জ্বর নিয়ে কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুই হলো আল আমিনের

আপডেট: March 29, 2020, 6:52 pm

নওগাঁ প্রতিনিধি


নওগাঁর রাণীনগরে ঢাকা থেকে আসা আল আমিন (২২) নামের এক যুবক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে বাড়িতে উঠতে দেয়নি গ্রামবাসী। আল আমিনকে ৩টি হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান না করে করোনা সন্দেহে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার (২৮ মার্চ) দিবাগত রাতে আল আমিনের মৃত্যু হয়।
আল আমিন রাণীনগর উপজেলার কালীগ্রাম ইউনিয়নের অলংকার দীঘি গ্রামের মকলেছুর রহমানের ছেলে। আল আমিনের মৃতদেহ গ্রামে নিয়ে আসলে গ্রামের কোনো লোকজন করোনা ভাইরাস সন্দেহে তার মৃতদেহের কাছে যাচ্ছে না। কিন্তু আল আমিন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কি না সেই পরীক্ষা কোনো হাসপাতালের চিকিৎসকরা করে নি কিংবা কোনো নমুনাও সংগ্রহ করেন নি।
আল আমিনের বাবা মকলেছুর রহমান মুঠোফোনে জানান, আল আমিন দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় একটি কাপড়ের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতো। গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে আল আমিন গায়ে প্রচণ্ড জ্বর আর কাশি নিয়ে খুব অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা থেকে নওগাঁতে এসে পৌছে। এরপর শনিবার সকালে বাড়িতে আসার সময় সে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে সন্দেহে স্থানীয় মেম্বার ও গ্রামের কতিপয় লোকজন তাকে গ্রামে উঠতে দেয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে সকালেই এলাকার ভেটি স্ট্যান্ড থেকে চিকিৎসার জন্য আদমদীঘি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার কোনো চিকিৎসা না করেই ফিরিয়ে দেয় সেখানকার চিকিৎসকরা। এরপর আবারও ছেলেকে নিয়ে ভেটি কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়ে আসি। সেখানে চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা না করেই বারান্দায় আল আমিনকে মুমূর্ষ অবস্থায় রাখা হয়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে পরে তার সহযোগিতায় চিকিৎসার জন্য প্রথমে রাণীনগর হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। সেখানে করোনা ভাইরাস সন্দেহে চিকিৎসকরা হাতে কাগজ ধরিয়ে দিয়ে নওগাঁ সদর আধুনিক হাসপাতালে পাঠায়। নওগাঁ হাসপাতালে পৌঁছার পর সেখানেও আল আমিনকে ভালো ভাবে না দেখে কোনো চিকিৎসা না দিয়েই রাজশাহী নিয়ে যান বলে হাতে একটি কাগজ ধরিয়ে দেয়। এরপর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেও কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই কিছু ওষুধ ও ইনজেকশন লিখে দিয়ে চলে যান চিকিৎসকরা। সেগুলো দিয়েও আমার ছেলের শরীরের জ্বর কোনোভাবেই কমে না। এরপর কোনো চিকিৎসক আমার ছেলের আশেপাশে আর আসে নাই। অবশেষে আমার ছেলে করোনা ভাইরাস সন্দেহে মারা গেলো।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোফাজ্জল হোসেন বাচ্চু বলেন, ছেলেটা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এমন খবর পাওয়ার পর তার পরিবারকে বলেছি চিকিৎসকের প্রতিবেদন নিয়ে গ্রামে আসতে। যদি চিকিৎসকরা বলেন আল আমিন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত নয়- তাহলে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। আর যদি সে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকে তাহলে চিকিৎসা করান। গ্রামে আসার দরকার নেই। গ্রামবাসী ও আশেপাশের মানুষের কথা ভেবেই আল আমিনকে গ্রামে প্রবেশ করতে দেয়া হয় নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কেএইচএম ইফতেখারুল আলম খাঁন (অংকুর) বলেন, আল আমিনের শরীরে ১শ ডিগ্রি সেলসিয়াস জ্বর ছিলো। তাকে যখন আমরা হাসপাতালে পাই তখন সে অচেতন অবস্থায় ছিলো। যেহেতু তার অবস্থা খুবই খারাপ ছিলো সেহেতু আমরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নওগাঁ সদর আধুনিক হাসপাতালে প্রেরণ করেছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল মামুন বলেন, আল আমিন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়নি। তিনি মেনিনজাইটিস রোগে মারা গেছে বলে জানা গেছে। করোনা ভাইরাসে মারা যায়নি বলে ডাক্তার ছাড়পত্র তা নিশ্চিত দিয়েছে। যেহেতু মেনিনজাইটিস রোগে মারা গেছে এতে লাশের দাফন কাফনে কোনো সমস্যা নাই বলে তিনি জানান।
নওগাঁ সিভিল সার্জন ডা. আ. ম. আখতারুজ্জামান বলেন, যেহেতু নওগাঁ সদর আধুনিক হাসপাতালে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই সেহেতু আমরা তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ