তানোরে অর্ধেক ধান দিয়েও মিলছেনা শ্রমিক || উজান থেকে নেমে আসা পানিতে ভাসছে বোরো ধান

আপডেট: মে ৫, ২০১৮, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

তানোর প্রতিনিধি


তানোরে শ্রমিক না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ধান কাটছেন এক কৃষক-সোনার দেশ

রাজশাহীর তানোরে গত সোমবারের ভয়াবহ কাল বৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে এবং গত বুধবারের বৃষ্টিতে বোরো চাষিদের কপালে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। দুই দিনের বৃষ্টিতে দেখতে দেখতে ডুবে যাচ্ছে পাকা ধান।
কষ্ট করে চাষাবাদ করা বিলকুমারী বিলের পাকা ধান এতই দ্রুত ডুবছে যে এক জমির ধান কাটা না হতে পানিতে ডুবে যাচ্ছে আরেক জমির ধান। এদিকে আবার কাটা ধানের অর্ধেক বা তিন ভাগের দু ভাগ দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না ধান কাটার শ্রমিক।
অনেকে শ্রমিক না পেয়ে বাধ্য হয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোন রকমে ধানের উপরি ভাগ কেটে নিয়ে আসছে। এতে করে বোরো ধান কাটা নিয়ে বিপাকের মধ্যে পড়েছে কৃষকরা।
জানা গেছে, উপজেলায় আর এক সপ্তার মধ্যে বোরো ধান কাটা শেষ হয়ে যেত। কিন্তু চলতি সপ্তার শুরুর দিকে ২৮ এপ্রিল শনিবারে সন্ধ্যার দিকে শুরু হয় বৃষ্টি। তবে ওই রাত থেকেই আকাশ পরিষ্কার হয়ে যায় । কিন্তু ৩০ এপ্রিল সোমবার সকালে কাল বৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হলে বোরো চাষিদের সব স্বপ্ন মাটিতে মিশে যায় নিমিষেই। এ ঝড়ে বিদ্যুতের ১৭টি খুটি উপড়ে যায় ।
অপরদিকে চারদিক করা উজান থেকে আসা পানির ¯্রােত নামতে থাকে বিলকুমারী বিলে। পরে গত বুধবারের বৃষ্টিতে চাষিদের মাঝে হতাশায় ডুবিয়ে দেয়।
সরেজমিন দেখা যায়, বিলের মুল অংশ কুঠিপাড়ার নিচ থেকে গুবিরপাড় ধানতৈড় গোকুলগ্রামের সামনের অংশ এবং তালন্দ পার হয়ে লবিয়াতলা ব্রিজের পূর্ব পশ্চিম দিকের হাজার হাজার একর জমির পাকা ধান ডুবে গেছে। এদিকে কামারগা শ্রীখণ্ডা, বাতাসপুর, পাড়িশো, মাদারিপুর, জমসেদপুর, মালশিরা গ্রামের শতশত কৃষকের ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। গুবিরপাড়া গ্রামের কৃষক সাহেবের ৫বিঘা, শাওনের ৩বিঘা লতিফের ২বিঘা, জিল্লুর ২বিঘা, মতির ২বিঘা, আছানের ২বিঘা ও সামাদের ১বিঘাসহ অনেক কৃষকের জমির পাকা ধান পানিতে ডুবে গেছে। এসব কৃষকরা জানান, বিলের পানি হুহু করে বাড়ছে। তারা বলেন, উত্তর এবং দক্ষিন দুই দিক থেকেই পানির ¯্রােতের কারণে দ্রুত বাড়ছে বিলের পানি।
উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কামারগা শ্রীখণ্ডা গ্রামের আবদুর রহিম জানান, গত সপ্তার কয়েকদিনের ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে আসা পানির কারণে বিলের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিলের পাকা ধান ডুবেছে।
তিনি আরো বলেন, যাদের ধানের শীষ এখনও পানির উপর আছে তারা বিঘায় যা ফলন হবে তার অর্ধেক দিয়েও শ্রমিক পাচ্ছেনা।
ভূমিহীন চাষি বাবু সরদার জানান, বিলের খাস জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম। দুই দিন পর ধান কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ অতি বর্ষণে ও ঢলের পানিতে ধান ডুবে যাওয়ায় ধান কেটে আনতে পারিনি ।
এ ব্যাপারে কৃষি অফিসার শফিকুল ইসলাম জানান, অকাল বন্যার পানিতে মাত্র ২১৫ হেক্টর জমির ধান ডুবেছে। আর ঝড় শিলে ক্ষতি ৪৮৫ হেক্টর জমির ধান। তবে তিনি শ্রমিক সঙ্কটের কথা স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শওকাত আলী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করতে কৃষি অফিসারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তালিকা চূড়ান্ত হলেই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।