ডেঙ্গু কেড়ে নিলো ঢাবি শিক্ষার্থী ফিরোজের পরিবারের স্বপ্ন!

আপডেট: জুলাই ২৮, ২০১৯, ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী ফিরোজ কবির স্বাধীনের মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না৷ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার (২৬ জুলাই) রাতে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে তিনি মারা যান।
ফিরোজের চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন ঠাকুরগাঁও থেকে মুঠোফোনে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পরিবারের সবাই স্বপ্ন দেখতো ফিরোজকে নিয়ে৷ বড় হয়ে একদিন সবার স্বপ্ন পূরণ করবে সে। বিভাগে ভালো ফল করায় উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার আশাও ছিল তার৷ ডেঙ্গু সব শেষ করে দিলো।’
ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ায় গত ১৮ জুলাই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় ফিরোজকে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) রাতে স্কয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। পরদিন শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন৷
বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ফিন্যান্স বিভাগের মাস্টার্স পরীক্ষার ফলপ্রত্যাশী ছিলেন ফিরোজ৷ থাকতেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ৪১৪ নম্বর কক্ষে। তার মৃত্যুতে পরিবারে গভীর শোক নেমে এসেছে৷ ক্যাম্পাসেও তার সহপাঠী, বড় ভাই, ছোট ভাইসহ সবাই শোক কাতর হয়ে পড়েছেন।
শনিবার (২৭ জুলাই) গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ে ফিরোজের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়৷ সেখানেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন তিনি।
চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন ফিরোজ৷ তার বড় দুই ভাই কৃষিকাজ করেন। তারা ফিরোজের পড়াশোনার খরচ দিতেন৷ তবে তার এত দূর আসার পেছনে বোনদের অবদানও কম ছিল না৷
ফিরোজের চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ফিরোজের মৃত্যুতে তার পরিবারে শোক চলছে৷ চার ভাই-বোনের মধ্যে ফিরোজ ছিল সবার ছোট৷ পরিবারে সবার আশা-ভরসা ছিল এই ছোট ভাইকে নিয়ে৷ কিন্তু তার মৃত্যুতে সব শেষ হয়ে গেলো৷ বাবা-মার স্বপ্ন ছিল ছেলে ম্যাজিস্ট্রেট হবে৷ আর ভালো ফলাফল করায় ফিরোজের স্বপ্ন ছিল বিদেশে গিয়ে পড়বে৷
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের ফিরোজ তো চলে গেলো৷ তার মতো আর কোনও শিক্ষার্থী যেন অকালে না চলে যায়৷ সেজন্য সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি৷
ফিরোজ কবিরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু শরীফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ফিরোজের মৃত্যু কোনোভাবেই আমরা মেনে নিতে পারছি না৷ সে খুবই ভালো ছেলে ছিল৷ কোনোদিন কারো সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব হতে দেখিনি৷ বিভাগে তার খুব ভালো রেজাল্ট ছিল৷ তার পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো ছিল না৷ খুব কষ্ট করে সে এ পর্যন্ত এসেছে৷’
তিনি বলেন, “আমরা বিভাগে আলোচনা করেছি, যাতে ওর নামে একটি ‘স্কলারশিপ ফান্ড’ হয়৷ ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে ঠিকমতো চিকিৎসা না হওয়ায় তাকে স্কয়ারে নিয়ে যাওয়া হয়৷ কিন্তু সেখানেও তাকে বাঁচানো গেলো না৷ তার জন্য এখনও ৩ ব্যাগ ব্লাড সংরক্ষণ করে রেখেছি৷”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ফিরোজের অকাল মৃত্যু আমাদের কাম্য ছিল না৷ এটি আমাদের কাছে সত্যিই বেদনাদায়ক এবং কষ্টের৷ বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া একজন শিক্ষার্থীকে ঘিরে যেমন তার পরিবারের আশা-আকাঙ্খা থাকে, তেমনি রাষ্ট্র, সমাজও তার থেকে অনেক কিছু প্রত্যাশা করে৷ আমি সব শিক্ষার্থীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি’
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন