টাকা আছে, মশক নিধনে কার্যক্রম নেই

আপডেট: মার্চ ১৪, ২০১৮, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


ভেঙে পড়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রম। এর ফলে ঘরে-বাইরে, অফিস-আদালতে-সবখানে মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ নগরবাসী। অথচ চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে চার কোটি টাকা বাজেটের মাত্র ১৬ লাখ টাকা খরচ করেছে সিটি করপোরেশন। অবশিষ্ট টাকা খরচ না করায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জনমনে। তাদের প্রশ্ন, এত টাকা বাজেট থাকা সত্ত্বেও কেন মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ হতে হচ্ছে নগরবাসীকে।
তবে সিটি করপোরেশন থেকে বলা হচ্ছে, আমের মুকুল ও ধান গাছের কথা ভেবে তারা উড়ন্ত মশা নিধনে কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করেননি। শুধুমাত্র মশার লার্ভা নিধনে ড্রেনে, নর্দমায় কেরোসিন ও ডিজেলের স্প্রে করা হচ্ছে।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী সিটি করপোরেশনে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মশক নিধনে বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে চার কোটি টাকা। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের নয় মাসে মশক নিধনে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪০ লাখ টাকা। অথচ এর মধ্যে খরচ হয়েছে মাত্র ১৬ লাখ টাকা। অথচ গত ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে মশক নিধনে খরচ হয়েছিলো ৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এবছর বরাদ্দকৃত অর্থের মাধ্যমে শুধুমাত্র মশার লার্ভা সাইট নিধনে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এই কার্যক্রমে রয়েছে নগরীর ড্রেনগুলোকে ওয়ার্ড পর্যায়ে ভাগ করে ওয়ার্ড কাউন্সিলরের তত্ত্বাবধানে কেরোসিন ও ডিজেল ছিটানো। এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে সিটি করপোরেশনের কর্মচীরারা। অথচ জ্বালানির স্বল্পতার কারণে প্রতিদিন করা হয় না। নামমাত্র ছিটানো হয় কেরোসিন ও ডিজেল।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মশক পরিদর্শক মো. সানাউল্লাহ জানান, সিটি করপোরেশন থেকে মশার প্রজননকে ধ্বংস করার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিয়ে লার্ভা নিধন কার্যক্রম পরিচালিত করছে। এইজন্য ড্রেন ও নর্দমায় কেরোসিন ও ডিজেল মিশিয়ে স্প্রে করা হচ্ছে। যাতে মশার বংশবৃদ্ধি না ঘটে। এর বাইরে মশক নিধনে কোনো কার্যক্রম নেই সিটি করপোরেশনে।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, উড়ন্ত মশা নিধনে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত করছে না সিটি করপোরেশন। ফলে এই খাতে বরাদ্দ কোনো অর্থই খরচ করতে হয়নি সিটি করপোরেশনকে। সর্বশেষ গত বছরের মে মাসে উড়ন্ত মশা নিধনে এই ফগার স্প্রে মেশিন ব্যবহার করা হয়। সেই ফগার স্প্রে মেশিনও চালানো হয়েছে গত অর্থ বছরের বরাদ্দকৃত বাজেটের টাকা দিয়ে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৯ সালে সিটি করপোরেশনে ফগার স্প্রে মেশিন ছিলো ১৫টি। তা নষ্ট হতে হতে এখন এসে দাঁড়িয়েছে ছয়টিতে। সেগুলোও বহুল ব্যবহারে জীর্ণ। তাই পড়ে রয়েছে গুদামঘরে। আর জ্বালানি না থাকায় সেই ছয়টিও ব্যবহার করতে পারছে না সিটি করপোরেশন।
জ্বালানি না থাকার জন্য ফগার স্প্রে মেশিন ব্যবহার করতে না পারলেও মেয়র বলছেন পরিবেশের বিপর্যয়ের কথা ভেবে ফগার স্প্রে মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে না। অথচ চলতি বছরে মশা মারতে ফগার স্প্রে মেশিনের জন্য জ্বালানি বাবদ নতুনভাবে আবার দেড় কোটি টাকার দরপত্র বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
সিটি করপোরেশনের মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল জানান, এবছর রাজশাহীতে প্রচুর আমের মুকুল হয়েছে। এছাড়া ধানে বীজ আসছে। তাই ফসলের কথা ভেবে ফগার স্প্রে মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে না।
তবে মেয়রের দাবি মশা নিধনে নতুনভাবে আবার ১৪ দিনের প্রকল্প নেয়া হয়েছে। তার বিশ্বাস আগামি ১৫ দিনের মধ্যে মশা নিয়ন্ত্রণে আসবে। মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল জানান, মশক নিধনে নগরীর ওয়ার্ড পর্যায়ের সমস্ত ড্রেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, জনগণকে সচেতন করা, লিফলেট বিলিসহ মশার প্রজনন নির্মূলে ড্রেনগুলোতে ওষুধ ছিটানোসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এইজন্য নতুনভাবে আবার ১৪ দিনের প্রকল্প নেয়া হয়েছে। ড্রেনে আগের চেয়ে বেশি করে ওষুধ ছিটানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামি ২০ দিনের মধ্যে সিটি করপোরেশন এলাকায় মশক নিয়ন্ত্রণে আসবে।
ফগার স্প্রে কতটা ক্ষতিকর আম ও ধানের জন্যএমন প্রশ্নের উত্তরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলম জানান, মশার মারার জন্য ধোয়ার ব্যবহারের সাথে আমের মুকুল ও ধানের কোনো সম্পর্ক নাই। বরং উপকারই আছে। এতে কীটপতঙ্গ মারা পড়ে। ফসলের জন্য উপকার হয়। আর মুকুলের পরাগায়নের সাথেও ধোয়ার কোনো সম্পর্ক নাই। পরাগায়ন কীটপতঙ্গ ছাড়াই হতে পারে। আর গাছ পাতার সাহায্যে অক্সিজেন নেই। ফলে দূষিত বিষয় থাকলেও গাছের অক্সিজেন পেতে কোনো সমস্যা হয়না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ