জেএসসি- জেডিসি পরীক্ষার ফল ।। উত্তীর্ণদের জানাই শুভেচ্ছা- অভিনন্দন

আপডেট: ডিসেম্বর ৩০, ২০১৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। একই দিন প্রাথমিক ও এবদেদায়ী পরীক্ষার ফলাফলও প্রকাশ পেয়েছে।
গত বছরের তুলনায় এবারে শিক্ষার্থী আরো ভালো করেছে। এবার পাস করেছে ৯৩ দশমিক ০৬ শতাংশ শিক্ষার্থী, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে। জেএসসি-জেডিসি মিলিয়ে এ বছর মোট ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৮ জন পূর্ণ জিপিএ পেয়েছে; গতবছর এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯৬ হাজার ২৬৩ জন। গতবছর এ পরীক্ষায় ৯২ দশমিক ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল। এই হিসাবে এবার পাসের হার শূন্য দশমিক ৭৩ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে।
এ বছর সারা দেশে ২৩ লাখ ৪৬ হাজার ৯৫৯ জন শিক্ষার্থী জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ২১ লাখ ৮৩ হাজার ৯৭৫ জন পাস করেছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। ৯ হাজার ৪৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
অন্যদিকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় ৯৮ দশমিক ৫১ শতাংশ ও ইবতেদায়ীতে ৯৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে এ বছর। এর মধ্যে প্রাথমিকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ লাখ ৮১ হাজার ৮৯৮ জন। আর ইবতেদায়ীতে ৫ হাজার ৯৪৮ জন। সকল পরীক্ষার প্রত্যাশিত ফল সারা দেশে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বেশ উৎসনাহ উদ্দীপনা ছিল। পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর।
প্রতিটি পরীক্ষাই শিক্ষার্থী এবং মা- বাবা ও স্বজনদের মনে স্বপ্ন বোনে। আর মানুষ স্বপ্ন দেখে বলেই সে সভ্যতা নির্মাণ করে। সে অর্থে প্রতিটি শিশুর মধ্যেই সভ্যতাকে এগিয়ে নেয়ার সম্ভাবনা লুপ্ত থাকে। সেই সম্ভাবনাকে জাগাতেই শিক্ষা একটি অগ্রগন্য হাতিয়ার। সেই শিক্ষাকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে এক নতুন জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষাকে তৃণমূলে পৌঁছে দিতে সরকারের উদ্যোগ যেমন আছে, তেমনি দেশের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শিশুদের শিক্ষিত গড়ে তোলার বোধ তৈরি হয়েছে। বিশাল কর্মযজ্ঞের (পরীক্ষা অনুষ্ঠান) স্বাভাবিক ভুলত্রুটি বাদ দিলে বর্তমান সরকার শিক্ষাকে তৃণমূলে পৌছে দিতে নতুন মাত্রা দিতে পেরেছে। সন্তানকে সে ছেলে কিংবা মেয়ে হোকÑ স্কুলে পাঠাতে হবে, শিক্ষিত করতে হবে এই বোধের সত্যিকার অর্থেই এক মহাজাগরণ বাংলাদেশে। শিক্ষা-অনুভব এখন সামাজিক আন্দোলনের পর্যায় অতিক্রম করছে। স্কুলে বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষায় শিশুদের অংশগ্রহণ বেড়েছে, যা প্রায় শতভাগ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য বাংলাদেশ এখন অনুসরণীয়।
জেএসসি- জেডিসি এবং প্রাথমিক ও এবতেদায়ীর ফলাফল প্রকাশের পর নিশ্চয় অভিভাবকদের উদ্বিগ্ন অপেক্ষার অবসান হয়েছে। সাফল্যও প্রায় কাণায় কাণায় পূর্ণ। অভিভাবকদের অধিকাংশেরই প্রচেষ্টা, শ্রম সার্থক হয়েছে। প্রতিটি উত্তীর্ণ শিশুর মধ্যে আত্মবিশ্বাস দৃঢ় হয়েছে। সন্তানকে নিয়ে নতুন ভাবনা, নতুন উদ্দীপনা আর স্বপ্নের নতুন য়াত্রাও শুরু হয়েছে। সব শ্রম, সব প্রত্যাশার সফলতাই তো নতুন বছরের সূচনাই নতুন স্বপ্ন বোনার সূত্রপাত হল। যে অল্প সংখ্যক শিক্ষার্থীরা এবার ব্যর্থ হল নিশ্চয় তারা আগামীতে ভালর জন্য প্রস্তুতি নিবে, অভিভাবকরা ওই শিশুদের উৎসাহ- উদ্দীপনা জাগাবে।
উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। একই সাথে শুভেচ্ছা অভিভাবক এবং পরীক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ