ঢাক-ঢোলের তালে মাতাল যমুনা পাড়: লাখো মানুষের ঢল

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৭, ১:০০ পূর্বাহ্ণ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি


আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ নেচে-গেয়ে ও আনন্দ-উল্লাস করে উপভোগ করেছেন সিরাজগঞ্জের বিনোদন প্রেমী লাখো মানুষ।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা যমুনা নদীর শহররক্ষা বাঁধ হার্ডপয়েন্টে এ নৗকা বাইচের আয়োজন করে। ঢাক-ঢোলের তালেতালে গ্রাম বাংলার গান আর বৈঠার ছন্দ মাতিয়ে তুলেছিল যমুনার ঢেউকে। আর সেই ছন্দে তাল মিলিয়ে নদীর তীরে লাখ লাখ শিশু-কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধ পর্যন্ত নেচে-গেয়ে এ নৌকাবাইচ উপভোগ করেছেন। বাইচ শুরুর আগে বিকেল তিনটা থেকে নদী তীর মানুষের ঢল নামে। শুধু সিরাজগঞ্জ জেলা নয় ঢাকাসহ আশপাশের কয়েকটি জেলা থেকেও হাজার হাজার বিনোদন প্রেমীরা নৌকা বাইচ দেখতে এসেছিলেন। নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে তীরবর্তী এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নানা-পসরা সাজিয়ে বসেছিল।
প্রতিযোগীতায় তিনটি গ্রুপে ২১টি নৌকা অংশগ্রহন করে। প্রতিযোগীতা শেষে সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার হিসেবে ফ্রিজ-টেলিভিশন তুলে দেন জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দিকা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কামরুর হাসান ও পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহমেদ।
নৌকা বাইচ দেখতে আসা করিম মিয়া জানান, আগে প্রচুর নৌকা বাইচ হতো। কিন্তু ইদানিং তা হারিয়ে যাচ্ছে। তাই একটু আনন্দ উপভোগ করার জন্য নৌকা বাইচ দেখেতে এসেছি।
শিশু মিম আফরোজ জানান, বাবার সাথে নৌকা বাইচ দেখতে এসেছি। খুব মজা করলাম। সকলেই প্রতিবছর যমুনায় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহমেদ জানান, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা সম্পন্ন করার জন্য র‌্যাব-পুলিশের সমন্বয়ে ব্যাপক নিরাপত্তা গ্রহন করা হয়েছিল। নদীতে ও নদী তীরে সার্বক্ষনিক সাদা পোশাকের পাশাপাশি র‌্যাব-পুলিশের টহল ছিল।
অনুষ্ঠানের আয়োজক জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকা জানান, দীর্ঘ ছয় বছর যমুনা নদীতে কোন নৌকা বাইচ হয় নি। সিরাজগঞ্জবাসী আনন্দ বঞ্চিত ছিল। বন্যা পরবর্তীতে যমুনা পাড়ের মানুষকে নির্মল আনন্দ-বিনোদনের পাশাপাশি দেশীয় ঐতিহ্য রক্ষার জন্য এ নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়েছে। সব বয়সীর মানুষ বিপুল-আনন্দ উপভোগ করতে পারায় নিজেদের অনেক ধন্য মনে হচ্ছে।