ট্রেনের ছাদে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই বন্ধ করতে হবে

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২, ২০১৯, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ

১ সেপ্টেম্বর থেকে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ট্রেনের ছাদে যাতে কেউ ভ্রমণ না করে সেজন্য গত কয়েকদিন ধরে পশ্চিমাঞ্চলের ১৬৬টি রেলস্টেশনেই ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। প্রতিটি স্টেশনে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে, মাইকিং করা হয়েছে, ট্রেনের পাবলিক অ্যাডড্রেস সিস্টেমে ছাদে ভ্রমণ না করার বিষয়ে বলা হয়েছে, স্টেশনের টিভি মনিটরে যাত্রীদের সতর্ক করে ছাদে ভ্রমণ না করার বিষয়ে স্ক্রলে দেয়া হচ্ছে। প্রচার-প্রচারণার বাইরে পশ্চিমাঞ্চল রেলের ১২টি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে গঠিত ১৫টি টাস্কফোর্সের মাধ্যমে বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সেনার রেদশ পত্রিকায় প্রধান শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে।
কোনো ব্যক্তি এর ব্যত্যয় ঘটালে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। ১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইনের ১২৯ নং ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি বিপজ্জনক বা বেপরোয়া কার্যের দ্বারা অথবা অবহেলা করে কোনো যাত্রীর জীবন বিপন্ন করে, তবে তার এক বছর পর্যন্ত কারাদ- অথবা জরিমানা কিংবা উভয় দ- হতে পারে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ যে তারা জনগুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন।
ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু তাই বলে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ বন্ধ থাকে না। ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ এ দেশে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি বদঅভ্যেস। ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে হতাহতের সংখ্যা নেহাতই কম নয়। প্রায়ই দুর্ঘটনার খবর সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। গাছের ডালে, ওভার ব্রিজ কিংবা ওভার হেড ব্রিজের সাথে সাথে ধাক্কা লেগে ট্রেনের ছাদের যাত্রীদের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়, কেউ বা চিরতরে পঙ্গু হয়ে যায়। তদুপরি ট্র্রেনের ছাদে ভ্রমণ বন্ধ হয় নি। আইন থাকলে তা প্রতিপালিত হয় নি। যুগ যুগ ধরে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণকে স্বাভাবিকভাবেই দেখা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেয়া হয় নি। এই প্রথম হাঁক-ডাক দিয়েই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের ওপর কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। বিলম্বে হলেও এই সিদ্ধান্ত প্রশংসনীয়।
ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের প্রবণতা দীর্ঘদিনের। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে এই প্রবণতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। কেননা জনসংখ্যার অনুপাতে ট্রেন সার্ভিসের পরিধি সেই অর্থে বাড়েনি। এক সময় ট্রেনের ছাদে হতদরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষেরা বেশি ভ্রমণ করতো। এখন কিন্তু কমবেশি সব শ্রেণির মানুষ ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করে থাকে। বিশেষ করে ঈদ উৎসবের সময় ঈদের আগে ও পরে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ অতি বিপজ্জনকভাবে লক্ষ্য করা যায়। পুরো ট্রেনটাকেই যাত্রীরা যেন মৌমাছির মত লেপটে থাকে। এরফলে ট্রেনের স্বাভাবিক গতিতে চলারও সুযোগ থাকে না। অবধারিতভাবে শিডিউল বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ট্রেন চলাচল। সে ক্ষেত্রে যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে উঠে।
ট্রেনের এক শ্রেণির অসাধু কর্মচারী ও নিরাপত্তা কর্মী ট্রেনের ছাদে ভ্রমণকে উৎসাহিত করেন অর্থের বিনিময়ে। এসব কমচারীদের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষোর সতর্ক- পর্যবেক্ষণ থাকা দরকার। আর এই ব্যবস্থাটা যাতে কিছু সময়ের জন্য যাতে না হয়Ñ অব্যাহতভাবেই ব্যবস্থাটা সক্রিয় রাখতে হবে। এর জন্য লোকবল বাড়াতে হলে সেটাও করতে বে। কেননা সবার আগে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ