তবুও, শক্তিশালী অর্থনীতির বাংলাদেশ করোনা মোকাবিলার সাথে অর্থনীতিও বাঁচাতে হবে


কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস রোগ এখন বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত না, আতঙ্ক ও উদ্বেগ-অনিশ্চয়তার নাম। বৃদ্ধ থেকে শিশু-সব শ্রেণির মানুষকে সার্বক্ষণিক অস্বস্তির মধ্যে রেখেছে করোনাভাইরাস। বিশ্বের ২১২টি দেশে প্রতিদিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হচ্ছে সংবাদমাধ্যমগুলোতে। সারাবিশ্বে ৩৫ লাখের বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে আড়াই লাখের মত। ফলে বিভিন্ন দেশ লকডাউন জারি করে এই ভাইরাসের বিস্তাররোধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ভাইরাসের বিস্তাররোধ করতে গিয়ে লকডাউন জারি এবং ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখায় বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। চাকরি হারাচ্ছে লাখ লাখ মানুষ। সারা বিশ্বের মানুষ একরকম গৃহবন্দি জীবন-যাপন করছে। এমন পরিস্থিতি পৃথিবী এর আগে কখনো দেখেছে বলে মনে হয় না।
করোনাভাইরাসের প্রভাবে সারা পৃথিবীর মত বাংলাদেশেও অর্থনীতির চাকা থেমে গেছে। এর ফলে শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। তাদের এখন ভীষণ বাঁচা-মরার অবস্থা। অচিরেই এই অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে কিছু কিছু উদ্যোগ নিতে সরকার। ঠিক এরকম এক অনিশ্চয়তার মধ্যেও বাংলাদেশের জন্য একটা সুখবর সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে।
করোনায় সারাবিশ্বেই ভয়াবহ আর্থিক সঙ্কট তৈরি হয়েছে। তবে এর মধ্যেও বাংলাদেশের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে লন্ডনভিত্তিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট।
কোভিড-১৯ সঙ্কটের মধ্যে উদীয়মান অর্থনীতির ৬৬টি দেশ নিয়ে একটি তালিকা তৈরি করেছে দ্য ইকোনমিস্ট। ওই তালিকায় শক্তিশালী অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে নবম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।
চারটি সম্ভাব্য দিক বিবেচনা করে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এগুলো হলো : জিডিপির শতাংশ হিসেবে সরকারি ঋণ, বৈদেশিক ঋণ, ঋণের সুদ এবং রিজার্ভ। ওই তালিকা অনুযায়ী, সবগুলো সূচক বিবেচনায় বাংলাদেশ শক্তিশালী বা অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এই তালিকায় প্রতিবেশী ভারতের অবস্থান ১৮, পাকিস্তান ৪৩ এবং শ্রীলঙ্কা ৬১।
তবে এই স্বস্তির সংবাদ সামনের দিনগুওেলাতে কতখানি স্বস্তি বজায় থাকবে তা অনেকটাই বর্তমান করোনাভাইরাস প্রতিরোধ পরিস্থিতি মোকবিলার ওপর নির্ভর করবে। স্থবির অর্থনীতিকে ধিরে ধিরে কীভাবে ছন্দে ফিরিয়ে আনা যায় সেই উদ্যোগের পারদর্শিতা এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরকার ইতোমধ্যেই বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে অর্থনীতির চাকা সচল করতে। তবে এটা ঠিক যে, বাংলাদেশের স্থায়ীত্বশীল কৃষি- অর্থনীতির ভিত মজবুত করে রেখেছে। অন্তত বাংলাদেশ খাদ্যসঙ্কটের কোনো আশংকা করছে না। কেননা ধারাবাহিকভাবেই ফসল উৎপাদনে সাফল্য অর্জন করা গেছে। এটা খুবই বড় স্বস্তির ব্যাপার। এখন শুধু করোনাভাইরাস মোকাবিলার সাথে সাথে অর্থনীতিকে কীভাবে এগিয়ে নেয়া যায় সেই দক্ষতা ও সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে। তবেই প্রকৃত সাফল্য পাওয়া যাবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ