জমে উঠছে বানেশ্বরের আমের হাট

আপডেট: মে ২২, ২০১৯, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

তারেক মাহমুদ


ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত বানেশ্বরের আমের হাট সোনার দেশ

রাজশাহী ঢাকা মহাসড়ক পাশেই ছোট কাচারি মাঠ। মাঠের মাঝেই ধূলোময় আর প্রচন্ড গরম। পাশেই কড়াই গাছের ছায়ার মাঝে গাদাগাদি করে রয়েছে আম বোঝাই ভ্যানগাড়ি ও নসিমন। সাজানো রয়েছে কাঁচা পাকা রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন জাতের আম। ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত এখন রাজশাহীর সবচেয়ে বড় আমের হাট এই বানেশ্বর। ২য় দিনে প্রায় ২২ থেকে ২৫ ভ্যানগাড়ি বোঝাই করে আম নিয়ে এসেছে বিক্রেতারা। ব্যবসায়ী আর পাইকারদের মধ্যে চলছে দামাদামি। প্রশাসনের নির্দেশমতে, গত ২০ মে গোপালভোগ আম বাজারে আসায় জমতে শুরু করেছে আমের হাট।
ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, ‘হাটে এখন গোপালভোগ, গুটি, রাণীভোগ নিয়ে তিন জাতের আম বিক্রি হচ্ছে। গোপালভোগ প্রতি মণ ১৩০০ থেকে ১৮০০ টাকায়, এবং গুটি জাতের ও রাণীভোগ আম বিক্রি হচ্ছে, ৬০০ থেকে শুরু করে ১৬০০ টাকায়। এই সপ্তাহের মাঝেই পুরো হাট ভরে উঠবে আমে। তিল পরিমাণে জায়গা পাওয়া যাবে না হাটের পুরো মাঠ ও মহাসড়কের পাশের রাস্তাগুলোতে। এদিকে দেশ থেকে বিদেশেও যথেষ্ট সুনাম রয়েছে এই হাটের আমের। হাটের এই সুস্বাদু আম ছড়িয়ে পড়বে সারাদেশ ও দেশের বাইরে।
একাধিক ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে আরো জানা যায়, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, খুলনা ময়মনসিংহ বিদেশেও যাবে রাজশাহীর সুস্বাদু এই আম। প্রতিবছর রাজশাহী জেলার পুঠিয়া, দুর্গাপুর, বাঘা, চারঘাট, পবা,মোহনপুর, তানোর গোদাগাড়ি, বাগমারাসহ পার্শবর্তী জেলা নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসে সকল জাতের আম।
ব্যবসায়ীরা আরো জানান, ‘এবার ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় আমের ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষতি হলেও এবার যথেষ্ঠ পরিমাণে আম উঠবে এই হাঠে। আমের কারণে দুই মাস এই এলাকার মানুষের মাঝে গড়ে উঠবে বিরাট অর্থনৈতিক কর্মসংস্থান’।
পুঠিয়া উপজেলা থেকে আম নিয়ে এসেছে ব্যবসায়ী আবুল কালাম তিনি জানান, ‘আমার কাছে গোপালভোগের আটি জাতের আম রয়েছে, বিক্রি হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকায়। আর অরিজিনাল গোপালভোগ বিক্রি হচ্ছে, ১৪০০ থেকে ১৮০০ টাকায়’। আম ব্যবসায়ী ইদন আলী জানান,‘এখন মূলত গুটি, গোপালভোগ ও রাণীভোগ আম উঠেছে। আমের বাজার পুরোপুরি জমে উঠবে এই সপ্তাহের মাঝেই। পুরো মাঠ ও রাস্তায় আমের রাখার জায়গা পাওয়া যাবে না’।
পাইকার ব্যবসায়ী রায়হান আলী জানান, বেলা ১১ ও ১২ টার পরেই আমের বাজার জমে উঠে। কারণ বেশিরভাগ আম নামানো হয় সকালে আর বেলা বাড়ার সাথে সাথে হাটে আসে। এখন গোপালভোগ আম বেশি চলবে। সারাদেশে এর চাহদাও অনেক বেশি’।
আম ব্যবসায়ী মনোয়ার হোসেন জানান,‘সকাল সাত ও আটটার সময় গাছ থেকে আম নামানো হয়। বেলা ১১টার পরেই বাজারে আম নিয়ে আসে আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকার ব্যবসায়ীরা এখন এখনে এসে ব্যবসা শুরু করবে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় এই আম কিনে নিয়ে চলে যাবে তারা। আজকে আমের দাম মোটামুটি স্বাভাবিক আছে। গতকালকে প্রতি মণে ১০০ থেকে ২০০ বেশি ছিলো’।
ব্যবসায়ী রাজ্জাক শাহ জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে ভ্যান ও ভটভটির মাধ্যমে আম আসে এই হাটে। বেলা গড়ার সাথে সাথে বেচাবিক্রি শুরু হয়। এখন ভালো মানের আম বলতে গোপালভোগ রয়েছে। এছাড়া ভালো জাতের গুটি আমও রয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ