জননেতা আতাউর রহমানের স্মরণ সমাবেশে বক্তারা || বঙ্গবন্ধু, কামারুজ্জামান, আতাউর রহমানের চেতনায় বাঙালি জাগছে

আপডেট: জানুয়ারি ১৩, ২০১৮, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


জননেতা আতাউর রহমান স্মরণ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক রুহুল আমিন প্রামাণিক-সোনার দেশ

বাঙালি একটা উদ্ভুত শক্তিধর, মানবপ্রেমী জাতি। এই বাংলাদেশ, দেশের মানুষ রয়েল বেঙ্গল টাইগার। এই দেশের জন্য কারা কাজ করেছেন আত্মত্যাগ আছে, দেশের মানুষের তাদের চিনতে ভুল করেনি। কিন্তু আজকের দিনে যারা রাজনীতি করছেন তারা শত্রু-মিত্র চিনেন না। শত্রু-মিত্র চিনে স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি। রাজনৈতিক নেতাদের আজ রাজা-বাদশাহীর বাসনা জগদ্দল পাথরের মতো পেয়ে বসেছে। তারা গণমানুষের নেতা হতে চান না। বিত্ত-বৈভবের দিকে ছুটছেন। কিন্তু এদেশের মানুষ আবারো জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় নেতা শহিদ কামারুজ্জামান হেনা, জননেতা এম আতাউর রহমানের চেতনায় জেগে উঠছে। মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী রাজকার আলবদরদের ফাঁসির দাবিতে অগ্নিস্ফুলিংগের মতো গণজাগরণে সেই প্রবল উজ্জ্বল শক্তিকে জাগরিত হতে দেখেছি। জননেতা আতাউর রহমানের মতো মানুষগুলো আমাদের শক্তি জোগায়, পথের দীশা দেয়। তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতার কারণে তাঁদের কর্ম আজও আমাদের সমৃদ্ধ করছে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের ভূমিকা সেই সাক্ষ্য বহন করে। আজ রাজশাহী প্রেসক্লাব ও জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদ তাঁর ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণ সমাবেশ থেকে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করি।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট প্রেসক্লাব চত্বরে জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদ ও রাজশাহী প্রেসক্লাবের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণ সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘মুক্তির দিগন্ত হোক চির অবারিত, শোষিত বঞ্চিত নিপীড়িত মেহনতি মানুষের বিজয় সুনিশ্চিত’ স্লোগানকে সামনে রেখে স্মরণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশের শুরুতে জননেতা এম আতাউর রহমান এবং মহিলা শিশু বিষয়ক মন্ত্রাণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী জিনাতুন নেসা তালুকদারের স্বামী সহযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল হিল বাকী তালুকদারের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। ঢাকা থেকে মোবাইলফোনে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ.আ.ম.স. আরেফিন সিদ্দিক। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন- জননেতা এম, আতাউর রহমানের রাজনৈতিক শিষ্য কবি, লেখক, প্রাবন্ধিক অধ্যাপক রুহুল আমিন প্রামাণিক।
জননেতা এম আতাউর রহমানের সন্তান রাজশাহী প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমানের সভাপতিত্ব এবং জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদ ও রাজশাহী প্রেসক্লাবের যুগ্ম-সম্পাদক আসলাম-উদ-দৌলার পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- রাজশাহী প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য কলামিস্ট প্রশান্ত কুমার সাহা। আলোচনা রাখেন- রাজশাহী প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য সমাজগবেষক সাংবাদিক আহমদ সফিউদ্দিন, রাজশাহী প্রেসক্লাব সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) গোলাম সারওয়ার, রাজশাহী জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মর্জিনা পারভিন, রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক তরুণ কুমার সরকার, জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের সহ-সভাপতি সাম্যবাদী দল মহানগর শাখার সাবেক সম্পাদক কমরেড মাসুদ রানা এবং রাজশাহী আকুপ্রেসার সোসাইটির পরিচালক ডা. রওশন আলী।
আরো বক্তব্য রাখেন সেক্টর কমান্ডার ফোরাম রাজশাহী মহানগর সভাপতি শাহজাহান আলী বরজাহান, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি নওশের আলী, রাজশাহী সিটি প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ জুলফিকার, রাজশাহী প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি আবু সালেহ মোহাম্মদ ফাত্তাহ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সদস্য ইত্তেফাক পত্রিকার রাজশাহী ব্যুরো আনিসুজ্জামান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন প্রেসক্লাবের যুগ্ম-সম্পাদক রাশেদ রিপন, রাজশাহী নিউ ডিগ্রী কলেজের সহযোগী অধ্যাপক সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল আওয়াল আনসারী, রাজশাহী বারের যুগ্ম-সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজী শওকত সালেহিন এলেন, মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রাহক ওয়ালিউর রহমান বাবু, বিচারপতি হাবিবুর রহমানের বোন জামাই মাইনুল আহসান ও ছোটবোন নাসরিন সুলতানা বিলু, জননেতা আতাউর রহমান স্মুতি পরিষদের কাজী আব্দুল হান্নান, ভোরের পাতার রাজশাহী ব্যুরো জামাল উদ্দিন, সাংবাদিক নূরে ইসলাম মিলন, গোলাম রাব্বানী, আওয়ামী লীগ নেতা পঙ্কজ দে, যুবলীগ নেতা শাহদাত হোসেন সুজন, সমাজ উন্নয়ন কর্মী ইকবাল হাসান টাইগার প্রমুখ। মোবাইলফোনে বক্তব্য রাখেন শহীদ সেলিম মঞ্চের সভাপতি প্রকেশলী শামসুল আলম।
স্মরণ সমাবেশ শেষে প্রয়াত সাংবাদিক সাইদুর রহমান নাজুর মেজো ছেলে সাব্বিরের হাতে দশ হাজার টাকা শিক্ষা সহায়তা অনুদান তুলে দেয়া হয়।