‘জঙ্গি-সম্পৃক্ত’ সাকিলাই হাটহাজারীতে বিএনপির প্রার্থী?

আপডেট: ডিসেম্বর ৬, ২০১৮, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


দলের অন্য দুজনের মনোনয়নপত্র বাতিলের পর জঙ্গিদের পেছনে অর্থ ঢালার অভিযোগে বিচারের মুখে থাকা ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানাই চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে টিকে থাকলেন।
একাদশ সংসদ নির্বাচনে অধিকাংশ আসনে ধানের শীষের একাধিক প্রার্থী দেওয়ার প্রেক্ষাপটে আরও দুজনের সঙ্গে সাকিলাকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি।
এর মধ্যে বিএনপি নেতা মীর মো. নাছির উদ্দিন ও তার ছেলে মীর মো. হেলাল উদ্দিন দুজনেরই মনোনয়নপত্র বাতিল হয় দুর্নীতি মামলায় সাজার কারণে।
তাদের ছিটকে পড়ার প্রেক্ষাপটে ওই আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে সাকিলাই প্রার্থী হিসাবে রইলেন।
ফলে আপিলেও মীর নাছির কিংবা হেলাল প্রার্থিতা ফেরত না পেলে আসনটিতে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে সাকিলাকেই দেখা যেতে পারে।
চট্টগ্রাম-৫ আসনে এখন সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মাহমুদ; এই মন্ত্রী এবারও মহাজোটের প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন।
জঙ্গিবাদে মদদ দেওয়ার জন্য বিএনপিকে বরাবরই দায়ী করে আসছেন আওয়ামী লীগের নেতারা; এর মধ্যেই সাকিলাকে ধানের শীষের মনোনয়ন দেওয়া হয়।
জঙ্গি সংগঠন হামজা বিগ্রেডকে অর্থায়নের অভিযোগে ২০১৫ সালের ১৮ অগাস্ট ঢাকার ধানম-ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাকিলাকে; তার দুই সহকর্মী আইনজীবীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল সেদিন।
গ্রেপ্তারের পর তাদেরকে ওই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি বাঁশখালীর লটমনি পাহাড়ে জঙ্গি আস্তানা ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়।
এরপর হাটহাজারীর আবু বকর মাদ্রাসা থেকে ২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে জঙ্গিদের ‘তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ পাওয়ার ঘটনায় হাটহাজারী থানায় সন্ত্রাস ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের আরেকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় তাদের।
কয়েকদফা রিমান্ড শেষে সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে ২০১৬ সালের ৭ জুন কারাগার থেকে মুক্তি পান শাকিলা।
হেফাজতে ইসলামের দুই কর্মীর কথায় ব্যারিস্টার সাকিলা শহীদ হামজা বিগ্রেডের সংগঠক মনিরুজ্জামান ডনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এক কোটি আট লাখ টাকা দিয়েছিলেন বলে তার আইনজীবী দাবি করেছিলেন।
আইনজীবী আবদুস সাত্তার তখন বলেছিলেন, হেফাজত নেতাদের সাড়ে তিনশ মামলা পরিচালনার জন্য তাদের কাছ থেকে সাকিলা ওই টাকা পেয়েছিলেন এবং চুক্তি অনুযায়ী কাজ করতে না পারায় তা ফেরত দেন।
ওই অর্থ সানজিদা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করেছিলেন শাকিলা। তবে অ্যাকাউন্টটি যে মনিরুজ্জামান ডনের, তা তার জানা ছিল না বলে তার আইনজীবী সাত্তারের দাবি।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ