জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ হবে ৩০ বিলিয়ন ডলার

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৭, ১:০৭ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


শিল্প ও গ্রাহক পর্যায়ে নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে আগামী ৫-৬ বছরে জ্বালানি খাতে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। একই সঙ্গে খুব শিগগিরই উদ্যোক্তাদের এলএনজি (তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) দিতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
গত বুধবার রাজধানীর চেম্বার বিল্ডিংয়ে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এমসিসিআইয়ের সভাপতি নিহাদ কবিরের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি তপন চৌধুরী, সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, সাবেক সহসভাপতি আনিস এ খান এবং ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম।
তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে উদ্যোক্তাদের এলএনজি (তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) দিতে পারব। এলএনজির দামও সাধ্যের মধ্যেই থাকবে। দাম নিয়ে উদ্যোক্তাদের সাথে আমরা কথা বলছি।
তিনি বলেন, ক্যাপটিভ জেনারেটরের মাধ্যমে যারা শিল্প কারখানায় বিদ্যুতের চাহিদা মেটান তাদের জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বাড়াতে হবে। এজন্য প্রযুক্তির উন্নয়ন করতে হবে। এটা করা সম্ভব হলে অনেক জ্বালানি সাশ্রয় হবে। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলেও বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
বিদ্যুৎ খাতে প্রধানমন্ত্রীর নানা অবদানের কথা উল্লেখ করে ড. তৌফিক ইলাহী বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা কয়েগুণ বাড়ানো হয়েছে। সোলার এনার্জিতেও আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে।
আগামী বছর প্রায় ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হবে জানিয়েছেন তৌফিক ইলাহী বলেন, তবে শিল্প খাতের প্রত্যাশিত উন্নয়নের জন্য জ্বালানি খাতে আমাদের আরও এগোতে হবে। এজন্যই এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে।
সভায় তপন চৌধুরী বলেন, এলএনজি গ্যাসের টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু উদ্যোক্তারা আসলে কবে থেকে এ গ্যাস পাবেন, এর দাম কেমন হবে এটা জানা দরকার। এলএনজির দাম স্থিতিশীল থাকবে কি না, এ বিষয়েও উদ্যোক্তাদের স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। নইলে এগুলোর ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না।
আসিফ ইব্রাহিম বলেন, এলএনজির দাম নিয়ে সরকারের নীতিমালা কী? অন্তত কয়েক বছরের জন্য এর দাম কেমন হবে তা স্পষ্ট করা উচিত। এ প্রসঙ্গে ড. তৌফিক ইলাহী বলেন, মধ্য মেয়াদে এলএনজির দাম সাধ্যের মধ্যেই থাকবে। পাশাপাশি এলএনজির দাম স্থিতিশীলও থাকবে।
সভাপতির বক্তব্যে নিহাদ কবির বলেন, ২০০৯ সালেও বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ছিল তিন হাজার ২৬৮ মেগাওয়াট। এখন সেটি ১৫ হাজার ৩৭৯ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। এরপরও শিল্পে মানসম্মত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। আধুনিক যন্ত্রপাতি এ বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করে চালানো যায় না। ফলে শিল্প উদ্যোক্তাদেরকে ক্যাপটিভ জেনারেটরের বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে খরচ বেড়ে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছি আমরা। জাগো নিউজ