বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

জমে উঠেছে পত্নীতলার পদ্মপুকুর গ্রামীণ মেলা

আপডেট: November 19, 2019, 12:45 am

ইখতিয়ার উদ্দীন আজাদ, পত্নীতলা


পত্নীতলার পদ্মপুকুর গ্রামীণ মেলায় দর্শনার্থীদের ভীড়

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর ইউনিয়নের পদ্মপুকুর ঐতিহ্যবাহী জমে উঠেছে গ্রামীণ মেলা। নবান্ন উৎসবের অংশ হিসেবে প্রতি বছর এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। তবে যুগ যুগ ধরে পঞ্জিকা মতে, কার্তিক সংক্রান্তিতে পদ্মপুকুর ক্ষিতিশা কালি মন্দিরে কালি পূজা উপলক্ষে এ মেলা পালিত হয়ে থাকলেও মেলাটি তিন দিনব্যাপী থাকে।
জানা যায়, নবান্ন উপলক্ষে জামাই-মেয়েদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করণে পহেলা অগ্রহায়ণ ক্ষীর-পায়েস-পোলাও, নতুন চালের আটার তৈরি ভাপা পিঠা, খেঁজুর রসের তৈরি রসালো গুড় ও মাংশ খাওয়ার ধূম পড়ে যায় স্থানীয় বাড়ি-বাড়ি। আর রাত পোহালেই শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী পদ্মপুকুর হুরের মেলা। এ মেলায় উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার মানুষ সংসারি কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন আসবাবপত্র কেনা-কাটা করতে ভীড় জমায়। বিশেষ করে মেলায় কাঠের তৈরি খেলনা ও সংসারে ব্যবহার সামগ্রী বেশি বিক্রি হয়ে থাকে।
মেলায় দেশিয় তৈরি আসবাবপত্রসহ সকল প্রকার খাদ্য, তরকারি, খেলনা, জুতা ও কাপড়ের দোকান এবং কামারশিল্পের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তৈয়জপত্রসহ সকল প্রকার দোকান বসে। তবে শিশু ও কিশোরীদের চুড়িপট্টিতে ভীড় ছিল চোখে পড়ার মত। আত্মীয়দের আপ্যায়নে রসগোল্লা ও জিলাপি প্রচুর বিক্রি হয়।
এছাড়াও কাঠের ও প্লাস্টিকের খেলনা বিভিন্ন ধরণের গাড়ি পাওয়া যায়। কামারের তৈরি দা, ছুরি, কোদাল, বটি, চাকুসহ অন্যান্য জিনিসপত্র প্রকারভেদে বিভিন্ন দামের বিক্রি হয়। মাটির তৈরি রঙ বেরঙের কারুকার্যপূর্ণ দৈনন্দিন ব্যবহার্য হাড়ি-পতিল, ঢাকনা, মটকি, ব্যাংক ইত্যাদি জিনিসপত্র পাওয়া যায়। কুমারশিল্পিরা জানায়, আধুনিকতায় ছোয়ায় কুমার শিল্প আজ হারিয়ে যাচ্ছে। তবুও তারা এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখেন শুধু বাংলার ঐতিহ্য হিসেবে। কেননা, এ পেশায় থাকতে না পেরে আজ অনেকেই অন্য পেশায় বর্তমান সংসার টিকিয়ে রাখছেন।
মেলায় আসা দর্শনার্থী জেলার মহাদেবপুর উপজেলার সুজাইল গ্রামের আনোয়ার হোসেন জানান, হাট-বাজার হতে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে দেশিয় তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্র কেনা সম্ভব হয়। অপরদিকে ব্যবসায়ীরা জানান, মেলায় মালামাল দ্রুত বিক্রি হয়ে থাকে। আর কোন মাল ফিরে যায় না। তাই সাধারণ হাটে-বাজারের তুলনায় মেলায় বিক্রি হয় বেশি। এতে তারা যেমনি খুশি, তেমনি ক্রেতারাও খুশি।
মেলায় খৈচালা, চাঙারি, খলয়, ডালা, কুলা, চালনি ইত্যাদি বিক্রি হয় বেশি। বাঁশ ও বেত শিল্পীরা মেলায় দোকান দিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। কারণ, সারা বছর তেমন বিক্রি না হলৌ এ মেলায় তা পুষিয়ে যায়। কারুশিল্পী সুজন, নিরঞ্জন, পার্বতী, মহাদেবসহ অনেকেই জানান, বাপ-দাদার তৈরি শিক্ষা ও গ্রামিণ ঐতিহ্যের দেশিয় পণ্য টিকিয়ে রাখতে শুধু এ পেশা কোন রকমে দুঃসহ জীবনে ধরে আছেন। তাই এ কারুশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারিভাবে পৃষ্টপোষকতা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।