টেলিকম ও প্রযুক্তি

আপডেট: জুন ২৮, ২০১৮, ১:০০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


চীনভিত্তিক হুয়াওয়ে পরবর্তী প্রজন্মের মোবাইল প্রযুক্তি উন্নয়নের জন্য কানাডাকে প্রধান গবেষণা কেন্দ্রে পরিণত করেছে। টেলিকম সরঞ্জাম ও ডিভাইস নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির এমন উদ্যোগকে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করছে ওয়াশিংটন। মার্কিন ইন্টেলিজেন্স কমিটির জ্যেষ্ঠ আইন প্রণেতারা এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে জাস্টিন ট্রুডো প্রশাসনকে সতর্ক করেছেন। খবর দ্য গ্লোব অ্যান্ড মেইল।
হুয়াওয়ের পণ্যের নিরাপত্তা বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির আইন প্রণেতাদের দাবি, চীন সরকারকে বিভিন্ন দেশে গুপ্তচরবৃত্তিতে সহায়তা করছে এ প্রতিষ্ঠান। মোবাইল ডিভাইসসহ নিজেদের অন্য পণ্যের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের তথ্য হাতিয়ে নিয়ে তা চীন সরকারকে সরবরাহ করছে প্রতিষ্ঠানটি। মার্কিন একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা এরই মধ্যে দেশটির নাগরিকদের হুয়াওয়ের পণ্য ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছে।
রিপাবলিকান সিনেটর টম কটন এবং ডেমোক্রেটিক সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার বলেন, চীনা টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওয়ের পণ্যে বড় ধরনের নিরাপত্তা ত্রুটি রয়েছে, যা কাজে লাগাচ্ছে চীন সরকার। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির তৈরি স্মার্টফোন কিংবা অন্যান্য টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম কানাডা বা এর পশ্চিমা মিত্রদের ব্যবহার করা উচিত নয়।
চীনা টেকনোলজি কংগ্লোমারেট হুয়াওয়ে পরবর্তী প্রজন্মের নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি ফাইভজি সেবা নিয়ে গবেষণা ও উন্নয়নে নেতৃত্ব দিচ্ছে। মোবাইল ডিভাইস, বিশেষ করে স্মার্টফোনে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতি আনার প্রত্যাশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এ নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি চালকবিহীন গাড়ি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রিপাবলিকান সিনেটর টম কটনের এক মুখপাত্র বলেন, মার্কিন প্রশাসন হুয়াওয়ের পণ্যের নিরাপত্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কার্যালয়গুলোতে হুয়াওয়ের পণ্য ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষেত্রে কাজ করেছেন এ কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির পরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল পল নাকাসনের পক্ষ থেকে তাকে একটি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যেখানে কানাডা এবং ‘ফাইভ আইস’ নামে পরিচিত ইন্টেলিজেন্স-শেয়ারিং কমিউনিটির সঙ্গে তাকে যুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং কমিটির সদস্য দেশগুলোর নেটওয়ার্কে হুয়াওয়ের টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম ব্যবহার থেকে দূরে থাকতে পরামর্শ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। ফাইভ আইস হলো অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ইন্টেলিজেন্স-শেয়ারিং নেটওয়ার্ক।
বিশ্বব্যাপী পঞ্চম প্রজন্মের নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি ফাইভজির বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরুতে নেতৃত্ব দিতে চায় হুয়াওয়ে। সে অনুযায়ী গবেষণা ও উন্নয়নে জোর দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে টেলিকম খাতের গুরুত্বপূর্ণ দুই বাজার যুক্তরাষ্ট্র এবং অস্ট্রেলিয়ায় যে কোনো সময় প্রতিষ্ঠানটির ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। সম্প্রতি চীনা ডিভাইস ও টেলিকম সরঞ্জাম নির্মাতা জেডটিইর ওপর সাত বছরের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে প্রধান ব্যবসা কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি। তবে জরিমানা পরিশোধ এবং ভবিষ্যতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরান ও উত্তর কোরিয়ায় পণ্য সরবরাহ করবে না এমন শর্তে প্রতিষ্ঠানটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আশ্বাস দেয় মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ। এ নিয়ে ওয়াশিংটন-বেইজিংয়ের মধ্যে একটি চুক্তিও হয়েছে। জেডটিইর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর পরই হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে তদন্তে নামার ঘোষণা দিয়েছিল মার্কিন বিচার বিভাগ। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে হুয়াওয়ের ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্যোগ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
গ্লোব অ্যান্ড মেইলের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়, সরকার এবং ফোন কোম্পানিগুলো আল্ট্রাফাস্ট ওয়্যারলেস প্রযুক্তি উন্নয়নে হুয়াওয়েকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে। ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টির জন্য কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সমৃদ্ধ বিবেচনা করা হয়। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অংশীদারিত্ব ফাইভজি গবেষণায় বিশ্বের অন্য যেকোনো টেলিকম নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম নির্মাতার থেকে হুয়াওয়েকে এগিয়ে রাখতে সহায়তা করছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান এবং কানাডার গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক তিন প্রধান হুয়াওয়ের পণ্যের নিরাপত্তা বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বিশ্বের অন্যতম সাইবার ইন্টেলিজেন্স হুমকি আখ্যায়িত করার পাশাপাশি হুয়াওয়ের ফাইভজি প্রযুক্তি ব্যবহার করায় স্বয়ংক্রিয় গুপ্তচরবৃত্তির শিকারে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানানো হয়। যদিও চীনা প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করা হচ্ছে। তথ্রসূত্র: বণিক বার্তা