জাপা মহাসচিবের ধৃষ্টতা দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে

আপডেট: নভেম্বর ১৪, ২০১৯, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ

নব্বুইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শহিদ নূর হোসেনকে নিয়ে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গার কুরুচিপূর্ণ ও ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্যে দেশ জুড়ে এর প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। নূর হোসেন এমন এক অনুপ্রেরণা যাঁর আত্মত্যাগ বাঙালি জাতির গণঅভ্যুত্থানকে অন্যন্য মাত্রার গতি দিয়েছিল। স্বৈরাচারের পতনকে ত্বরান্বিত করেছিল। তাঁকেই জাপা মহাসচিব ‘মাদকাসক্ত’ বলে উল্লেখ করেছেন। নূর হোসেনর শহিদ হওয়ার ২৯ বছর পূর্ণ হওয়ার দিন ১০ নভেম্বর এই প্রথম এই কলঙ্ক লেপন করলেন। আগে কেউ অমন কথা বলেন নি। যে স্বৈারাচার জেনারেল এরশাদের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রামে জীবন্ত পোস্টার হয়ে নূর হোসেন শহিদ হয়েছিলেন, সেই এরশাদও এ কথা বলেন নি কোনো দিন। কিন্তু সেই স্বৈরাচারের ছায়া নূর হোসেনকে অশুদ্ধ বানাতে চাইছেন। সেটা যে সম্ভব নয় তা দেশ জুড়ে প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সেটা প্রমাণিত হচ্ছে। জাপা মহাসচিব যা বলেছেন তা তার নিজ দলই গ্রহণ করতে নারাজ। দলীয় অবস্থান থেকে বলা হচ্ছে মসিউর রহমান রাঙ্গা যা বলেছেন তা একান্তই তার নিজের কথা। তার বক্তব্য দল সমর্থন করে না।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে মসিউর রহমান রাঙ্গার বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সরকারি দল আওয়ামী লীগসহ বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। রাঙ্গার বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে তাকে সংসদে দাঁড়িয়ে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান সরকারি দলের সদস্যরা। তবে বিরোধীদলীয় সদস্যরা রাঙ্গার বক্তব্যকে তার নিজস্ব মতামত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, রাঙ্গার বক্তব্যের দায় নেবে না জাতীয় পার্টি। তবে এজন্য পার্টি লজ্জিত। কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের কারণে রাঙ্গাকে তার নিজ জেলা রংপুর তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তার কুশপত্তলিকা দাহ করা হয়েছে। রাঙ্গার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ এখন দেশের প্রতিটি জেলায়, উপজেলায় হচ্ছে। যদিও রাঙ্গা ইতোমধ্যেই নূর হোসেনর মায়ের কাছে ব্যক্তিগতভাবে দুঃখপ্রকাশ করেছেন।
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গার নূর হোসেনের প্রতি কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের অপমান-অমর্যাদা শুধু নূর হোসেনর মায়ের ব্যাপার নয়Ñ এটা দেশের মানুষের অপমানের বিষয়। অপমানটা দেশের মানুষের বিরুদ্ধে হয়েছে। দেশের মানুষের কাছে প্রকাশ্যেই ক্ষমা চাইতে হবে। জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে ক্ষমা চাওয়ার যে দাবি উঠেছে সেটাতে আমরা সহমত পোষণ করি।
নব্বুয়ের গলঅভ্যুত্থানে ১০ নভেম্বর যুবলীগকর্মি নূর হোসেন ‘বুকে স্বৈরাচার নিপাত যাক’ আর পিঠি ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ স্লোগান অঙ্কিত করে গণঅভ্যুত্থানে সামিল হয়েছিলেন। তখনই তিনি পুলিশের রাইফেলের নিশানায় আসেন এবং শহিদ হোন। নূর হোসেনের সেইদিনের সেই স্লোগানই ছিল বাংলার মানুষের আকাক্সক্ষারই প্রতিফলন। সেটা ছিল গণঅভ্যুত্থানের অনুপ্রেরণা, সাহস ও গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। সেই অধ্যায়ের কোনো রকম বিকৃতি হবে- গণমানুষের প্রতি ধৃষ্টতা ও চরম অবমাননা। সেই বিকৃত রুচির পরিচয়ই দিয়েছেন জাপা মহাসচিব। অবশ্য এটা অবাক করার মত কিছু নয়। স্বৈরাচারের গর্ভ থেকে দুর্বৃত্তায়নের ভাব সম্প্রসারণ হবে এটাই স্বাভাবিক। আমাদের জাতীয় রাজনীতির পচন তো এখানে যে, গণশত্রুকে রাজনৈতিক কৌশলের নামে তোয়াজ করতে হয়। যেখানে দুর্বৃত্ত বড় হয়, মহান হয়, নেতৃত্ব দেয় আর পুরো সমাজ দুর্বৃত্তায়িত হয়। তারা মানুষের জন্য নয়- তাই তারা মহান আত্মত্যাগকে কলঙ্কিত করতে চায়। রাজনীতির এই বেহাল দশা থেকে উত্তরণের পথ অন্বেষণও এখন সময়ের দাবি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ