বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

ড. স্বরোচিষ সরকারসহ বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেলেন ১০ জন

আপডেট: January 24, 2020, 12:47 am

ওয়াসিফ রিয়াদ, রাবি


প্রবন্ধ/গবেষণায় স্বরোচিষ সরকারসহ ১০ জনকে এ বছর বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী বৃহস্পতিবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৯ প্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন।
একাত্তরের সেক্টর কমান্ডার ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণায় এই পুরস্কার পাচ্ছেন। কবি মাকিদ হায়দার ও কথাসাহিত্যিক ওয়াসি আহমেদ, স্বরোচিষ সরকার, অনুবাদে খায়রুল আলম সবুজ, নাটকে রতন সিদ্দিকী, শিশু সাহিত্যে রহীম শাহ, বিজ্ঞান/কল্পবিজ্ঞানে নাদিরা মজুমদার, ফোকলোরে সাইমন জাকারিয়া এবং আত্মজীবনী/স্মৃতিকথা/ভ্রমণকাহিনীতে ফারুক মঈনউদ্দীন এ বছর বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিস’র (আইবিএস) অধ্যাপক ড. স্বরোচিষ সরকার বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০১৯ পাওয়ার পর বলেন, শিক্ষকতা ও গবেষণার পাশাপাশি অবসরে লেখালিখি করি। আমি মনি করি এটা আমার দায়িত্ব। লেখালিখির জন্য পুরুষ্কার একটি বাড়তি পাওয়া। আমি কখনও পুরষ্কার পাওয়ার জন্য কাজ করি না। পুরস্কার কাজের উৎসাহ যোগায় মাত্র।
প্রবন্ধ, গবেষণা ও সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অবদান রাখায় পুরস্কারের জন্য তাঁকে মনোনীত করে বাংলা একাডেমি। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী তাঁর নাম ঘোষণা করেন।
স্বরোচিষ সরকার বলেন, আমরা যারা সাহিত্য নিয়ে কাজ করি তাদের পেশাগত জায়গাটা অন্যদের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন। শিক্ষকতার পাশাপাশি গবেষণা করতে হয়, প্রবন্ধ লিখতে হয়। বিভিন্ন সময় বইয়ের সংকলনও করতে হয়। লেখালিখি আমাদের দায়িত্বের মধ্যেই পরে। রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষকই বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কেউই পুরস্কারের আশায় কাজ করেন নি। সাহিত্যের কাজ করতে হলে নিজের ভাললাগা থেকেই করতে হয়। তবে পুরস্কার আমাদের কাজের শক্তি যোগায়।
সাহিত্যকর্ম নিয়ে ভবিষ্যত ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাহিত্য নিয়ে কাজ করছি এটা অব্যাহত রাখব। কি করতে পারবো জানি না তবে বাকি সময় সাহিত্যের মধ্যে যুক্ত থেকে ভালো কিছু করার ইচ্ছা রয়েছে।
এর আগে তিনি বাংলাদেশ বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন অ্যাওয়ার্ড ও মহাকবি মধুসূদন পদকও অর্জন করেছিলেন। এছাড়াও স্বরোচিষ সরকারের গবেষণামূলক গ্রন্থ অস্পৃশ্যতা বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ-এর জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ২০০৫ সালে তাকে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করে। ২০১৩ সালে কবিগান বিষয়ক গবেষণাগ্রন্থ কবিগান: ইতিহাস ও রূপান্তরের জন্য তিনি মধুসূদন পদক লাভ করেন। ২০১৪ সালে ‘গোলাম মুরশিদ’-এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদিত বাংলা একাডেমি বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান একটি বহুল আলোচিত অভিধান এবং একটি ঐতিহাসিক কাজ হিসেবে স্বীকৃত।
সাহিত্য জগতে তার অবদান অসামান্য। একজন বাংলা একাডেমীর কর্মকর্তা হিসেবে তিনি বহু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের পান্ডুলিপি সম্পাদনা করেছেন তিনি। তাঁর প্রকাশিত গ্রস্থসমূহের মধ্যে রয়েছে মুকুন্দদাস (১৯৮৭), যোগেশচন্দ্র বাগল (১৯৯৩), গিরিশচন্দ্র বড়ুয়া (১৯৯৪), বাংলাদেশের ফসল (১৯৯৪), বাংলা সাহিত্যে সংস্কারচেতনা: মুসলমান সমাজ (১৯৯৫), অস্পৃশ্যতা বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ (২০০৫), একাত্তরে বাগেরহাট: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক ইতিহাস (২০০৬), বিশ শতকের মুক্তচিন্তা (২০০৮), ভাবনা নিয়ে ভাবনা: জনপ্রিয় বইয়ের আলোচনা (২০১০), বাংলাদেশের কোষগ্রন্থ ও শব্দসন্ধান (২০১০), অকারণ ব্যাকরণ (২০১১), কবিগান: ইতিহাস ও রূপান্তর (২০১১), সর্বস্তরে বাংলা ভাষা: আকাক্সক্ষা ও বাস্তবতা (২০১৫)।
অধ্যাপক স্বরোচিষ সরকার ১৯৫৯ সালের ২০ অক্টোবর বাগেরহাট জেলায় জন্মগ্রহন করেন। তিনি একজন বিশিষ্ট আভিধানিক ও বৈয়াকরণ। তিনি বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ এর অন্যতম লেখক ও সম্পাদক। তার সম্পাদিত অভিধানসমূহের মধ্যে বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা একাডেমি বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান অন্যতম। বর্তমানে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা-প্রতিষ্ঠান ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ-এর অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ