ঢাবি সিন্ডিকেটে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে নীলের জয়

আপডেট: এপ্রিল ২০, ২০১৮, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে ছয়টি পদের মধ্যে পাঁচটিতে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থক শিক্ষকদের নীল দল।
এই নির্বাচনে তাদের বিপরীতে একটিতে জয় পেয়েছে বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের সাদা দলের প্রার্থী।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এই ভোটগ্রহণ চলে।
একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে মোট ছয়টি পদ এবং ফাইন্যান্স কমিটির একটি পদে জয় পেয়েছেন সরকার সমর্থকরা।
ভোট গণনা শেষে বিকালে ফল ঘোষণা করেন এই নির্বাচনের কমিশনার বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক কামাল উদ্দিন।
নির্বাচনে নীল দলের বিজয়ীরা হলেন- প্রাধ্যক্ষ ক্যাটাগরিতে সূর্যসেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল, অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে আইন বিভাগের অধ্যাপক রহমতুল্লাহ, সহযোগী অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে ইসলামের ইতিহাস বিভাগের মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, সহকারী অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের ড. মিজানুর রহমান ও প্রভাষক ক্যাটাগরিতে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের জান্নাতুল নাঈমা।
নীল দলের প্রার্থীদের মধ্যে হেরেছেন কেবল ডিন ক্যাটাগরির প্রার্থী সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম। তার বিপরীতে সাদা দলের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক হাসানুজ্জামান এই ক্যাটাগরিতে জিতেছেন।
সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোট পেয়ে বিজয়ী অধ্যাপক মাকসুদ কামাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বর্তমান সরকারের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে একাডেমিক ডেভেলপমেন্ট হয়েছে, এ বিজয় তার স্বীকৃতি। “মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তির প্রতি আমাদের মেধাবী শিক্ষকদের যে আস্থা, তা প্রমাণিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তির বিকল্প যে অন্য কেউ নেই, এটা তার বহিঃপ্রকাশ।”
নীল দলের একজনের পরাজয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, “শিক্ষকরা সব সময় হয়ত এক ধরনের ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ করতে চান। সেই জায়গা থেকেই তাদের মনে হয়েছে, ওই দল থেকেও একজনের দরকার। সেকারণেই হয়ত সাদা দল থেকে একজন জিতেছেন।”
ডিন ক্যাটাগরিতে ৭০২ ভোট পেয়ে বিজয়ী সাদা দলের প্রার্থী হাসানুজ্জামান এর আগে ২০০৮ ও ২০১২ সালে সিন্ডিকেট সদস্য ছিলেন।
জয়ের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “যখন যেখানে কাজ করেছি সততার সঙ্গে কাজ করি, সেটারই প্রতিফলন পেয়েছি।”
প্যানেলের পরাজয়ের বিষয়ে অধ্যাপক হাসানুজ্জামান বলেন, “আমাদের যারা নতুন, তারা সবাইকে সেভাবে ‘রিচ’ করতে পারেনি। আর এটা তো প্যানেল ইলেকশন, সাদা প্যানেলের ভোট কিছুটা কম। সে কারণে ভোট কম পড়েছে।”
একাডেমিক কাউন্সিল ও ফাইন্যান্স কমিটির সাতটি পদের সব ক’টিতে জয় পেয়েছে নীলদল।
একাডেমিক কাউন্সিলের সহযোগী অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে তিনটি পদে বিজয়ী হয়েছেন পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের আলমগীর কবীর, গণিত বিভাগের নেপাল চন্দ্র রায় এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের মোহাম্মদ আশরাফ সাদেক।
অন্যদিকে সহকারী অধ্যাপক/প্রভাষক ক্যাটাগরির তিনটি পদে গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের ফারজানা আহমেদ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাইফুল আলম চৌধুরী এবং সংস্কৃত বিভাগের সঞ্চিতা গুহ জয় পেয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অধ্যাপকই একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য।
অন্যদিকে ফাইন্যান্স কমিটির একটি পদে জয় পেয়েছেন অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ।
নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক কামাল জানান, নির্বাচনে মোট ১৬১২ জন ভোটারের মধ্যে ১৪১৮জন ভোট দিয়েছেন। তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ