জেএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁস || ঘরের শত্রু সন্ধানই লক্ষ্য হোক

আপডেট: নভেম্বর ১৪, ২০১৭, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটতেই আছে। কোনোভাবেই ফাঁসকারীদের প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। সংবাদমাধ্যমে খবর হিসেবে আসা একের পর এক প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তাই মনে হচ্ছে। খুব স্বাভাবিকভাইে অভিভাবক- শিক্ষক-শিক্ষার্থী সকলেই উদ্বিগ্ন। দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থা কী ভেঙ্গে পড়ছে?
জেএসসি পরীক্ষার প্রায় সব প্রশ্নপত্রই ফাঁস হয়েছে বলে সংবাদ মাধ্যমের খবর। এমন অনেক অভিভাবক আছেন যারা ফাঁস প্রশ্নপত্রের তালাশে ব্যস্ত থাকছেন। এখন ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র পেতে টাকাও লাগে না। সংবাদমাধ্যমগুলি জানাচ্ছে, এতদিন টাকার বিনিময়ে মেসেঞ্জার ও হোয়াটস অ্যাপে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করা হলেও এখন বিনামূল্যে তা উন্মুক্ত করে দেয়া হচ্ছে ফেইসবুক গ্রুপ ও পেইজে, যা হুবহু মিলছে পরীক্ষার প্রশ্নের সাথে।
রোববার সকাল ১০টায় জেএসসি-এর গণিত পরীক্ষা শুরু হওয়ার ঘণ্টাখানেক আগে প্রশ্ন ও তার উত্তর ছড়িয়ে পড়ে, বিভিন্ন কেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে তাতে চোখ বুলিয়ে নেন শিক্ষার্থীরা। এর আগের পরীক্ষাগুলোতে নির্দিষ্ট অংকের টাকা দিয়ে মেসেঞ্জার ও হোয়াটস আপের মাধ্যমে প্রশ্ন পাওয়ার কথা জানান শিক্ষার্থীরা।
ছোটদের পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে বড়রাও জড়িয়ে পড়ছেÑ ছোটদের জন্য শিক্ষার আর কী রইল। মূল্যবোধের অবক্ষয়ের আর কি সীমা নির্ধারণ করা যায়। আর যারা প্রশ্নপত্র ফাঁস করছে তারা হয়ত আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে কিন্তু দেশ ও জাতির কাছে তাদের কি কোনো দায়িত্বই নেই। শিশুদেরকে নষ্টামির মধ্যে নিয়ে তারা আর কী হাসিল করতে চায়? তারা তো দেশের শত্রু, মানুষের শত্রু।
এই শত্রুদের বাড়বাড়ন্ত কেন? প্রশ্নপত্র ফাঁসে সরকারের কোনো যাওয়াই কাজে আসছে না। কর্তৃপক্ষ থাকে ডালে আর ফাঁসকারী থাকে পাতায়। সরকারের আস্ফালনই সার। কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। ফাঁসকারীরা বেপরোয়া, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিভাগ বড়ই অসহায় মনে হয়। ঘরের মধ্যে বিভীষণ, সব তথ্য বাইরে পাচার করে দিচ্ছে, সরকারকে বেকায়দায় ফেলছেÑ অথচ সরকার ঘরের শত্রুকেই চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দুর্বলতা চোখে পড়ে। পরীক্ষা শুরু আধাঘণ্টা আগে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে নিলেই প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ হয়ে যাবে! খুবই আজব একটি সিদ্ধান্ত আর এই সিদ্ধান্ত যে অসাড় তা প্রশ্ন ফাঁস করেই ফাঁসকারীরা প্রমাণ করে দিল।
প্রশ্ন প্রণয়ন, প্রশ্ন প্রকাশ, সরক্ষণ এবং বিতরণের মধ্যে কোথাও না কোথাও গলদ থেকে গেছে। এই গলদ অনুসন্ধানের প্রয়াসটা বরাবরই খুব দুর্বল মনে হয়েছে। প্রশ্নপত্র পরীক্ষার্থীদের হাতে যাওয়ার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত সেগুলির দায়িত্বে সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারীরাই নিযুক্ত থাকে। এই শেষ ধাপে আসার মাঝ পথেই কোথাও ভয়ঙ্কর শত্রুরা ঘাপটি মেরে বসে আছেÑ তারাই খুবই কৌশলে এই অপকর্মটি করে চলেছে। হয়ত ওই শত্রুরা সরকারের খুব আস্থার জায়গায় থেকেই এই কাজটি করে চলেছে। কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য যে সরকারকে বিপাকে ফেলা এটা পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে। আমরা মনে করি ঘরের মধ্যেই নিবিড় অনসন্ধান দরকার- যেখানে ঘাপটি মেরে বসে আছে দেশশত্রুরা তাদের চিহ্নিত করার জন্য। অন্যথায় যতই উদ্যোগ নেয়া হোক না কেন প্রশ্নপত্র ফাঁস যে বন্ধ করা যাবে না তা ফাঁসকারীরাই প্রমাণ করে ছেড়েছে।

 

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ