ড. জাফর ইকবালের উপর হামলা দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত!

আপডেট: মার্চ ৫, ২০১৮, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে ছুরি নিয়ে হামলা হয়েছে অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর। শনিবার বিকালে এই হামলার পরপরই হামলাকারী তরুণকে ধরে ফেলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সঙ্গে সঙ্গে অধ্যাপক জাফর ইকবালকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তার সফল অস্ত্রোপচারও হয়। তার অবস্থা শঙ্কামুক্ত বলে জানান চিকিৎসকরা। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার বাসে করে রাতেই তাকে ঢাকার সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয়। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ সহ দেশের প্রায় সকল সংবাদ মাধ্যমে অতি গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ ও প্রচার হয়েছে। হামলার পরপরই দেশের সব টিভি, অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক মাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর সারা দেশে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। উৎসুক মানুষ খোঁজ-খবর নিতে থাকে। অনেককেই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা প্রকাশ করতে দেখা যায়। দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষ বিক্ষোভ দেখাতে থাকে।
রোববার র‌্যাব প্রেস ব্রিফিঙে জানায়, ওই হামলাকারী জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী। সে একাই ওই হামলা চালিয়েছে বলে স্বীকার করলেও র‌্যাব বলছে ওই ধরনের হামলা একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে অধিকতর অনুসন্ধান চলছে।
অধ্যাপক জাফর ইকবালের উপর এই হামলা প্রগতিশীল সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ দুর্বল হয়েছে বটে তা যে নিঃশেষ হয়নি এই ঘটনা আবারো জানান দিল। সামনে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জঙ্গি গোষ্ঠি ও তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দানকারী নেপথ্যের শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়Ñ সেই বার্তাই জঙ্গিরা দেশবাসীকে দিল। বিষয়টি তেমনইÑ ওই হামলা অধ্যাপক জাফর ইকবালের উপর নয়Ñ বরং এই হামলা গণতান্ত্রিক- প্রগতিশীল মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষের উপর সংঘটিত হয়েছে। এটাকে কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন করে দেখার সুযোগ নেই। মুক্তচিন্তার মানুষদের উপর ধারাবাহিক হামলারই এটি একটি অংশ। বিষয়টিকে সে ভাবেই নেয়া উচিৎ হবে।
এই হাসলার মধ্য দিয়ে নিরাপত্তা- দুর্বলতার বিষয়টিও সামনে এসছে। সেটা স্বীকার করা হোক আর নাই হোক। নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা ছিলেন, তারা যে চরম উদাসীনতা দেখিয়েছেন তা বলা অত্যুক্তি হবে না। পুলিশ সদস্যরা অধ্যাপক জাফর ইকবালের কাছে থেকেও হামলা প্রতিরোধ করতে পারেনি। শুধু তাই নয়Ñ হামলাকারীকে পুলিশ না ধরে ধরেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী তারাই হামলাকারীকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছে। নিরাপত্তার এই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার গুরুত্ব খুবই প্রণিধানযোগ্য।
এই মুহূর্তে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো এই হামলার সাথে নেপথ্যে যারা আছে তাদের সনাক্ত করা। নেপথ্যে থেকে যারা ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে তরুণদের ধর্মান্ধ বানাচ্ছেÑ তারাই জঙ্গিবাদের শেকড়ের কাজটি করছে। তারাই বুদ্ধি পরামর্শ দিচ্ছে, অর্থ দিচ্ছে, সাহস যোগাচ্ছে। সেই শেকড়ের সন্ধানটাও অতি গুরুত্বপূর্ণ। জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে শেকড় উপড়ে ফেলার কাজটি নিষ্ঠার সাথেই করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ