তানোরে ছুরিকাঘাতে ছাত্রলীগ নেতা খুন: আটক তিন

আপডেট: জুন ২৭, ২০১৯, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ

তানোর প্রতিনিধি


গ্রেফতারকৃত আলমগীর ও তার দুই ছেলে-সোনার দেশ

তানোরে আম কেনা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে সুজন আলী (২৮) নামে এক ছাত্রলীগ নেতা ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছে। এঘটনায় পুলিশ গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় তিন জনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলো তানোর উপজেলার মোহরগ্রামের আলমগীর (৫৫) এবং তার দুই ছেলে রায়হান (১৮) ও রাকিব (১৬)। নিহত সুজন তানোর পৌর এলাকার আকচা গ্রামের শাহাবুল ওরফে শাজনের ছেলে এবং তানোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি। এদিকে ঘটনার পর পরই স্থানীয় লোকজন হামলাকারী আলমগীরের দোকান ভাঙচুর করে।
জানা গেছে, মোহনগ্রামের আলমগীর ও তার দুই ছেলে তানোর গোল্ল্াপাড়া বাজারে আম ও পেয়ারা ব্যবসা করে। গতকাল আলমগীরের সঙ্গে আম কেনার জন্য মোবাইল ফোনে কথা হয় নিহত সুজনের। সুজন সে মোতাবেক নিজ গাছের আম নিয়ে গতকাল বিকেল ৫ টার দিকে তানোর গোল্ল্াপাড়া বাজারে আসে। এসময় সুজন বাজারে এসে আলমগীরকে না পেয়ে জাবেদ নামে অন্য আম ব্যবসায়ীর কাছে আম বিক্রি করে দেন। এসময় আলমগীর ও তার দুই ছেলে হাটে আসলে সুজন তাদের কাছে আম বিক্রি না করায় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে আলমগীরের ছোট ছেলে রাকিব ছুরি দিয়ে প্রকাশ্যে সুজনের বুকে আঘাত করে। এতে সুজন মাটিতে পড়ে যায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে তানোর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে সুজনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধরা আলমগীর এবং তার বড় ছেলে রায়হানকে ধরে মারধর করে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এসময় আলমগীরের ছোট ছেলে রাকিব পালিয়ে যায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ তাকে তানোর পৌরসভার কুঠিপাড়া মহল্লার একটি বাড়ির টয়লেট থেকে আটক করে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসমত আরা জানান, সুজনের বুকে গভীর ক্ষত রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে পৌঁছার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
এ ব্যাপারে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খাইরুল ইসলাম বলেন, হামলাকারীদের আটক করা হয়েছে। মরদেহ তানোর থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানোর হবে। এবিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ