‘ডিজিটাল যুগের স্বাদ ভোট দেয়ার ক্ষেত্রেও পেলাম’

আপডেট: জুলাই ৩১, ২০১৮, ২:২৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


ভোট দিতে আসা উচ্ছ্বাসিত নারী ভোটার-সোনার দেশ

রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে ১৩৮ কেন্দ্রের মধ্যে দুইটি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট হয়েছে। রাসিক নির্বাচনে প্রথমবারের মতো এই পদ্ধতিতে ভোট নেয়া হয়েছে। তবে ইভিএম-এ ভোট দিতে তেমন কোনো সমস্যা হয়নি বলে জানিয়েছেন ভোটাররা। নগরীর বোয়ালিয়া থানা সংলগ্ন বিবি হিন্দু একাডেমির দুটি কেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হয়।।
রাজশাহী-১ আসনের (গোদাগাড়ী-তানোর) সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরীও এই কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, এক কথায় চমৎকার এবং সহজ ও দ্রুততার সাথে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে এই পদ্ধতিতে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
সামনে জাতীয় সাংসদ দেশের সব কেন্দ্রে এটা চালুর পক্ষে কিনা-জানতে চাইলে সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, নতুন পদ্ধতি বুঝতে অসুবিধা হবে অনেকের। তাই ধাপে ধাপে এই পদ্ধতি চালুর পরিমাণ বাড়াতে হবে।
ইভিএম-এ প্রথমবারের মতো ভোট দিয়েছেন নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তম কুমার রজব। তিনি জানান, “এই পদ্ধতিতে ভোট দিতে পেরে অনেক ভালো লাগলো। এটা অনেক সুন্দর একটা পদ্ধতি। আমরা কাছে মনে হয়েছে এটার মাধ্যমে ভোট দিতে পেরে অনেক সময় বাঁচা গেল। সিল ছাপ্পড়ের কোনো ঝামেলা নেই।”
একই ওয়ার্ডের ভোটার সুচিত্র সরকার বলেন, “এর আগে এমন দেখিনি! প্রথমে একটু নারভাস ছিলাম কিন্তু যারা ভেতরে রয়েছে তারা আগে একটু বলে দিয়েছিলো তাই তেমন সমস্যা হয়নি। সহজে অল্প সময় নিয়ে ভোট দিতে পারলাম অনেক ভালো লাগলো।”
শিক্ষক জবেদা খাতুন জানালেন, ভোট দিয়েও ডিজিটাল যুগের স্বাদ পেলাম। তবে এই পদ্ধতি সম্পর্কে সবাইকে আগে থেকে একটু শিখিয়ে দিলে বিষয়টা সহজ হবে। আইডিয়াটা আমি বুঝতে পেরেছি। কিন্তু প্রথম অবস্থায় সবার এটা বুঝতে কিছুটা সমস্যা হবে। তাই ভোটারদের ভোটের আগে একটু দেখিয়ে দিলে বিষয়টা অনেক সহজ হবে।”
শাহারিয়ার কবির জানান,“এটা খুব সহজ পদ্ধতি তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। আগে ভোট দিতে গেলে দেখতাম ব্যালট পেপার সিল মারতে হতো, এগুলো একটু ঝামেলা মনে হতো। কিন্তু এটা খুব সহজে অল্প সময় নিয়ে হয়েছে”।
পার্থ সারথী দাস বললেন, ইভিএম এর সাইজটা সুন্দর, কয়েকটি টিপ দিয়েছি তাতেই সুন্দরভাবে ভোট হয়ে গেছে। প্রথমে বুঝতে একটু সমস্যা হচ্ছিলো, তবে ভেতরের কর্তবরতারা বুঝিয়ে দেয়ার পরে আর সমস্যা হয়নি। এটা খুব সুন্দর পদ্ধতি। সময়টাও অনেক কম লেগেছে।
প্রথম ইভিএমে ভোট দেয়ার পর নারী ভোটার মৌলি ও পারুল পারভীন জানান, খুব সহজ মনে হয়েছে। আর বুঝতে না পারলে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসাররা সহযোগিতা করছে। আবার আগে গিয়ে আমাদের ভোট দেয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে লিফলেট প্রদান করেছেন।
পুরুষ ভোটার জয় প্রকাশ বলেন, এই পদ্ধতিতে ভোট দেয়ার আগে আশঙ্কা ছিল। কিন্তু বুঝিয়ে দেয়ার পর তা একেবারে সহজ মনে হয়েছে। আমি প্রথম এই পদ্ধতিতে ভোট দিতে পেরে খুবই আনন্দিত। কারণ সিল মারার প্রয়োজন পড়ছে না। আবার আমার ভোটটা অন্য কেউ দিতে পারবে না। ঠিকঠাকভাবে ব্যালট সিল মারতে না পরলে আগে যেমন নষ্ট হয়ে যেতো। এই পদ্ধতিতে তা হচ্ছে না।
পুরুষ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার অমিত কুমার প্রাং এবং নারী কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা আসলাম উদ্দিন জানান, আমরা ভোটের দুই দিন আগে এই কেন্দ্রে মগ ভোটিংয়ের (মহড়া) ব্যবস্থা করেছিলাম। যেখানে এই এলাকার ভোটাররা অন্য প্রতীকে ভোট দেয়ার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিল। ফলে তাদের কোনো সমস্যা হয়নি।