তানোরে আমন ধানের পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষিরা

আপডেট: আগস্ট ২৫, ২০১৯, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

লুৎফর রহমান, তানোর


তানোরের মোহর মাঠে আমন ধানের পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষিরা-সোনার দেশ

চলতি আমন রোপা মওসুমে মাঠের পর মাঠ শোভা পাচ্ছে সবুজের সমারোহ। গত বছরের ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় এবার আবারো লোকসানের আশঙ্কা মাথায় নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন মাঠে আমন ধানের পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে এলাকার চাষিরা। সেই সঙ্গে পোকামাকড় দমনে কীটনাশক প্রয়োগেই ব্যস্ত রয়েছেন তারা।
তানোর উপজেলার একাধিক কৃষক জানান, তারা এবার আমন মওসুমের শুরুতে আশা নিয়ে দিনভর মাথার ঘামপায়ে ফেলে মাঠে কাজ করছেন। তানোর উপজেলার কৃষি সম্পসারণ কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, এ বছর চলতি আমর মৌসুমে উপজেলা ২টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নে ২২ হাজার ৫০০ হেক্টর আমন চাষাবাদ করেছেন কৃষকরা। তবে এর মধ্যে ২১হাজার ১০০ হেক্টর উফশি ও বাকীঁগুলো আতপ জাতের ধান।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর আরো জানায়, অন্যান্য বছর খরায় পানির সংকট থাকলেই চলতি বছর আশানুরুপ বৃষ্টিপাত হওয়ায় এখন পর্যন্ত পানির অ্রভাব থেকে মুক্ত উপজেলার কৃষকরা।
উপজেলার চাঁন্দুড়িয়া পাঁচন্দর, বাধাইড়, কলমা মুণ্ডুমালা তানোর পৌর সদরসহ বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মাঠের পর মাঠ সবুজে সমারোহ।
গতকাল শনিবার ১১টার দিকে মোহর মাঠে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেল রনি নামের এক যুবক আমন ধানের জমিতে ঘাস পরিস্কার করছেন। তিনি বলেন, এটা আমন মৌসুমের মাঝামাঝি সময় । এ সময়ে ধানে গোড়ালী পরিস্কার পরিছন্ন না রাখলে পঁচনের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আগাম জমিতে ঘাস পরিস্কার পরিছন্ন করে রাখছি।
একই মাঠে একটু দূরে কৃষক সজল তিনি বলেন, এবারে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এখন পর্যন্ত আমন খেত ভালোই আছে। এর মধ্যে ধান গামরে বসতে শুরু করেছে। তবে তিনি জানান, খরচের তুলনায় বাজারে ধানের দাম নেই। গত বোরা মৌসুমের ধান এখনো বিক্রি করতে পারিনি। কয়েকদিন আগে দেড়বিঘা জমির দান মাড়াই করে ১৫ মন বর্ষালি ধান পেয়েছি। সেটা মাত্র ৪০০ টাকা প্রতি মণে লোকশান দিয়ে বিক্রি করেছি।
এ ছাড়া উপজেলার কয়েকজন কৃষক জানান, গত বোরা মৌসুমসহ বর্ষালি ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় অনেক চাষি হতাশ হয়ে পেেড়ছন। আমন বোরা মৌসুমে জমিতে ধানের বাম্পার ফলন হলেই গত আমন মৌসুমে ধান বিক্রি করতে হয়েছে মন প্রতি মাত্র ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকার মধ্যে। আর বোরা মৌসুমে শুধু মাত্র খাটো জিরা ধান মাঝে মধ্যে প্রতিমন ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে কেনা বেচা হলেও অন্যান্য জাতের ধান বিক্রি হয়েছে ৪৫০ টাকা থেকে ৫৫০ টাকা দরে।
তানোর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা শামিমুল ইসলাম জানান, এখন থেকে আমন ধান ঘরে তোলা পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বা বড় ধরনের কোন দুযোর্গ না দেখা দিলে চলতি মৌসুমে আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে আশা করছেন এ কর্মকর্ত।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ