তানোরে আমন ধানের ফলন বিপর্যয় হতাশ কৃষক

আপডেট: নভেম্বর ১৬, ২০১৭, ১:৩৪ পূর্বাহ্ণ

লুৎফর রহমান, তানোর


তানোরে চলছে ধান মাড়াই, কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলন না পাওয়ায় হতাশ কৃষক-সোনার দেশ

রাজশাহীর তানোরে এবারে আমন ধানের ফলনে দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়। বিগত ১০ বছরেও এমন ফলন বিপর্যয় ঘটেনি বলে একাধিক কৃষক জানান । এমন ফলন বিপর্যয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন আমন চাষিরা। ফলে এ আবাদের পর আলু বা বোরো ধান চাষে অনিশ্চয়তায় উপজেলার হাজারো কৃষক । জানা গেছে, চলতি আমন ধান কাটা মাড়াই শুরু হয়েছে। অনেকের ধান মাড়াই হলেও বেশিরভাগ ধান কাটা অবস্থায় জমিতে পড়ে রয়েছে। বিগত বছরগুলোতে আমন ধানের বাম্পার ফলন হলেও এবারে দেখা দিয়েছে ভিন্নরুপ। আগের বছরগুলোর তুলনায় অর্ধেকে নেমে এসেছে ফলন। উপজেলায়র প্রধান ফসল হলো ধান। আর সেই ধান বিক্রি করে কৃষকরা জীবিকা নির্বাহ করেন ।
গুবিরপাড়া গ্রামের ওমর আলী নামে কৃষক জানান, ধানের শীষ ভালো থাকলেও ফলন নেই। বিঘা প্রতি ১৫ থেকে ১৬ মন কাচির হিসেবে ফলন হচ্ছে। যা বিগত বছরের তুলনায় অর্ধেক।
পৌর সদর গাইনপাড়া গ্রামের আমন চাষি নইমুদ্দিন জানান, বিঘাতে এবারে পাকির হিসেবে ১৪ থেকে ১৫ মন করে ধানের ফলন হয়েছে। আমার জমির ধানের শীষ অত্যন্ত ভালো ছিল তাই এ ফলন হয়েছে। তিনি আরো বলেন আমার গ্রামের অনেকের কাচি ১৪ থেকে ১৫ মন করে বিঘা প্রতি ফলন হয়েছে।
কলমা আজিজপুর গ্রামের কৃষক বদের আলী জানান, এবারে আমনের ফলনে মারাত্মক বিপর্যয় ঘটেছে। ধানের শীষ ভালো থাকার পরও এমন ফলন। যা চাষিরা কখনোই কল্পনা করেন নি। কিন্তু গত অক্টোবর মাসের ২০ তারিখের ঝড় বৃষ্টিতে পাকা ধান মাটিতে শুয়ে পড়ার কারণে ফলনের বিপর্যয় বলে ধারনা কৃষকদের । তবে যে সব জমির ধান মাটিতে শুয়ে পড়েনি তাদের ফলনেরও এমন বিপর্যয় ঘটেছে। তাদেরও ফলন বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ কারেন্ট ও মাজরা পোকার আক্রমণ। আর এ পোকা দমনে কৃষকরা ব্যাপক কীটনাশক ব্যবহার করেছেন তাতে করে খরচ হয়েছে অনেক বেশি।
পৌর সদর তানোর গ্রামের আমন চাষি তসলিম জানান, আড়াই বিঘা জমিতে আমন চাষ করে ফলন হয়েছে বিঘাপ্রতি কাচি হিসেবে ১৬ মন করে । একই গ্রামের আতাউরের ১০ বিঘা জমিতে ফলন হয়েছে বিঘা প্রতি ১৫ মন করে । হিন্দুপাড়া গ্রামের সুধিরের ১ বিঘা জমিতে ফলন হয় ১৬ মন ।
কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক আবদুুর রাজ্জাক জানান, এবারে ৭০ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছি । কয়েক বিঘা জমির ধান মাড়াই করে ১৪/১৫ মন করে ফলন হয়েছে। শ্রমিককে দিতে হচ্ছে বিঘা প্রতি ৪ মন করে ধান। গড়ে ১০ থেকে ১২ মন করে ধান ঘরে উঠছে। এবারে আমন ধানে ব্যাপক কারেন্ট পোকার আক্রমণ ছিল। যা অতীতে দেখা যায়নি। পোকা দমনে বাধ্য হয়ে কৃষকরা পাকা সোনালী শিষেও কীটনাশক স্প্রে করেছেন। এতে করে বিঘা প্রতি কৃষকের ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা করে খরচ হয়েছে।
গতকার বুধবার সকল থেকে সারাদিন সর্যের আলোর দেখা মিলেনি। এমনকি দুপুরের পর থেকে দু এক ফোটা করে বৃষ্টি পড়া শুরু হয়েছে । উপজেলার প্রতিটি ধানী মাঠে জমির ধান কাটা রয়েছে। সামান্য এ বৃষ্টিতে কাটা ধান ভিজা শুরু হয়েছে।
গতকাল বিকেলের দিকে উপজেলার পাঠাকাটা, কৃষ্ণপুর , মু-মালা , সরনজাই, কাসিমবাজার , কালিগঞ্জ, আড়াদিঘি, সিন্দুকাই, কালনা , চাপড়া, তালন্দ, বেলপুকুরিয়া , নারায়নপুর, চাঁদপুর, ইলামদহী, লালপুর , শেলামপুর, দেবিপুর, কলমা , চান্দুড়িয়া, কামারগা ইউপির বিভিন্ন ধানী মাঠে গিয়ে দেখা যায় কাটা ধান কেউ আঁটী বাধছেন আবার কেউ গরুর মহিষের গাড়ী ট্রলি ও ভুটভুটিতে করে স্যাতসেতে ধান নিয়ে আসছেন বাড়ির আঙ্গিনায়।
এমন আবহাওয়া কয়েক দিন চললে ভিজে ধান তোলা ছাড়া উপায় থাকবেনা বলে জানান একাদিক কৃষক। কামারগা ইউপি এলাকায় আমন ধান গাছ থোড় অবস্থায় বন্যার পানিতে ডুবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ।
কামারগা ইউপির চেয়ারম্যান মুসলেম উদ্দিন প্রামানিক এ ইউপিতে সবচেয়ে কম ফলনের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এলাকাটি নিচু হওয়ার ফলে গতমাসের ঝড় হাওয়ার আমনের ধানগুলো মাটিতে শুয়ে পড়ে। আর পড়ে যাওয়ার ফলে মারাক্তভাবে ফলনের বিপর্যঘটে।
উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রহিমের বাড়ি কামারগা ইউপির দমদমা শ্রীখন্ডা গ্রামে তিনি জানান, কামারগা ইউপির কৃষকরা আগামী বোরো চাষ করতে পারবেন কিনা সন্দেহ আছে।
শুরু হয়েছে বৈরী আবহাওয়া । কয়েকদিন এমন আবহাওয়া থাকলে ফলন বিপর্যয়সহ ভিজে ধান তুলতে হবে ঘরে।
এনিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সব জমির ধান মাড়াই না হওয়া পর্যন্ত ফলনের বিষয়ে কিছুই বলা যাবে না । তবে যে আবহাওয়া শুরু হয়েছে তাতে করে জমিতে কাটা ধান ভিজে যাবে এবং কিছুটা ফলন কমতে পারে বলে জানান তিনি। উপজেলায় এবারে আমন চাষ হয়েছে ২১ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে বলে তিনি জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ