তানফির বন্ধু প্রজাপতি

আপডেট: ডিসেম্বর ১, ২০১৮, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

রুহুল আমিন রাকিব


তানফি এই তানফি,তুমি কথা বলছ না কেন সোনামণি? আম্মুর ডাক শোনার পরেও মুখ গুমরা করে বসে আছে তানফি! তানফির বয়স সবে মাত্র চার বসর পেরিয়ে গেছে। বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে, আজ কয়েক দিন ধরে এমন গুমরা মুখি হয়ে থাকে। কারো সাথে তেমন কথাও বলে না তানফি। সব সময় ব্যালকনির গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। শূন্য দৃষ্টি নিয়ে বাহিরে কী যেন খুঁজে ফিরে মেয়ে’টা।
আগের মতো হাসি খুশি থাকে না,সময় মতো খাবারো মুখে দেয় না দিনে দিনে কেমন যেন বদলে যেতে লাগল! তানফির এমন বদলে যাওয়ার কারণ খুঁজতে গিয়ে,হঠাৎ থমকে দাঁড়াল তানফির আম্মু।
ভালো করে লক্ষ করল,তানফি যেন একা একা কার সাথে কথা বলছে!তবে কার সাথে বলছে ঠিক বুঝতে পারল না। দৌড়ে গিয়ে তানফিকে জড়িয়ে ধরে বলল এই যে মা-মণি তুমি এতোক্ষণ কার সাথে কথা বললে এমন করে?আম্মুর কথা শুনে অভিমানী চোখে তাকায়!
এরপরে বলল, আমি আমার বন্ধুর সাথে কথা বললাম।আমার বন্ধু আজ অনেক দিন পরে এসেছে আমার সাথে দেখা করতে। বন্ধু বলছে ও আর কখনই আসবে না আমার কাছে।কারণ আমার আব্বু আর তুমি, তোমরা দু’জনেই না কি পঁচা!
তানফির কথা শুনে, আম্মু বলল আরে কী বলছ তুমি এই সব? কোথায় তোমার বন্ধু? তানফি বলল ওই যে দেখ রঙিন ডানায় উড়ে চলছে! ওই যে সবুজ পাতা দেখছ না গাছের শাখে ওই পাতায় গিয়ে বসল এখন।
তানফির আম্মু ভালো করে লক্ষ করে দেখল,একটা প্রজাপতি উড়ে চলছে। আস্তে আস্তে চোখের আড়াল হয়ে গেলো প্রজাপতি। বন্ধুর অভিমান করে চলে যাওয়া দেখে,কাঁন্না শুরু করল তানফি। সারাদিন কোন খাবার মুখে দেয়নি,সব সময় কাঁন্না করে চলছে। রাতেও কিছু না খেয়ে ঘুমিয়ে পরল। তানফির একটাই কথা,বন্ধুকে ছাড়া সে কিছু খাবে না,এমন কি কারো সাথে খেলবেও না। হঠাৎ মাঝ রাতে ঘুমের ঘোরে তানফির আম্মু স্বপ্নে দেখে কে যেন তার কাছে কাঁন্না ভিজা চোখে এসে বলছে…….
এই যে তানফির আম্মু, আমাদের বসবাস করার জায়গায় আপনারা ঘর তুলছেন কেন? জঙ্গল কেটে, ফুলের বাগান কেটে, আগুন ধরিয়ে দিছেন কেন?সেদিন আগুনে পুড়ে আমাদের অনেক জাতি ভাই মারা গেছে। অনেক ঘর বাড়ি পুড়ে গেছে। ছোট্ট ছোট্ট ছেলে মেয়ে গুলোও আগুনে পুড়ে মরছে।
আমার বাবা মা ও সেদিন আগুনে পুড়ে মারা গেছে।
আপনারা দিনে দিনে বড় স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছেন।নিজেদের সুখের কথা ভেবে, পশু পাখি, সবুজ বন সব কিছু ধ্বংস করে দিচ্ছেন। অথচ একবারো ভাবেন না,সবুজ বন আর পশু পাখি আছে বলেই আপনারা সবাই সুন্দর ভাবে জীবন জাপন করতে পারছেন।
এখনো সময় আছে, ভালো চাইলে আবার নতুন করে ফুলের বাগন তৈরি করুন। বাড়ির পাশে সবুজ গাছ লাগান,নয়তো আর কিছু দিনের মাঝে ধংশো হয়ে যাবে আপনাদের সব কিছু। স্বপ্নটা দেখে আতকে উঠল তানফির আম্মু! পরের দিন সকাল বেলা সব কিছুই খুলে বলল তানফির বাবা’কে। সব কিছু শোনার পরে,বিকেল বেলা তানফিকে সাথে করে নিয়ে বন্দর থেকে অনেক গুলো সবুজ গাছ,আর ফুলের চারা কিনে আনল। আবার ফুলের বাগান তৈরি করল! সবুজ গাছ লাগিয়ে দিল বাড়ির পাশে। দেখতে দেখতে কিছু দিন পরে চলে এলো শীত ঋতু,তানফি রোজ সকালে ফুল বাগানে যায়, নিজ হাতে চারাগুলোর পরিচর্যা করে পানি দেয়। আবারো ফুলে ফুলে ভরে গেল বাগান। সারা রাতে শিশির শেষে যখন ফুল গুলো ফুটে, রবি তখন লাল আলো দেয়! মিঠা রোদে ফুলগুলো হাসে, তারি সাথে তানফিও ফিক করে হাসে! প্রজাপতি রোজ এসে ফুলে ফুলে বসে আর তানফিকে গান শোনায়। আবারো হাসি খুশিতে দিন গুলো চলে যেতে লাগল ওদের।