বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে ব্যাংক কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ || দুর্গাপুরে ব্যাংকের বন্ধকী জমি নিয়ে প্রতারণার চেষ্টা

আপডেট: December 8, 2019, 1:07 am

দুর্গাপুর প্রতিনিধি


রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা চত্বরে ইসলামী ব্যাংক বানেশ্বর শাখার ব্যবস্থাপককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংকের কাছে জমি বন্ধক রেখে ঋণ নিয়ে ওই বন্ধকী জমি নিজ নামে জারি করে ব্যাংকের সঙ্গে প্রতারণার চেষ্টাও করেছে উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির নূরুজ্জামান লিটন এবং অন্যজন তার ভাই নূরুল ইসলাম।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে বাধা দিতে আসা ব্যাংক কর্মকতা রেজাউল করিমকে লাঞ্ছিত করেন ঋণখেলাপি দুই ভাই। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নূরুজ্জামান লিটন এবং তার ভাই নূরুল ইসলাম মিলে ওই ব্যাংক কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করেন।
এ ঘটনায় দুর্গাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন ইসলামী ব্যাংক বানেশ্বর শাখার ব্যবস্থাপক রেজাউল করিম।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ব্যাংক কর্মকর্তা রেজাউল করিম দুর্গাপুরে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয় থেকে বের হওয়া মাত্র নূরুজ্জামান লিটন এবং নূরুল ইসলাম তাকে ঘিরে ধরে। একপর্যায়ে তাকে লাঞ্ছিত করে দুই ভাই। এসময় স্থানীয়রা এসে ব্যাংক কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। পরে রেজাউল করিম থানায় গিয়ে তাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
রেজাউল করিম জানান, প্রায় ১০ বছর আগে দুর্গাপুরের প্রয়াত ব্যবসায়ী নূরুন নবী ৩৭ শতাংশ জমি বন্ধক রেখে নিগার পটেটো টিস্যু কালচার প্রকল্পের নামে এক কোটি ৬৫ লাখ টাকা ঋণগ্রহণ করেন ইসলামী ব্যাংক বানেশ্বর শাখা থেকে। এই ঋণের জামিনদার হলেন, দুই ভাই নূরুল ইসলাম ও নূরুজ্জামান লিটন। কিন্তু কয়েক বছর আগে নূরুন্নবী মারা যান। এরপর ঋণ পরিশোধ না করে দুই ভাই ওই সম্পত্তি ভোগ-দখল করে আসছেন। এমনকি তারা গোপনে বন্ধক রাখা ৩৭ শতাংশ জমির মধ্যে ১৭ শতাংশ জমি নিজেদের নামে নামজারি করার চেষ্টা করছে। এখানেও নূরুন্নবীর এক ছেলেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তবে ব্যাংকের কাছে ওই সম্পত্তি বন্ধক আছে। কাজেই নামজারির করার চেষ্টার বিষয়ে ব্যাংকের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই আপত্তির শুনানি ছিলো দুর্গাপুর সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে। শুনানি শেষে তিনি বের হওয়া মাত্রই তাকে লাঞ্ছিত করে নূরুল ইসলাম ও নূরুজ্জামান লিটন।
ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘ভাইয়ের নামে ঋণ হলেও তিনি মারা যাওয়ার কারণে এখন জামিনদার হিসেবে এবং সম্পত্তির মালিক হিসেবে দুই ভাই ঋণ খেলাপি। কিন্তু ঋণ পরিশোধ না করে দুই ভাই নানা টালবাহানা করছেন। এরই মধ্যে ব্যাংকে বন্ধক রাখা সম্পত্তিও আত্মসাত করতে তারা গোপনে ওই জমির কিছু অংশ নামজারি করার চেষ্টা করছেন। এটি তারা আইনগতভাবে করতে পারেন না।’
এদিকে বিষয়টি নিয়ে যোগযোগ করা হলে নূরুল ইসলাম বলেন, আমরা উপজেলায় ভূমি অফিসে গিয়ে ছিলাম। সেখানে আমাদের সাথে ব্যাংক কর্মকর্তা রেজাউল করিমের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
নূরুজ্জামানের ফোনে বলেন, ওই ব্যাংকে আমাদের নিজ নামে কোনো ঋণ নেই। আমরা ঋণ খেলাপি না। ওই ব্যাংকে ঋণ করা আছে আমার ভাতিজি মেরিনার নামে, সে মারা গেছে। ওই ঋণের দায় আমাদের নয়। এসময় তিনি আরো বলেন, আমাদের দুই ভাইয়ের দলিলি সম্পত্তি খারিজ করে নিজ নামে নামজারি করেছি। এতে ব্যাংক বাধা দিতে পারে না। ২০০১ সালে দুই ভাইয়ের নামে দলিল হয়। যার দলিল নম্বর ১৩৫২১। ভুলবশত ওই দলিলি সম্পত্তি ভাতিজি মেরিনার ব্যাংক ঋণের বন্ধকীতে চলে যায়।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ওসি খুরশিদা বানু কণা বলেন, ব্যাংক কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিতের বিষয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।