জমে উঠেছে রাজশাহী বই মেলা পুরনো লেখকদের বইয়ের প্রতিই ঝোঁক পাঠকদের

আপডেট: জানুয়ারি ৬, ২০১৮, ১:০০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


পৌষের তীব্র শীত উপেক্ষা করেই রাজশাহীর কলেজিয়েট স্কুল চত্বরে ভিড় বাড়ছে বইপ্রেমিদের। তাদের অনেকেই কিনছেন বই, কেউবা শুধুই বই নেড়েচেড়ে দেখছেন। অনেকে বইমেলা প্রাঙ্গণে নিছক বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে উঠছেন। আবার অনেকেই চত্বরে আয়োজিত মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় ডুবে থাকছেন সুরের মূর্ছনায়। সবমিলিয়ে বইমেলাকে প্রাণবন্ত বলা যায়। প্রাণের স্ফূরণ ঘটেছে বইমেলাকে ঘিরে।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত রাজশাহী বইমেলার গতকাল শুক্রবার ছিলো পঞ্চম দিন। বইমেলা থাকবে আরো চারদিন। শেষ হবে ৯ জানুয়ারি। গতকাল ছুটির দিন থাকায় বেশ ভিড় ছিলো মেলায়। বিক্রিও বেশ ভালো হয়েছে বলে জানালেন ঢাকা থেকে আগত প্রকাশনী সংস্থার প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, মেলায় বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে।’ বিক্রেতারা জানালেন, পুরনো লেখকÑ রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ দাশ, হুমায়ুন আহমেদ ও জাফর ইকবালের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে ছোটদের রূপকথার গল্পের বইও ভাল বিক্রি হচ্ছে বলে জানালেন বিক্রেতা।
‘সময়’ প্রকাশনের প্রতিনিধি শংকর দাস জানালেন, পুরনো লেখকদের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে। সবাই এসে মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও হুমায়ুন আহমেদের বই খুঁজছেন। এছাড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নজরুল ইসলাম ও জীবনানন্দ দাশের বই মেলায় বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে।’ মুহূর্তেই সে প্রমাণও পাওয়া গেল। এক নারী তার মেয়েকে নিয়ে বই কিনছেন। মেয়ের জন্য কিনলেন মুহম্মদ জাফর ইকবালের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর বই ‘সেরিনা’ আর নিজের জন্য কিনলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সঞ্চয়িতা’। মেলায় উপন্যাসও বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে বলে জানালেন রাজশাহীর স্থানীয় প্রকাশনী সংস্থা ‘পরিলেখ’ এর প্রতিনিধি কালিম। তিনি জানালেন, উপন্যাস বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে।
তবে মেলায় ভ্রমণ কাহিনী, হোমারের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘ইলিয়াড’ ও ‘ওডিসি’ ভালো বিক্রি হচ্ছে বলে জানালেন, বিশ্বসাহিত্যের কেন্দ্রের সংগঠক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আশিকুর রহমান। মেলায় ভিন্ন এক ব্যতিক্রমি প্রকাশনা সংস্থা নিয়ে বসেছেন অনিক ইসলাম। তার বন্ধুর প্রকাশনা সংস্থা হলেও তিনি বই বিক্রিতে সহযোগিতা করছেন। পুরো কবিতার বই নিয়ে সাজানো তার প্রকাশনী সংস্থার নাম ‘কবি’।
তবে ভিন্ন এক কথা বললেন কাকলী প্রকাশনী সংস্থার প্রতিনিধি এনামুল হক সোহেল। তার নিজের লেখা দুইটা বই বের হয়েছে। তিনি জানালেন, যেভাবে গানের শিল্পী তৈরির উদ্যোগ নেয় মিডিয়া কিংবা বিভিন্ন সংস্থা। ঠিক সেইভাবে লেখক তৈরির উদ্যোগ নেয় না কোনো সংস্থা। প্রতিবছর লেখক তৈরির উদ্যোগ নেয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি।
মেলায় ভিন্ন এক পাঠকের সন্ধান পাওয়া গেলো। তিনি সিটি কলেজের চতুর্থ বর্ষের গণিত বিভাগের ছাত্র। তার হাতে দেখা গেলো ঝকঝকে এক বই। নাম ‘ফিজিক্স ডিকশনারি’। তিনি বললেন, গণিত ছাত্র হওয়ার সুবাদে বিজ্ঞানের বইয়ের প্রতি ঝোঁকটা একটু প্রবল। তাই বিজ্ঞান একাডেমি থেকে তিনি এই বইটা কিনেছেন।
মেলায় একগাদা রূপকথার বই নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে ঘুরছে স্কুল পড়–য়া মুশফিকুর। তার হাতে দেখা গেলো ‘ছোটদের সেরা আরব্য রজনী’, ‘ঠাকুরমারঝুলি’সহ একগাদা বই।
মেলায় ঘুরতে ঘুরতে দেখা হয়ে গেলো কবিতাপ্রেমি ও কবি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পেইন্টিং বিভাগের অধ্যাপক ড. সিদ্ধার্থ শংকরের সঙ্গে। তিনি মেলা থেকে কিনেছেন নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘কবিতার ক্লাস’ ও ‘কবিতা কী এবং কেন’ বই দুটি। তিনি আক্ষেপ করে বললেন, মেলার সব বিষয়ই ভালো লেগেছে, শুধু একটা বিষয় ছাড়া। তা হচ্ছে, মেলার স্টলগুলো সব একই ধরনের।’ একই কথা বললেরন মেলায় ঘুরতে আসা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য বিভাগের শিক্ষার্থী শাকিলা খাতুন। তিনি জানালেন, প্রতিটি স্টল যদি নিজেদের আলাদা আলাদা লোগো ব্যবহার করতো, তাহলে স্টলগুলো অনেক নান্দনিক হতো। দেখতে আকর্ষণীয় হতো।