তানোরে এবারও পাঁচ হাজার হেক্টর ফসলি জমি অনাবাদি!

আপডেট: এপ্রিল ৪, ২০১৭, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

লুৎফর রহমান, তানোর


রাজশাহীর তানোর উপজেলার দুইটি ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর ফসলি জমিতে পানি সেচের অভাবে চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ করতে পারবে না চাষিরা। ফলে একটি আবাদ করে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা।
উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, তানোর উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভার আবাদযোগ্য জমির পরিমান ২৩ হাজার ৯৯৩ হেক্টর। এর মধ্যে কলমা ইউনিয়ন ও বাঁধাইড় ইউনিয়নে আবাদযোগ্য জমির পরিমান ৮ হাজার ৪৮৫ হেক্টর। কলমা ইউনিয়নের ৩ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমির মধ্যে চলতি মৌসুমে এক হাজার ২৭০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষবাদ চলছে। বাকী দুই হাজার ৬শ হেক্টর জমি পানি সেচের অভাবে অনাবাদী হয়ে পড়ে রয়েছে। বাঁধাইড় ইউনিয়নে ৪ হাজার ৬১৫ হেক্টর জমির মধ্যে চলতি মৌসুমে এক হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ অব্যাহত রয়েছে। বাকী তিন হাজার ৪৯৫ হেক্টর জমিতে পানি সেচের অভাবে বোরো আবাদ করতে পারবে না কৃষকরা। ১নম্বর কলমা ইউপির চৈতপুর, আদিবাসিপাড়া, দিŸ্যস্থল, কন্দপুর, বলদিপাড়া, সংকরপুর গ্রাম এবং ২নম্বর বাঁধাইড় ইউনিয়নের জৈতগোকুল, জৈগিবাড়ি, রামজেদপুর, ঝিনাখোর, গোলাকান্দা, ঝিনাপাড়া, ধামধুম, চকপারুলীসহ মাড়িয়া গ্রামের চাষিরা পানি সেচের অভাবে চলতি মৌসুমে জমিতে বোরো আবাদ করতে পারবেন না।
গতকাল সোমবার তানোর সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে কলমা ইউনিয়নে দিব্যস্থল গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, অনাবাদি জমির মাঠকে মাঠ শুধু ধূশর মরুভুমি হয়ে খাঁ খাঁ করছে। এসকল অনাবাদি ফসলের জমিতে গরু, ছাগল চরছে। এসময় ওই এলাকার কয়েকজন উপস্থিত কৃষকরা এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বরেন্দ্র তানোর জোনের কর্তৃপক্ষের উদাসিনতার জন্য আমরা এই অঞ্চলের মানুষ ফসলি জমিতে বোরো আবাদ করতে পারছি না। বরেন্দ্র গভীর নলকূপ না বসানোর কারণে আমরা বোরো আবাদের উন্নয়নের ধারা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
একই গ্রামের আফজাল হোসেন নামে এক কৃষক জানান, দীর্ঘযুগ ধরে শুধু পানি সেচের অভাবে প্রায় ২০ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করতে পারছি না। চৈতপুর হঠাৎপাড়া গ্রামের কৃষক সাইদুর রহমান, শামিম উদ্দিন, টিপু একই কথা বলেন। বাধাইড় ইউপির জৈতগোকুল গ্রামের রবিউল ইসলাম ও আজাদ আলী জানান, আকাশের বৃষ্টির উপর ভরসা করে আমরা একটিমাত্র ফসল (আমন) আবাদ করতে পারি। শুধু আমাদের গ্রামের ফসলি জমিতে নয় আশপার্শে¦র গ্রামের জমির মাঠেও বরেন্দ্রর গভীর নলকূপ না থাকায় পানি সেচের অভাবে হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি বোরো মৌসুমে অনাবাদি হয়ে পড়ে থাকে। ওই সব অনাবাদি জমিগুলোতে যদি বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ গভীর নলকূপ স্থাপন করে পানি সেচের ব্যবস্থা করেন তাহলে এই অঞ্চলের কৃষকরা বোরো মৌসুমে চাষাবাদ করে সোনালী ফসল ঘরে তুলে সচ্ছলভাবে চলতে পারতো। একটি ফসল আবাদ করে জীবিকা র্নিবাহ করা অতি কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওই একই কথা বললেন ঝিনাখোর গ্রামের কৃষক আবদুর রশীদ, আবুল কালাম আজাদ ও কারী মফিজ উদ্দিন।
এ বিষয়ে বরেন্দ্র তানোর জোনের সহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম কলমা ও বাঁধাইড় ইউনিয়নে পানি সেচের অভাবে হাজার হাজার জমি বোরো মৌসুমে অনাবাদি হয়ে পড়ে থাকার কথা শিকার করে বলেছেন, ওই সব এলাকায় পানির গভীরতা অনেক নিচে থাকায় বরেন্দ্রর গভীর নলকূপ স্থাপন করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। ফলে সেখানে গভীর নলকূপ স্থাপন করা সম্ভব হয় নি।