বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

জোড়া লাগা শিশুদের বাঁচাতে সাহায্যের আবেদন

আপডেট: December 7, 2019, 1:35 am

বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি


বড়াইগ্রামে জোড়া লাগা দুই শিশু আছিয়া ও আসমা-সোনার দেশ

সামান্য আর্থিক সহায়তায় কোনমত বেঁচে আছে নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়া পৌরসভার আটুয়া এলাকায় জন্ম নেয়া বিশেষাকৃতির জোড়া লাগা শিশুদ্বয়। গত সোমবার শ্রমজীবী তাজেল হোসেন (৩৫) ও আদুরী বেগম (৩২) দম্পতিার ঘরে জন্ম নেয় ওই কন্যা শিশু দুইটি।
স্থানীয় কাউন্সিলর দুলাল হোসেন জানান, শিশু দুইটির জন্ম হওয়ার পর দেখা যায় একজনের পেছনে অন্যজনের কোমড়ে জোড়া লেগে আছে। মুখ ও হাত-পা দু’জনের পৃথক থাকলেও মলদার একটি। স্থানীয় প্রশিক্ষিত ধাত্রী রেজিয়া বেগম গৃহবধূ আদরীর ডেলিভারী করান।
জন্মের পর খবর পেয়ে বনপাড়া পৌর মেয়র কেএম জাকির হোসেন আর্থিক সহায়তা দিয়ে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখান থেকে চিকিৎসকদের পরামর্শে বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপতালে ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ২৬ নম্বর বেডে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে নাটোরের জেলা প্রশাসক শাহরিয়াজ ও বড়াইগ্রামের ইউএনও আনোয়ার পারভেজ কিছু আর্থিক সহায়তা করেন। তাই দিয়ে ঢাকায় যাওয়া ও প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যয় বহন করা হয়।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে শিশুটি বাবা তাজেল হোসেন ও তাদের সঙ্গে থাকা স্থানীয় কাউন্সিলর দুলাল হোসেন মোবাইল ফোনে জানান, তিনদিনের চিকিৎসায় শিশু দুটি মোটামুটি ভাল আছে। তার মা আদরী বেগম এখন সুস্থ। এখন চিকিৎসা ব্যয় এবং থাকা খাওয়ার ব্যয় বহন করার কোন টাকা অবশিষ্ট নাই তাদের হাতে। এ অবস্থায় শিশুদের বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্যদের সাহায্য কামনা করেছেন শিশুদের বাবা তাজেল হোসেন।
শিশু দুইটির মা আদরী বেগম বলেন, অনেক কষ্টের পরে মা হয়েছি। তাদের নামও রেখেছি আছিয়া ও আসমা। এখন তাদেরকে চিকিৎসার মাধ্যমে পৃথক করতে পারলে সুস্থ ভাবে বাঁচতে পারতো। কিন্তু আমরা গরিব মানুষ এই চিকিৎসা ব্যয় কিভাবে বহন করবো।
কাউন্সিলর দুলাল হোসেন বলেন, চিকিৎসকরা ভাল চিকিৎসা দিচ্ছেন তবে সব কিছু সরকারি ভাবে হচ্ছে না। কিছু পরীক্ষা-নিরিক্ষা ও ওষুধপত্র বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। যার জন্য টাকার প্রয়োজন।
ইউএনও আনোয়ার পারভেজ বলেন, হৃদয়বানদের সহযোগিতা পেলে দরিদ্র বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেয়া শিশু দুইটি বেঁচে থাকতে পারবে। তা না হলে তার বাবা-মায়ের পক্ষে শিশুদুইটকে বাঁচিয়ে রাখা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
বনপাড়া পৌর মেয়র কেএম জাকির হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত দয়ালু মানুষ। বিষয়টি তার নজরে এলে তবেই শিশুদুইটির ভবিষ্যৎ বাঁচার স্বপ্ন পূরণ হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ