ডিসেম্বরেই রাজাকারদের তালিকা ওদের নাগরিকত্ব সীমিত হওয়া বাঞ্ছনীয়

আপডেট: নভেম্বর ১০, ২০১৯, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ

১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে রাজাকারদের তালিকা ঘোষণা করা হবে। বিসিএস এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্য বইয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারদের ভূমিকা নিয়ে লেখা সংযুক্ত করা হবে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক শুক্রবার গাজীপুর জেলা শহরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপ-কমিটি ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় উদ্বোধনী বক্তব্যে এ কথা বলেন। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশসহ দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে। রাজাকারদের তাণিকা প্রণয়ের বিষয়টি দেশের মুক্তিযোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক কর্মিরা অনেক আগে থেকেই করে আসছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। কিন্তু রাজাকাদের তালিকা করা কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। দেশে রাজনৈতিক নানা পালা বদলের কারণে সেটা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। পঁচাত্তরে মর্মান্তিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে একটা দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ পাকিস্তানি ভাবধারায় পরিচালিত হয়েছে। ওই সময়ে মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নিজ দেশে অপাংক্তেয় করে তোলা হয়। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা হয়, মুক্তিযুদ্ধের নায়কদের চরিত্র হনন করা হয় এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর পদ দিয়ে পুরষ্কৃত করা হয়। বিএনপির সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতায় স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে ভীষণ প্রভাব ও প্রতিপত্তিরূপে আবির্ভুত হয়। এবং দেশের মধ্যে নৈরাজ্যের সৃষ্টি করে। ফলে দেশ স্বাধীনের অনেক কর্তব্য-কাজ যেগুলো অনেক আগেই করার কথা ছিল, সেগুলো করা সম্ভব হয় নি। কিন্তু বর্তমানে মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায় সমাসীন আছে এবং পরিবেশও আগের তুলনায় বেশ অনুকুলÑ এখনই সম্ভব- রাজাকারদের একটা পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন করা।
এর প্রয়োজনীয়তা কতটুকু- তা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীই সেটা পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেন, পাঠ্যসূচিতে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা যেমন লেখা থাকবে, একইসঙ্গে একাত্তর সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের দোসর আলবদর আলসামস, জামায়াতে ইসলাম, রাজাকারদের কি ভূমিকা ছিল তাও পাঠ্যপুস্তকে লেখা থাকবে। বিসিএস পরীক্ষায় ২৩ বছরের মুক্তিসংগ্রামের উপর ৫০ নম্বর এবং মুক্তিযুদ্ধের উপর ৫০ নম্বর, মোট ১০০ নম্বর-২০২০ সাল থেকে প্রবর্তিত হবে।
রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ হলে দেশের মানুষের কাছে রাজাকার ও তাদের পরিবারের স্বরূপ উদঘাটিত হবে। সমাজের মানুষ তাদের সাথে তেমনই ব্যবহার করবে যা তাদের সাথে করা উচিৎ। অন্তত ওই রাজাকারকে ঘৃণা করা যাবে। আর তাদের পরিবারকেও সমাজের পর্যবেক্ষণ থাকবে যে তারা দেশবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত আছে কিনা। এখন যে মুখোশ পড়ে আছে রাজাকার ও তাদের পরিবার সেটা খুলে যাবেÑ দেশের মানুষ পরিষ্কার তাদের স্বরূপ বুঝতে পারবে।
রাজাকারদের তালিকা প্রকাশের পর সরকারের আরো কিছু দায় থেকে যাবে। তালিকাভুক্ত রাজাকার ও তাদের পরিবার দেশের পূর্ণাঙ্গ নাগরিকত্ব ভোগ করতে পারে কি না সেটাও ভেবে দেখতে হবে। একাত্তরে তারা যে মানবতাবিররোধী অপরাধ করেছে তার কোেেনা ক্ষমা হতে পারে না। অপরাধের দায় ওদের প্রাপ্য, সেটা নিশ্চিত করতেই হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ