জেল-জরিমানা দিয়েও ঠেকানো যাচ্ছে না টিকিট কালোবাজারীদের

আপডেট: জুলাই ৪, ২০১৮, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

দিনাজপুর প্রতিনিধি


দিনাজপুর রেলওয়ের আন্তঃনগর দুটি ট্রেনের টিকিটের চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ার কারণে যাত্রীদের মাঝে টিকিট নিয়ে চলছে হাহাকার। এ কারণে দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশনের কর্মকর্তা কর্মচারিদের পড়তে হচ্ছে নানা রকম বিড়ম্বনায়। চাহিদা থাকায় জেল জরিমানা দিয়েও ঠেকানো যাচ্ছেনা টিকিট কালোবাজারিদের।
অথচ রেল কর্তৃপক্ষ একটু দৃর্ষ্টি দিলে দিনাজপুর দুটি ট্রেনে আরো ছয়টি করে বগি সংযুক্ত করলে এই জেলার মানুষ আরো ২‘শ করে ৪‘শ টিকিট বেশী বরাদ্দ পেতে পারে। এতে করে অনেকাংশে যাত্রীদের চাহিদা মেটানো সম্ভব।
দিনাজপুর থেকে ঢাকা গামী দুটি আন্তঃনগন ট্রেন ছেড়ে যায়। ট্রেন দুটি হচ্ছে একতা ও দ্রুতযান। একেকটি ট্রেনে আসন রয়েছে ৮শ ৬০ টি করে। দিনাজপুর স্টেশনের জন্য বরাদ্দ একতায় ২শ ৩৯ টি ও দ্রুতযানে ২শ ৩৯ টি। এর মধ্যে শোভন চেয়ার ১শ ৭০ টি, এসি বাথ ১২ টি নন এসি বাথ ১২ টি ও ¯িœগ্ধা ৪৫ টি। কিন্তু দিনাজপুরে এর চাহিদা দ্বিগুনের চেয়েও অনেক বেশী। প্রতিদিন শত শত যাত্রী টিকিট নিতে এসে টিকিট না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে।
নিয়ম অনুয়ায়ী বরাদ্দ কৃত টিকিটের মধ্যে ২৫ শতাংশ টিকিট এসএমএসের মাধ্যমে বিক্রির জন্য ১০ দিন আগে অন লাইনে ছেড়ে দিতে হয়। বাকী টিকিট কাউন্টারে বিক্রি হয়ে থাকে। এর মধ্যে যে টিকিট গুলো থাকে তা অনলাইনে শতভাগ ছেড়ে দিতে হয়। ফলে কিছু মুনাফা লোভী মোবাইল কোম্পানীর এজেন্ট টিকিটগুলো কেটে নিয়ে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করে। এর অপবাদ নিতে হয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রানের জন্য জেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় ৮ জন টিকিট কালো বাজারিকে একাধীক বার জেল দিয়ে ও জরিমানা করেও তাদের রোধ করা যায়নি। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে রেলওয়ে বুক স্টল।
রেলওয়ের একটি সুত্রে জানা যায়, দিনাজপুর থেকে যে দুটি আন্তঃনগর ট্রেন ঢাকার উদ্দ্যেশে ছেড়ে যায়সে ট্রেন দুটিতে যদি আরো ছয়টি করে বগি যুক্ত করা হয় তাহলে জেলার মানুষ আরো ২ শ করে ৪ শ টিকিট বেশী বরাদ্দ পেতে পারে। একটি বগিতে যাত্রীদের জন্য আসন রয়েছে ৯২ টি করে। সে হিসাব অনুযায়ী ছয়টি বগিতে আসন হবে ৫শ ৫২ টি করে। অর্থাৎ দুটি ট্রেনে আসন বাড়বে ১হাজার ১শ ৪ টি। আর সেখান থেকে রেসিও অনুয়ায়ী দিনাজপুরে দুটি ট্রেনে বরাদ্দ পাওয়া যাবে কম পক্ষে ২ শ করে ৪ শটি আসন।
এ বিষয়ে দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষ ডিভিশনাল ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট লালমনিরহাট বরাবরে আবেদন করেছেন। আবেদনটি বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ডিভিশনাল ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট লালমনিরহাট শওকত জামিলের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি আবেদনটি পাওয়ার বিষয় নিশ্চিত করে জানান, আবেদনটি বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ