ঢাকার সঙ্গে উত্তরের ১১ জেলার বাস চলাচল শুরু

আপডেট: মার্চ ১, ২০১৮, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

বগুড়া প্রতিনিধি


১২ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের ১১টি জেলার বাস চলাচল শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকালে বগুড়া জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন অনির্দিষ্টকালের জন্য ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলে সন্ধ্যায় বাস চলাচল শুরু হয়।
বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল লতিফ ম-ল জানান, জেলা প্রশাসক নূরে আলম সিদ্দিকীর সঙ্গে তাদের বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। জেলা প্রশাসক তাদের দাবি মেনে নিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে তারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
এর আগে ঢাকা ও বগুড়ার পরিবহন মালিকদের ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জের ধরে গত সোমবার রাতে বগুড়ার পরিবহন মালিক শ্রমিকরা বগুড়া-ঢাকা রুটের কোচ চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে মঙ্গলবার দিনভর এ রুটের প্রায় ৩০০ কোচ চলাচল বন্ধ থাকলে বিপাকে পড়েন যাত্রীরা। এরপর এদিন (মঙ্গলবার) রাত ১০টার দিকে রাজশাহী বিভাগীয় পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে বুধবার সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য রাজধানীর সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের ১১টি জেলার বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। এই ১১টি জেলা হলো রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও,দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, নওগাঁ, জয়পুরহাট ও বগুড়া।
বুধবার সকাল থেকে বগুড়ার শ্রমিকরা চারমাথা, মাটিডালি, তিনমাথাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যারিকেড দিয়ে বগুড়া থেকে ঢাকাগামী ও ঢাকা থেকে উত্তরের ১১ জেলাগামী কোচ থামিয়ে দেন। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। যাত্রীরা শহরের সাতমাথাসহ বিভিন্ন স্থানে কোচের কাউন্টারে টিকিটের জন্য ছোটাছুটি করেন। শহরের ঠনঠনিয়া ঢাকা কোচ স্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকাগামী সবগুলো পরিবহনের কাউন্টার বন্ধ। যাত্রীরা এসে ফিরে যাচ্ছেন। তবে বুধবার সন্ধ্যার পর এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বগুড়ার ‘শাহ্ ফতেহ আলী’ পরিবহনের ২০টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচ বগুড়া থেকে ঢাকার মহাখালী রুটে চলাচল করে। অন্যদিকে, ঢাকার পরিবহন মালিকদেরও বেশ কয়েকটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচ ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত চলাচল করে। সব মিলিয়ে অর্ধশত বাস চলাচল করে। সম্প্রতি ঢাকার পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে ব্যবসায়িক ক্ষতির অজুহাতে বগুড়ার শাহ্ ফতেহ্ আলী পরিবহনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসগুলো ঢাকা-বগুড়া রুটে না চালানোর জন্য অনুরোধ করা হয়। কিন্তু বগুড়ার মালিকপক্ষ সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলে ঢাকার পরিবহন মালিকরা অসন্তুষ্ট হন। সোমবার বিকালে ঢাকার পরিবহন মালিকরা মহাখালী বাস টার্মিনালে শাহ্ ফতেহ্ আলী পরিবহনের টিকিট কাউন্টার বন্ধ করে দেন। এরপর তারা ঢাকার গাবতলীতেও শাহ্ ফতেহ আলী পরিবহনের কাউন্টার বন্ধ করে দেন। এতে ওই পরিবহনের বাসগুলো ঢাকায় আটকে পড়ে। এ খবর বগুড়ায় পৌঁছার পর বগুড়ার পরিবহন মালিক শ্রমিকরা তাৎক্ষণিকভাবে বগুড়া থেকে ঢাকাগামী সব কোচ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন।