ঢাবি আ. লীগ শিক্ষকদের সভায় মারামারি

আপডেট: নভেম্বর ৪, ২০১৭, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থক শিক্ষকদের নীল দলের সভায় সহকর্মীদের আঘাতে একজন শিক্ষক আহত হয়েছেন।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ খ ম জামাল উদ্দিন সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সমর্থক। তিনি বলছেন, প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী ও তাদের পক্ষের আরও দুই শিক্ষক এই হামলা করেছেন, আঘাতে নাক দিয়ে রক্ত ঝরেছে তার।
এ ঘটনায় প্রক্টর রব্বানীকে পদচ্যুত করার দাবি জানিয়ে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন নীল দলের আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ।
বৃহস্পতিবার বিকালে টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ায় ওই ঘটনার পর জামাল উদ্দিনকে আহত অবস্থায় উপাচার্যের বাসভবনে নিয়ে আসেন আজিজসহ কয়েকজন শিক্ষক। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার থেকে চিকিৎসক এনে জামাল উদ্দিনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
চিকিৎসাপত্র হাতে নিয়ে রাত ১০টার দিকে উপাচার্যের বাসা থেকে বেরিয়ে নিজের বাসায় যান জামাল উদ্দিন।
এ সময় তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বক্তব্যে প্রক্টর আমাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করছিল। এ সময় আমি তাকে বলি, আপনি একজন প্রক্টর হিসেবে আমাকে এভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ করতে পারেন না। তখন তিনি আমাকে আঘাত করেন। এরপর শাহ মাসুম এবং সীতেশ চন্দ্র বাছার আমাকে কিলঘুষি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়।
“মাসুম চেয়ার নিয়ে আমার দিকে তেড়ে আসে। তখন উপস্থিত নীল দলের অন্য শিক্ষকরা আমাকে ঘিরে বলয় তৈরি করে রক্ষা করেন। ঘুষির ফলে আমার নাক দিয়ে রক্ত ঝরা শুরু হয়।”
সভায় উপস্থিত নীল দলের কয়েকজন শিক্ষক জানান, বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া এই সভায় প্রথম থেকেই সাবেক উপাচার্য আরেফিন সিদ্দিকপন্থি এবং বর্তমান উপাচার্য আখতারুজ্জামানপন্থি শিক্ষকরা একপক্ষ আরেকপক্ষকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দিতে থাকেন।
জামাল উদ্দিন বক্তব্যে সাবেক উপাচার্য সম্পর্কে তার আগের বক্তাদের কটাক্ষমূলক বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। তার পরে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রক্টর গোলাম রব্বানী ফের আরেফিন সিদ্দিক ও জামাল উদ্দিনকে নিয়ে কথা বললে জামাল উদ্দিন তার প্রতিবাদ করেন। তখন তাদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।
প্রক্টরের সঙ্গে ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান সীতেশ চন্দ্র বাছার এবং ফলিত রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক শাহ মো. মাসুম অধ্যাপক জামালউদ্দিনকে মারধর করেন বলে অভিযোগ তার।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রক্টর গোলাম রব্বানী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি যখন বক্তব্য দিচ্ছিলাম তখন জামাল উদ্দিন সামনে বসা চেয়ার থেকে উঠে এসে আমার বুকে ধাক্কা দেয়। এ সময় তার আক্রমণাত্মক আচরণ দেখে অন্য শিক্ষকরা আমাকে রক্ষা করার জন্য ঘিরে ফেলে। জামাল এ সময় ওই শিক্ষকদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে আমার কাছে আসতে চান। ঘটনার আকস্মিকতায় আমি হতবিহব্বল হয়ে যাই। একটু পর জামালকে দেখি এক কোণায় ফ্লোরে বসে আছে। তখন আমি গিয়ে তাকে উঠিয়ে নিয়ে চেয়ারে বসাই। এসময় আমি অন্যদের অনুরোধ করি তাকে কিছু না বলার জন্য।”

অধ্যাপক সীতেশ ও মাসুম ওই শিক্ষককে আঘাত করেছেন কি না জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, “আমি শিক্ষকদের ঘেরাওয়ের মধ্যে ছিলাম। তাই আমি খেয়াল করিনি।”
প্রক্টরকে পদচ্যুত করার দাবি জানিয়ে নীল দলের আহ্বায়ক আজিজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত এদের সাথে আমরা আর মিটিঙে বসব না। আগামীকালের মধ্যে প্রক্টরকে ‘স্যাক’ করা না হলে আমরা আন্দোলন করব।”
ঘটনার পর পর একদল সাংবাদিক ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের কাছে গেলে তিনি বলেন, “সেখানে কী ঘটেছে সে বিষয়ে আমি সবার কাছে শুনছি। তোমরা পরে আসো।”
তবে ঘণ্টাখানেক পর থেকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি সাড়া দেননি।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ