ডেঙ্গু এক ভয়ঙ্কর আতঙ্কের নাম এই পরিস্থিতি যাতে আর না হয়

আপডেট: জুলাই ৩০, ২০১৯, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ

সারা দেশে ডেঙ্গু এখন সবচাইতে আলোচিত নাম। একই সাথে রাজধানী ঢাকায় ডেঙ্গুর ব্যাপক প্রাদুর্ভাব এবং দেশের অন্যান্য স্থানে ডেঙ্গু রোগী ছড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগ- উৎকণ্ঠারও সৃষ্টি করেছে। সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে- দেশের ৫০ টি জেলাতে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। ঢাকার বাইরে যারা ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তারা সকলেই ঢাকায় অবস্থানকালে আক্রান্ত হয়েছেন। ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু ভাইরাসবাহী মশার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য কোনো সংবাদ মাধ্যমে আসে নি। সে দিক থেকে ঢাকা ব্যতীত দেশের অন্য জেলার বাসিন্দারা কিছুটা আশ্বস্ত হতে পারছেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাজধানীর দুই সিটি কর্তৃপক্ষ প্রথম দিকে তেমন গুরুত্ব না দিলেও এখন তারা বেশ তৎপর হয়ে উঠেছেন। পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে সেটা বুঝতে একটু সময় নিয়েছেন ওই দুই কর্তৃপক্ষ। এই পরিস্থিতিতে সরকারও দ্রুততার সাথে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেÑ যা খুবই কাক্সিক্ষত ছিল। বিশেষ করে বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকগুলোতে ডেঙ্গু রোগের পরীক্ষ-নিরীক্ষার জন্য ‘গলা কাটা’ মূল্য হাতিয়ে নিচ্ছিল। এটা ছিল অনেকটা ‘মরার উপর খাড়ার ঘা। সরকার ডেঙ্গু পরীক্ষা নিরীক্ষার মূল্য বেঁধে দিয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু পরীক্ষা বিনামূল্য ঘোষণা করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকাসহ দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়াও ব্যাপকভাবে প্রচারণামূলক কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে।
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী ডেঙ্গুর ঘঝ১ পরীক্ষা করতে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা করা হয়েছে। ঈইঈ পরীক্ষার জন্য নেয়া যাবে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা। এছাড়া ওমএ ও ওমগ এই দুটি পরীক্ষা করাতে হবে ৫০০ টাকার মধ্যে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত রোববার থেকেই কার্যকর করা হগয়েছে।
শুধু তাই নয়- ডেঙ্গুজ্বর পরীক্ষায় বেসরকারি হাসপাতালগুলোর জন্য সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ ফি ৫শ টাকার বেশি নিচ্ছে কিনা- তা পর্যবেক্ষণ করতে একটি মনিটরিং সেল খুলেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
সরকারের এই নির্দেশনা না মানলে জরুরি ফোন করে অভিযোগ করা যাবে। ‘মিনিস্টার মনিটরিং সেল’, হটলাইন: ০১৩১৪-৭৬৬০৬৯, ০১৩১৪-৭৬৬০৭০, ০২-৪৭১২০৫৫৬, ০২-৪৭১২০৫৫৭। ইমেইল: সরহরংঃবৎসড়হরঃড়ৎরহমপবষষ@মসধরষ.পড়স.
সরকারের উদ্যোগ ও জনসচেতনতায় ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে দেশের মানুষ দ্রুত পরিত্রাণ পাবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। কিন্তু এবারের ডেঙ্গু পরিস্থিতি দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ, ও সিটি কর্তৃপক্ষসমূহকে এই সতর্কতা দিচ্ছে যে, বিষয়টি নিয়ে উদাসীনতার কোনো সুযোগ নেই। এই ধরনের উদাসীনতা যে কী ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে তা দেশবাসী প্রত্যক্ষ করছে।
ডেঙ্গু মোকাবেলায় আগাম কর্মপরিকল্পনা থাকা খুবই বাঞ্ছনীয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে আগেই ঠিক করতে হবে। ডেঙ্গুর ভাইরাসবাহী মশক নিধনে কার্যকর ওষুদ প্রস্তুত কিংবা আমদানি করার ওপর এখন থেকেই গুরুত্বারোপ করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ