। বাগাতিপাড়ায় ভ্যানচালকদের জান-মালের নিরাপত্তা নেই উল্লেখ করে পুলিশি টহল জোরদারসহ প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি ।
বাগাতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবর রহমান জানান, একের পর এক হত্যার ঘটনায় পুরো উপজেলায় আতঙ্ক আর নিরাপত্তহীনতা বিরাজ করছে। লোকজন সন্ধ্যার পর ভ্যান নিয়ে কোথাও যেতে চাইলে ভ্যান পাওয়া যায় না। অটো ভ্যান ছিনতাইয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে। দ্রুত এই চক্রটিকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। নইলে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। উপজেলার আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রশাসককে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার অনুরোধ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুুল্লাহ আল মামুন বলেন, ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশী টহল জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে আটক করে জিঞ্জাসাবাদ করা হচ্ছে। দ্রুতই ভ্যান ছিনতাইকারী চক্রকে আইনের আওতায় আনা হবে।