তানোরে পুরোদমে চলছে আমন ধান কাটা-মাড়াই

আপডেট: নভেম্বর ১৮, ২০১৯, ১:০৮ পূর্বাহ্ণ

লুৎফর রহমান, তানোর


তানোর উপজেলায় চলছে আমন ধান কাটার উৎসব সোনার দেশ

রাজশাহীর তানোর উপজেলার মাঠ জুড়ে চলছে আমন ধান কাটা ও মাড়াই। অগ্রাহণ মাস পড়তেই তানোরে মাঠ জুড়ে আমন কাটা মাড়াইয়ের উৎসব শুরু হয়েছে।
কৃষি শ্রমিকেরা এখন সোনালী ফসল ঘরে তোলা নিয়ে মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কয়েক দিন ধরে আমন ধান কাটার জন্য চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার শ্রমিকরা এসে গেছে।
অনুকূল আবহাওয়া থাকায় অন্য সব বছরের চেয়ে চলতি মৌসুমে মাঠে আমন ধানের ভাল রয়েছে। ফলে এবার আমনের বাম্পার ফলের আশা করছেন কৃষকেরা। তবে, বাম্পার ফলন হলেও দাম নিয়ে শঙ্কায় এখনও রয়েছে কৃষকদের মধ্যে।
যদিও এর মধ্যে সরকার আমন ধানের দাম নির্ধারণ করেছেন। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ি চলতি মৌসুমে আমন ধান প্রতি মণ (৪০ কেজি ) ধানের দাম ১০২০ করে কিনবে সরকার। সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে লটারির মাধ্যমে ধান ক্রয় করা হবে বলে জানান খাদ্যমন্ত্রী।
সরকারের দাম নির্ধারণে আস্থা রাখতে পারছেনা তানোরের কৃষকেরা। তানোরের কৃষকেরা জানান, চলতি বোরো মৌসুমে সরকার একই দাম নির্ধারণ করলেও কৃষকেরা সে সুফল একেবারে পাইনি। ধানের বাজার পুরোটাই চলে গিয়েছিল রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সিন্ডিকেটের দখলে। যার কারণে বোরো ধান বিক্রি করে কৃষকদের উৎপাদন খরচই তুলতে পারেনি। এবারও সে শঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
চলতি মৌসুমে তানোর আমনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৫২০ হেক্টর জমিতে। আমন চাষাবাদ হয়েছে ২২ হাজার ৪৬০ হেক্টরের উপরে।
মু-ুমালা পৌর এলাকার চুনিয়াপাড়া গ্রামের জিয়াউর রহমান জানান, চলতি আমন মৌসুমে ২২ বিঘা জমিতে স্বর্ণা জাতের ধান চাষাবাদ করেছেন। ধান কাটা শুরু করেছেন তিনি। ধানের মাথা ভাল থাকায় এবার বাম্পার ফলনের আশা তার। তবে সরকারের নির্ধারিত মূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কা আছে তার।
চিমনা গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে ৪০ বিঘা জমিতে আমন চাষাবাদ করেছেন তিনি। এরমধ্যে তার ১৮ থেকে ২০ বিঘা ধান কাটা শেষ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকায় তার খেতে ধান অন্য সব বছরের চেয়ে বেশ ভাল আছে। বাম্পার ফলনও হবে আশা তার। কিন্ত বাজারে ধানের দাম পাওয়া নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, সরকার বোরো ধানের মূল্য ঠিক করে দিয়েছিলেন। এবার প্রভাব বাজারে আসেনি। কৃষকেরা সে সুফল না পাওয়া অনেকে বড় লোকসানে পড়ে গিয়েছিল। তাই সরকারে দাম ঘোষণা করা হলেও কৃষকেরা খুশি হতে পারছেনা।
উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা শামিমুল ইসলাম জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আমন ধানের মাথা ভালই আছে। বাম্পার ফলন হবে আশা করা হচ্ছে। তবে দাম নিয়ে তিনি বলেন, সরকারে দাম নির্ধারণ করাই কৃষকদের জন্য সুফল বয়ে আনবে। কৃষকদের একটু ধৈর্য ধরে ধান বিক্রি করার পরামর্শ দেন তিনি।