‘জীবনে দাঁড়ানোর’ বিকল্প ভাবনা দিলেন জয়

আপডেট: অক্টোবর ২৩, ২০১৯, ১:১২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


লেখাপড়া শেষ করে শুধু চাকরির দিকে নজর না দিয়ে উদ্যোক্তা হয়ে নিজের জীবিকার পাশাপাশি অন্যদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।
এক্ষেত্রে বর্তমান বিশ্বে তথ্য-প্রযুক্তি খাতের বিপুল সম্ভাবনার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন তিনি।
মঙ্গলবার হোটেল র‌্যাডিসনে সিআরআইয়ের আয়োজনে ‘ইয়ং বাংলা উইথ সজীব ওয়াজেদ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের ‘ইয়ুথ অন পলিটিক্স’ সেশনে দেওয়া বক্তৃতায় একথা বলেন তিনি।
জয় বলেন, “শুধু চাকরির দিকে নজর দেবেন না। আমাদের অর্থনীতি বাড়ছে। উদ্যোক্তা হন, নিজের পাঁয়ে দাঁড়ান। অন্য কারও উপর আপনার নির্ভরশীল হতে হবে না।
“সরকারের উপর নির্ভরশীল হতে হবে না, অন্য কোনও সংগঠনের উপর নির্ভরশীল হতে হবে না এবং কোনও কোম্পানির উপরও নির্ভরশীল হতে হবে না।”
প্রধানমন্ত্রীর ছেলে জয় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনপ্রশাসনে স্নাতকোত্তর করেছেন। আর কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে। তিনি নিজেও একজন তথ্য-প্রযুক্তি উদ্যোক্তা।
সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, “আপনারা নিজেদের কোম্পানি করেন। আপনারা হয়ত ভাবতে পারেন বাণিজ্য করে দেশের এবং দেশের মানুষের কী লাভ?”
বাণিজ্য করলে অর্থনীতির লাভ হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আপনারা তখন অন্যদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারবেন। আপনাদের কোম্পানিতে আপনারা অন্যদের চাকরি দিতে পারবেন।
“সেজন্য আমরা চেয়েছি, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব, তার সাথে আমরা তরুণদের আকর্ষণ করব, তরুণদের আহ্বান জানাব যে, আসো নিজের উদ্যোগে কিছু করো। দেশের জন্য কিছু করো।”
দেশে বিসিএসসহ সরকারি চাকরিতে সীমিত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা থাকার কথা উল্লেখ করেন জয়।
তিনি বলেন, “দেখেন আবারও সেই বিসিএসের প্রশ্নে চলে যাই। সরকারি চাকরি, বিসিএসে চাকরি কিন্তু বছরে চার থেকে পাঁচ হাজার। মাত্র, সামান্য।
“কিন্তু এই যে প্রতি বছর হাজার হাজার তরুণ স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিয়ে আসছে তাদের কিন্তু বেশিরভাগের (সরকারি চাকরিতে) সুযোগ, সম্ভাবনাই নাই। কারণ সরকারি চাকরি মাত্র পাঁচ হাজার।”
জয় বলেন, “আপনারা যদি নিজেদের উদ্যোগে কোনও ব্যবসা করেন, কোনও ছোটখাট দেকান করেন, ফ্রিল্যান্সিংও করেন সেখান থেকে একপর্যায়ে কিছুটা ট্যাক্স দেবেন। সেই ট্যাক্স কোথায় যায়? আমাদের অর্থনীতিতেই যায়। মানুষের সেবায় কিন্তু আসে।
“এভাবে কিন্তু আপনারা নিজেদের উদ্যোগে দেশকে, দেশের মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন।”
আর উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করার জন্যই ‘আওয়ামী লীগ সরকার অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছে’ বলে জানান তিনি।
এ সময় তিনি সারা দেশজুড়ে কারিগরি শিক্ষা কেন্দ্র, ভোকেশনাল ও ডিল্পোমা শিক্ষা কেন্দ্র এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
একইসঙ্গে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর জন্য নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ