‘জাড়ে’ কাঁপছে রাজশাহী গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ১০.৫

আপডেট: জানুয়ারি ৪, ২০১৮, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহীতে শীতের কাঁপনে জড়সড় মানুষজন। গতকালই প্রথম এই মৌসুমের তীব্র শীতের স্পর্শ পেলো রাজশাহীবাসী। ওই দিন দিবাগত রাত থেকেই রাজশাহীতে তীব্র শীত অনুভূত হতে থাকে। শুধুমাত্র দুপুরের দিকে কিছুটা সময় রোদ থাকলেও সারাদিন ধরেই ছিলো শীতের তীব্রতা। সন্ধ্যার দিকে ক্রমান্বয়ে তা বাড়তে থাকে। এর সঙ্গে সন্ধ্যায় যুক্ত হয় উত্তরের হিমেল হাওয়া। সন্ধ্যার পর থেকেই কুয়াশার আবরণে ছেয়ে যেতে থাকে নগরের পথ-ঘাট, প্রান্তর।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার ছিলো এ মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। গতকাল তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন তাপমাত্রা ছিলো ১১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ এক দিনেই তাপমাত্রা কমে আসে প্রায় এক ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। অথচ গত কয়েকদিন ধরেই তাপমাত্রা ছিলো ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কোঠায়।
একে অশনি সংকেত হিসেবেই দেখছেন আবহাওয়াবিদরা। তারা বলছেন, এভাবে হুট করে তাপমাত্রা কমে যাওয়া রাজশাহীর জন্য অশনিসংকেত। এর ফলে এই জানুয়ারিতেই আগামি সপ্তাহে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হবে বলে মন্তব্য করেছেন।
রাজশাহীর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ আশরাফুল আলম জানান, রাজশাহীতে এবছরের সর্বনি¤্ন তাপমাত্রা ছিলো গতকাল বুধবার। ওইদিন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ক্রমান্বয়ে তাপমাত্রা কমে শীত পর্যায়ক্রমে বাড়তে থাকবে। আগামি সপ্তাহের মধ্যে তাপমাত্রা কমে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যাবে। এ জানুয়ারি মাসেই শৈত্য প্রবাহ হবে বলে জানান তিনি।
নগরীর আলুপট্টি এলাকার বাসিন্দা মওদুদ রানা বলেন, আজকে (বুধবার) খুব ঠাণ্ডা পড়েছে। ঠাণ্ডায় শরীরের ভেতরও কাঁপছে। রাতে আরো বেশি ঠাণ্ডা লাগছে। বাতাসের কারণে রাস্তায় দাঁড়ানো যাচ্ছে না।
প্রতিবছর শীতে ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ে। শিশুরা বিশেষ করে ডায়রিয়া, আমাশয়, ব্রঙ্কাইটিস, জ্বর, সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগী বেশি ভর্তি হয় হাসপাতালগুলোতে। তবে এবছর এখনো খুব বেশি শীতজনিত রোগির সংখ্যা হাসপাতালে ভর্তি হয়নি বলে জানিয়েছেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ছানাউল হক মিঞা। তিনি জানান, রোগির সংখ্যা কম হলেও দুই একটা ভাইরাল ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া নিউমোনিয়া, জন্ডিস, সর্দি, কাশি, জ্বর ও ব্রঙ্কাইটিসে বেশি আক্রান্ত হয় শীতে। এইজন্য শিশুরা যেন কুয়াশার সংস্পর্শে না যায় সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখা উচিত বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, একটু সতর্ক হলেই ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।