ডিজিটাল মেলায় ভিড় শিক্ষার্থীদের

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৮, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ

তারেক মাহমুদ


উদ্ভাবনী ডিজিটাল মেলায় একটি প্যাভিলিয়ানে শিক্ষার্থীরা-সোনার দেশ

রাজশাহী কলেজে চলমান তিন দিনব্যাপি ডিজিটাল মেলায় ভিড় বাড়ছে নানা বয়সি মানুষদের। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে অভিভাবকরাও মেলায় আসছেন। আয়োজকরা বলছেন, তরুণদের ডিজিটাল বাংলাদেশের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে ও শিক্ষার্থীদের বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে আধুনিক বিশ্বের সাথে পরিচয় করে দিতে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এতে করে সরকারের ডিজিটাল মেলার যে লক্ষ্য তা পুরোটাই পূরণ হবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।
গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ মেলার উদ্বোধন করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। মেলায় সরকারি বেসরকারি সব মিলিয়ে ৭০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। অংশ নিয়ে তারা তাদের সেবা সম্পর্কে জানাচ্ছেন মেলায় আগত দর্শনার্থীদের। মেলায় এবারই প্রথম স্টলগুলোকে নির্দিষ্ট প্যাভিলিয়নে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্যাভিলিয়ান ১ এ থাকছে ই-সেবা। প্যাভিলিয়ান-২ এ থাকছে ডিজিটাল সেন্টার, পোস্ট ই-সেন্টার, ফিন্যান্সিয়াল ইকুপমেন্ট ও ব্যাংক সেন্টার। আর প্যাভিলিয়ান-৩ এ থাকছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। শিক্ষা প্যাভিলিয়ান ৪ও৫ এ থাকছে তরুণদের উদ্ভাবনী বিভিন্ন জিনিসপত্র।
ক্লাস শেষ করে মেলায় এসেছেন রাজশাহী কলেজের একাদশ শ্রেণির অনুপ চক্রবর্তী ও মেহেদী হাসান। তারা বলেন, কিছুদিন আগে বই মেলা শুরু হয়। আমরা সকল শিক্ষার্থীরা ক্লাস শেষ করে নতুন নতুন বইয়ের সাথে পরিচিত হয়েছি । নতুন নতুন বই কিনেছি ডিজিটাল মেলা শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন স্টলে ঘুরে দেখেছি, শিখতে পারছি অনেককিছু। মেলার সকল বিষয়গুলো দেখে বুঝে আগামী জীবনের জন্য অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে।
মেলায় রাজশাহী মহিলা টিটিসির স্টলে গিয়ে দেখা যায়, সোনিয়া আক্তার ও রিফাত আসফিয়া স্টলে আগত দশনার্থীদের উদ্ভাবনী বিষয়গুলো বুঝিয়ে দিচ্ছেন। তাদের উদ্ভাবিত অনেক আইটেম রয়েছে। তার মধ্যে আছে পানিতে ভাসমান শলার নৌকা। যা তাপমাত্রার মাধ্যমে চার্জ সংগ্রহ করে চলতে পারবে। সরকারি পিএন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্টলে রয়েছে দুইটি নতুন আবিষ্কৃত যন্ত্রÑওয়াটার প্ল্যান্ট এবং গ্যাস লাইনের সমস্যা সমাধান করার মেশিন।
৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া হক তাসনিম ও তাসনুবা তাসনিম বলেন, পানির সাহায্য বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে ওয়াটার প্ল্যান্ট তৈরি করা হয়েছে যা বিদ্যুতের অপচয় কমাতে সাহায্য করবে। হোসেনীগঞ্জ বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক আসিকুল ইসলাম এসেছেন ক্লাস ওয়ানে পড়া একমাত্র ছেলে তাসিন ইসলামকে নিয়ে। তাসিন ঘুরে দেখছেন ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষণের সব যন্ত্রপাতি। সিভিল ডিফেন্সের লিডার নূরনবী তাকে আগুন থেকে কীভাবে নিজেকে রক্ষা করা যায় তা শেখাচ্ছেন। তাসিন জানালো, মেলায় এসে আমার খুব ভালো লাগছে। আমি ওই স্টল থেকে জানতে পেরেছি, কোনো বিপদ হলে ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করে জানাতে। তাহলে তারা আমাকে সহযোগিতা করবে।
শিক্ষক আসিকুল ইসলাম জানান, বর্তমানে ডিজিটাল বাংলাদেশে বাচ্চাদের আধুনিক করে গড়ে তুলতে মেলায় নিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এতে করে শিশুরা নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে পারে। তাদের কৌতূহলপ্রবণতার উন্মেষ ঘটে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সালাউদ্দিন বলেন, মেলায় ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার যে নিরলস পরিশ্রম করছেন তা তুলে ধরাই উদ্দেশ্য। এতে করে যাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে চিন্তাভাবনার উন্মেষ ঘটে।