ঢাকা-রাজশাহী : যানজটের কারণে বাসের চেয়ে পছন্দ ট্রেনযাত্রা

আপডেট: জুন ৪, ২০১৮, ১:৪৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


ঈদের সময় সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য বাসের চেয়ে ট্রেনযাত্রাই বেশি পছন্দ রাজশাহী-ঢাকা যাতায়াতকারী যাত্রীদের।
রাজশাহী থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত তেমন যানজটের কবলে পড়তে হয় না। তবে বঙ্গবন্ধু সেতুর আগে ও পরে টাঙ্গাইল মহাসড়কের চার লেনের কাজ চলমান থাকায় এবং ঈদের সময় লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি নামানোয় দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। এতে অনেক সময় সড়কপথে রাজশাহী থেকে ঢাকা বা ঢাকা থেকে রাজশাহী যাতায়াতে দ্বিগুণ-তিনগুণ সময় লেগে যায়।
অথচ ছয় ঘণ্টার রাস্তায় বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি না থাকলে ট্রেন অনেকটা নির্ধারিত সময়েই রাজশাহী থেকে ঢাকায় পৌঁছে যায়। এজন্য রাজশাহীর যাত্রীদের কাছে ট্রেনের টিকিট মানে ‘সোনার হরিণ’ হাতে পাওয়া।
রাজশাহী থেকে ঢাকায় নিয়মিত যাতায়াত করেন একটি সরকারি কলেজের শিক্ষক আতাউর রহমান। তিনি বলেন, ‘রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ যানজটের কারণে বসে থাকতে হয়। ট্রেনের টিকিট না পেয়ে আমি বিমানের টিকিট সংগ্রহ করার চেষ্টা করি। কিন্তু অনেক সময় বিমানের টিকিটও পাওয়া যায় না। তাই বাধ্য হয়ে বাসে যেতে হয়। তখন বুঝতে পারি রাজশাহী-ঢাকা যাত্রাপথ কত দূর ও কষ্টকর।’
রাজশাহী থেকে ঢাকার পথে নিয়মিত যাতায়াত করে ন্যাশনাল ট্রাভেলস, দেশ ট্রাভেলস, হানিফ
এন্টারপ্রাইজ, গ্রামীণ ট্রাভেলস, একতা এন্টারপ্রাইজ, আকিব, শ্যামলী, তুহিন এলিটসহ বেশ কিছু চেয়ার কোচ।
সড়কের পরিস্থিতি জানার জন্য সম্প্রতি ন্যাশনাল ট্রাভেলসের কাউন্টারের টিকিট মাস্টার মাসুদ রানার সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, গত সপ্তাহ থেকে শিডিউলের কোনও বিপর্যয় ঘটেনি। তাদের কাউন্টার থেকে ঠিক সময়ে ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছে। আর ঢাকা থেকেও সঠিক সময়ে বাস আসছে। তবে সামনে ঈদের সময় সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
ন্যাশনাল ট্রাভেলসের বাসচালক হায়দার আলী জানান, মাসখানেক আগে সিরাজগঞ্জ পার হলেই যানজটে আটকে থাকতাম। কিন্তু গত সপ্তাহ থেকে এখন পর্যন্ত আগের মতো যানজট নেই। যানজটে পড়লে তখন করার কিছু থাকে না। আবার অনেক সময় বিকল্প রাস্তা দিয়ে যাত্রীদের পৌঁছানোর চেষ্টাও করি। তবে মহাসড়কের বাইরে গেলে রাতের সময় ডাকাতি-ছিনতাইয়ের ভয় থেকে যায়। চার লেনের রাস্তার কাজ দ্রুত শেষ হলে যানজট অনেকটা কমে আসবে।
ন্যাশনাল কাউন্টারের এক যাত্রী নাসির উদ্দিন জানান, কয়েক মাস পরে একটা কাজে ঢাকায় যেতে হচ্ছে। তবে ট্রেনের টিকিট না পেয়ে বাসে যাচ্ছি।
একতা টিকিট কাউন্টারের টিকিট মাস্টার নূরুল আলম বলেন, ‘বাস ঠিকমতো যাচ্ছে, ঠিকমতোই ফিরছে। এখন সময় নিয়ে তেমন কোনও সমস্যা হচ্ছে না। তবে মাঝে মধ্যে আধঘণ্টা বা তার বেশি সময় লাগছে।’
টিকিট কাউন্টারে বাসের জন্য অপেক্ষায় থাকা যাত্রী সুমাইয়া পারভীন বলেন, ‘গত সপ্তাহে একবার ঢাকায় গিয়েছিলাম। সিরাজগঞ্জ পার হয়ে টাঙ্গাইলের মাঝপথে প্রায় একঘণ্টা জ্যামে পড়েছিলাম। হঠাৎ করে আবারও ঢাকা যাওয়ার প্রয়োজন পড়েছে। ট্রেনের টিকিট না পেয়ে বাসেই যাচ্ছি।
এদিকে, ঈদে যাত্রী ভোগান্তি কমাতে রাজশাহী-ঢাকা রুটে একটি স্পেশাল ট্রেন চলাচল করবে। ঈদের তিনদিন আগে ‘ঈদ স্পেশাল’ নামের এ ট্রেনটি চলবে। এছাড়া এ রুটে পদ্মা, সিল্কসিটি ও ধূমকেতু এক্সপ্রেস আগের সময়ে চলবে।
এমন তথ্য জানিয়ে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের সুপারিনটেনডেন্ট গোলাম মোস্তফা জানান, ঈদের তিনদিন আগে থেকে ‘ঈদ স্পেশাল’ ১৬ বগি নিয়ে রাজশাহী-ঢাকা রুটে চলবে। ট্রেনটি সাত দিন চলবে। এই ট্রেন দুপুর দেড়টায় রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাবে ঢাকার উদ্দেশে। ঢাকায় পৌঁছাবে রাত ৮টা ২০ মিনিটে। ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে রাত ৯টা ২৫ মিনিটে ছাড়বে। রাজশাহী এসে পৌঁছাবে রাত সাড়ে ৩টার দিকে।
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ১০-১৫ জুন যাত্রার জন্য ১ জুন থেকে পর্যায়ক্রমে ৬ জুন পর্যন্ত টিকিট বিক্রি করা হবে। আবার ঢাকা ফেরত যেতে ১৮ থেকে ২২ জুন পর্যন্ত যাত্রা করার লক্ষ্যে ৯ জুন থেকে ১৩ জুন পর্যন্ত টিকিট বিক্রি করা হবে।
সুপারিনটেনডেন্ট গোলাম মোস্তফা আরও জানান, এ রুটের আগের সব ট্রেন নিয়মিত সময়সূচিতেই চলবে। ঈদের পাঁচ দিন আগে (সোমবার) থেকে ঈদের আগে দিন পর্যন্ত আন্তঃনগর ট্রেনের অফ-ডে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া ঈদের দিন আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করবে না।
তিনি আরও জানান, যাত্রী হয়রানি বন্ধে রেল পুলিশ ও আনসার সদস্যরা কাজ করবেন। ট্রেনের টিকিট বিক্রিতে যাতে কোনও সমস্যা না হয় সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। এছাড়া, সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ