টেলিকম ও প্রযুক্তি || ইউটিউবে আয়ের শীর্ষে সাত বছর বয়সী শিশু

আপডেট: ডিসেম্বর ৬, ২০১৮, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


২০১৮ সালে ইউটিউব থেকে শীর্ষ আয়কারী তারকার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে মার্কিন ব্যবসায়িক সাময়িকী ফোর্বস। এ তালিকায় শীর্ষে আছে রায়ান নামের সাত বছর বয়সী এক শিশু, যার আয়ের পরিমাণ ২ কোটি ২০ লাখ ডলার।
প্রথম শ্রেণীপড়ুয়া শিশুদের থেকে রায়ান খুব একটা আলাদা নয়। সে ট্রেন ও কার পছন্দ করে। ডিজনির চরিত্রদের নিয়ে সে মুখ চেপে হাসে। লেগো দিয়ে সে পুরো একটি সভ্যতা বানিয়ে ফেলে। তবে বাকিদের সঙ্গে তার পার্থক্য হলো, সে এসব কর্মকা- করে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে। তার এসব কর্মকা-ের ভিডিও পরে ‘রায়ান টয়সরিভিউ’ নামের ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করা হয়। ২০১৫ সালের মার্চে রায়ানের মা-বাবাই এ চ্যানেলটি খুলে দেন। এ পর্যন্ত চ্যানেলটির ভিডিও প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি বার দেখা হয়েছে। এ চ্যানেলের বর্তমান ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৭৩ লাখ। এদের বেশির ভাগই প্রাথমিক বিদ্যালয়গামী।
রায়ানস ফ্যামিলি রিভিউ নামে এই ইউটিউব তারকার পরিবার নিয়ে আরেকটি চ্যানেল আছে। নিজের জনপ্রিয়তা সম্পর্কে এনবিসির এক প্রশ্নের জবাবে রায়ান জানায়, আমি বিনোদন দিই এবং আমি হাস্যকর।
২০১৭ সালে ইউটিউব থেকে শীর্ষ আয়কারী তারকার তালিকায় রায়ানের অবস্থান ছিল অষ্টমে। এর মানে এক বছরের ব্যবধানে সে সাত ধাপ এগিয়েছে। এ সময়ে তার আয়ও দ্বিগুণ হয়েছে।
রায়ানের আয়ের বড় অংশই এসেছে রায়ান টয়সরিভিউ ও রায়ানস ফ্যামিলি রিভিউর ভিডিও শুরুর আগে প্রদর্শিত বিজ্ঞাপন থেকে। ইউটিউবের এ ধরনের বিজ্ঞাপনযুক্ত ভিডিও যত বেশিবার দেখা হয়, চ্যানেল মালিকের আয় তত বাড়ে। রায়ানের আয়ের মধ্যে মাত্র ১০ লাখ ডলার এসেছে স্পন্সরড পোস্ট থেকে। ফোর্বসের তালিকার বাকি শীর্ষ ইউটিউবারদের তুলনায় তা খুবই কম।
তবে পর্দার বাইরেও রায়ানের আয় বাড়ছে। গত বছর সে পকেটডটওয়াচের সঙ্গে চুক্তি করে। গত অক্টোবরে জানানো হয়, তার চ্যানেলের কনটেন্ট হুলু ও অ্যামাজনে প্রচারও করা হবে। গত আগস্টে রায়ানস ওয়ার্ল্ড নামের বিশেষ ধরনের খেলনা ও পোশাক বিক্রি শুরু করে ওয়ালমার্ট। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে রায়ান ওয়ালমার্ট স্টোরে নিজের খেলনা খোঁজ করছে। তিন মাসের মধ্যে এ ভিডিও ১ কোটি ৪০ লাখ বার দেখা হয়েছে। ওয়ালমার্টের চুক্তির সুবাদে আগামী বছর রায়ানের সামগ্রিক আয়ও বেড়ে যাবে।
রায়ান এখনো শিশু হওয়ায় তার আয়ের ১৫ শতাংশ একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করা হচ্ছে। আইনগতভাবে প্রাপ্তবয়স্ক হলে ওই অ্যাকাউন্টের অর্থ সে ব্যবহার করতে পারবে।