ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ থেকে লোক আসছেই রাজশাহীবাসীকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে!

আপডেট: April 25, 2020, 12:11 am

দেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের হটস্পট ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ। সরকারি তথ্যমতে আক্রান্তদের মধ্যে ৮৫.২৬ শতাংশই ঢাকা সিটি এবং ঢাকা বিভাগের। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ যাবত যত করোনা রোগি শনাক্ত করা গেছে তাদের অধিকাংশই ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা। তারা সকলেই কাজের সুবাদে নারায়ণগঞ্জে অবস্থান করেন। করোনাভাইরাসে লকডাউনের ফলে তারা রাজশাহীতে অবস্থান করছেন পরিবার পরিজন নিয়ে। এদের একটি অংশ লকডাউন উপেক্ষা করে গোপনে বিভিন্ন উপায়ে রাজশাহী এসে পৌঁছেছেন। তারা রাজশাহীতে অবস্থানকালে নিজেদের আগমনের বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করছেন। এর ফলে ঝুঁকির মুখে যেমন তার পরিবার, একই সাথে প্রতিবেশীরাও। সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে মানুষ এখনোও আসছে। রাজশাহীকে লকডাউন ঘোষণা করেও এই আগমন ঠেকানো যাচ্ছে না। ২৪ এপ্রিল প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহীতে এসেছেন ৩২ জন। যাদের ঢাকা থেকেই এসেছেন ২২ জন এবং নারায়ণগঞ্জ থেকে এসেছেন ৬ জনÑ বাকিরা অন্যান্য এলাকা থেকে রাজশাহীতে এসেছেন।
রাজশাহীতে এ পর্যন্ত আটজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এই আটজনের সাতজনই এসেছেন ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর থেকে। আক্রান্ত আরেকজনের ছেলে এসেছেন ঢাকা থেকে।
এসব তথ্য থেকে এটা স্পষ্ট যে, রাজশাহীতে করোনাভাইরাসের শঙ্কাটা বৃদ্ধি পেয়েছে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ সহ বাইরের জেলা থেকে আসা লোকজনের কারণে। এই আশংকা সঙ্গত এই কারণে যে, যে ৮ জন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে তারা সকলেই বাইরের জেলা থেকে এসেছেন। অর্থাৎ বাহির জেলা থেকে আসা লোকজনদের যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনা সম্ভব হলে মরণঘাতি করোনাভাইরাস রাজশাহীকে স্পর্শ করতে পারতো না। তথ্যমতে, এখনো রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকাসহ জেলার ৫ টি উপজেলায় এখন পর্যন্ত কোনো করোনা আক্রান্ত রোগি পাওয়া যায় নি। এটা বড়ই স্বস্তির সংবাদ। কিন্তু যে ভাবে লকডাউন ফাঁকি দিয়ে মানুষ এখনো রাজশাহীতে প্রবেশ করছে তাতে এই স্বস্তি অচিরেই আরো উদ্বেগ- উৎকণ্ঠার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোথায় সমন্বয়ের অভাব হচ্ছে কি না সেটা খতিয়ে দেখা দরকার। ব্যক্তি যে ভাবেই লকডাউন উপেক্ষা করে রাজশাহীতে প্রবেশ করুন না কেন- তা সাধারণ মানুষ সজাগ ও সচেতন হলে তাদের দ্রুততার সাথে চিহ্নিত করা কঠিন কাজ নয়। আর চিহ্নিত করা গেলে দ্রুত ব্যক্তি ও তার পরিবারকে কোয়ারেন্টাইন কিংবা পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা সম্ভব হবে। গা বাঁচিয়ে কিংবা লোকদেখানো কাজ দিয়ে আর যাহোক সেটাকে কাজের সমন্বয় বলা যাবে না। এর জন্য উদ্যোগটা খুবই প্রয়োজন। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং জনপ্রতিনিধিরা কেমন আচরণ করবেন তার পরেই নির্ভর করবে এর সাফল্য। আর এটা অবশ্যই সমন্বিত উদ্যোগের বিষয়। সেটার অভাব বোধ করি থেকেই গেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ