তানোরে ধানে কারেন্ট পোকার আক্রমণ দিশেহারা কৃষক

আপডেট: অক্টোবর ৩১, ২০১৭, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ

লুৎফর রহমান, তানোর


রাজশাহীর তানোরে পর পর দুই দফা দীর্ঘস্থায়ী বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষকেরা নবউদ্যোমে আমন চাষ করেছিলেন। কিন্তু কৃষকরা আমন নিয়ে যে আশায় বুক বেঁধেছিলেন শেষ মুহূর্তে আমন খেতে কারেন্ট পোকার আক্রমণ তাদের সেই আশা নিভে যেতে বসেছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ না পেয়ে কৃষকরা নিজেরা তৎপর হলেও কারেন্ট পোকার আক্রমণ কমছে না। অনেক এলাকায় জমির পুরো ধান গাছ শুকিয়ে থড়ে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় পোকার আক্রমণে এক ছটাক ধান পাওয়ার আশা নাই। ফলে আমন চাষে মুনাফা তো দূরের কথা কৃষকের খরচের টাকা উঠছে না বলে জানিয়েছেন তারা।
চলতি মৌসুমে আমন খেতে ইঁদুরের উপদ্রব, পোকার আক্রমণ ও রোগ-বালাই প্রতিরোধে আমন খেতে পলিথিন, অডিও ক্যাসেটের ফিতা ঝুলানোর পাশপাশি প্রার্চিং পদ্ধতিতে বিভিন্ন গাছের ডাল ও কলাগাছ পুঁতে এসব প্রতিরোধ করার জন্য কৃষি বিভাগ কৃষকদের পরামর্শ ও উৎসাহ দেয়ার পাশপাশি তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। কিন্তু এতো কিছুর পরেও আমন খেতে কারেন্ট পোকার আক্রমণে কৃষকরা রীতিমতো দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
গতকাল সোমবার সরেজমিন উপজেলার কলমা ইউনিয়নের ধঞ্জয়পুর, চৈতপুর ও বংপুর মাঠে দেখা গেছে, আমন খেতে কারেন্ট পোকার ভয়াবহ আক্রমণ। বিশেষ করে আতপ ধানের খেত কারেন্ট পোকার আক্রমণে পুরোপুরি নষ্ট হতে চলেছে। কলমা ইউনিয়নের ধনঞ্জয়পুর গ্রামের চাষি রতন (৪০) জানান, ধনঞ্জয়পুর মাঠে তার দুই বিঘা আতপ ধান ছিল কারেন্ট পোকার আক্রমণে পুরো জমির ধান গাছ শুকিয়ে খড় হয়ে গেছে। এক ছটাক ধানও তিনি পাবেন না। কৃষক আবদুল মান্নান (৩৩) বলেন, তার এক বিঘা জমির আতপ ধান কারেন্ট পোকার আক্রমণে পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে। কিন্তু তারা কৃষি বিভাগের কাছে থেকে তেমন কোনো সহযোগিতা বা পরামর্শ পাচ্ছেন না।
জানতে চাইলে তানোর উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা সমশের আলী বলেন, প্রার্চিং পদ্ধতি ও আলোক ফাঁদ ব্যবহার করে সহজেই আমন খেতের পোকা দমন করা সম্ভব। এতে কীটনাশকের প্রয়োজন পড়ে না। তবে কারেন্ট পোকা কিছুতেই দমন করা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রর্চিং পদ্ধতি ও আলোক ফাঁদ ব্যবহার করে পোকার উপদ্রব এবং ইঁদুরের উপদ্রব প্রতিরোধ করতে পলিথিন বা কলা গাছ পুঁতে আমন খেত রক্ষায় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তানোরে আমন খেতে ইঁদুর ও পোকার আক্রমণ সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। নতুন করে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আমনের বাম্পার ফলন হবে।
উপজেলার কৃষি অধিদফতরের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে আমনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ২১ হাজার ৫৫০ হেক্টর। এর মধ্যে পোকা দমনের পদ্ধতিতে পাচির্ং-লগ, লাইন এবং ধঞ্চা গাছ লাগনো হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে।