তানোরে বোরো ধানকাটা শুরু বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

আপডেট: এপ্রিল ২৭, ২০১৮, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ

লুৎফর রহমান,তানোর


মাঠে ধান কাটছে শ্রমিকরা। ছবিটি গতকাল গোদাগাড়ীর উপজেলার কাঁকনহাট এলাকা থেকে তোলা-সোনার দেশ

ধান উৎপাদনের ভা-ার হিসেবে ইতোপূর্বেই খ্যাত অর্জন করেছে বরেন্দ্র অঞ্চল নামে পরিচিত রাজশাহীর তানোর উপজেলা। ৭টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ উপজেলা। উপজেলার ধানের খেত ও বিলকুমারি বিল জুড়ে শোভা পাচ্ছে বোরো ধানের সোনালী শীষ।
ইতোমধ্যেই এ অঞ্চলের চাষিরা ধান কাটতে শুরু করেছেন। এবার এলাকার বোরো চাষিরা বাম্পার ফলনের আশা দেখছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার কিছু কিছু এলাকায় মাঠে মাঠে ধান কাটতে শুরু করেছে চাষিরা। আবার কোন মাঠে সোনালী রং ধরে পেকে উঠছে বোরো খেত। আগামী সপ্তায় পুরোদমে শুরু হবে এ উপজেলার বোরো ধান কাটামাড়াই। তবে এবারে বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।
উপজেলার দেবিপুর, কাশিমবাজার, সরনজাই, চিমনা, মুন্ডমালা, সালামপুর, নারায়ণপুর, ইলামদহী, পাঁকচাঁদপুর, বিলশাহরসহ বেশ কিছু এলাকায় বোরো রোপণকৃত ধান কাটা-মাড়াই পুরোদমে শুরু হয়েছে। এতে করে কৃষকদের মনে স্বস্তি ফিরেছে। কর্মহীন কৃষি শ্রমিকরা কাজ পেয়েছে। তানোর উপজেলায় দুই দফা গুড়িগুড়ি বৃষ্টি ও ঝড় হাওয়ায় কিছু এলাকায় বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত না হলেই কিছুটা ফলন বিপর্যয় হতে পারে। তারপরেও এবার ভালো ফলনের আশা করছেনা চাষিরা।
এদিকে বিলকুমারি এলাকাজুড়ে পুরোদমেই শুরু করেছেন চাষিরা বোরো ধান কাটা। এবার তাদের চোখে মুখে হাসির ঝিলিক। কেননা বিলে নিচের জমিগুলো কয়েক বছর ধরে পানিতে ডুবে ধান নষ্ট হয়েছে। এবার তেমন কোনো আশঙ্কা এখন পর্যন্ত দেখা যায় নি। ফলে কৃষকরা এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন ।
এ উপজেলায় দুই ধরনের বোরো চাষ হয়ে থাকে। বিলের জমিতে আগাম জাতের বোরো ধান এবং উপরের জমিতে আলু উত্তোলনের পর হয় বোরো চাষ। বিগত কয়েক মৌসুমে ধান কাটার আগ পর্যন্ত ব্যাপকহারে ঝড় বৃষ্টি ছিলো। ঝড় বৃষ্টির কারণে বিগত তিন মৌসুমে চাষিদের গুনতে হয়েছে লোকসান। অবশ্য এবারে আবহাওয়া ভালো থাকায় লাভের আশা করছেন কৃষকরা ।
গুবিরপাড়া গ্রামের বোরো চাষি ওমর আলী জানান, আর কয়েক দিনের মধ্যে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে। তিনি জানান, ৮০ থেকে ৯০ দশকের দিকে উপজেলাবাসীর কাছে বোরো চাষাবাদ বলতে বিল কুমারি বিলের জমিতে হতো। কিন্তু যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সব কিছু পাল্টে যেতে শুরু করে। আর উপরের জমিতে আমন ধান চাষ ছাড়া কিছুই হত না। কিন্তু গভীর অগভীর নলকূপ বসানোর কারণে প্রায় জমিতে বোরো চাষাবাদ হচ্ছে ।
তিনি আরো বলেন, এবারে আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে বোরো ধানে শীষ গজিয়েছে ভালো। আর এ শীষ দেখেই ভালো ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন তিনি ।
চাষি বাবু সরদার জানান, গত তিন বছরে ধান কাটার আগ মুহূর্তে বিলের পানি বেড়ে যাবার কারণে অনেকের ধান কাটার আগেই ঢুবে যেত। জমিতে বন্যার পানি উঠামাত্রই কোন শ্রমিকরা আর ধান কাটতে চায় না। আবার কোনো ভাবে শ্রমিক পাওয়া গেলে বিঘায় যা ফলন হয় তার অর্ধেক দিতে হয় । কিন্তু এবারে লাভের আসা করছি। কারণ এখন পর্যন্ত তেমনভাবে বৃষ্টি না হবার কারণে বিলের পানি বাড়েনি।
চাষি মফিজ জানান, বিলের জমিতে শুধু বোরো চাষ হয়। যার কারণে কোন দুর্যোগ না এলে বাম্পার ফলন হয় । কারণ হিসেবে তিনি বলেন বিলের জমি অনেক উর্বর । এমনকি কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয় কম ।
তিনি আরো বলেন, উপজেলার চান্দুড়িয়া ইউপি থেকে শুরু করে তানোর পৌর এলাকা কলমা ইউপির কিছু অংশ এবং কামারগা ইউনিয়নের হাজার হাজার কৃষকের ভরসা বিল কুমারি বিলের জমির বোরো চাষ ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় বোরো চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে রোপণ হয়েছে ১২ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমিতে। তবে কৃষি অফিসের দাবি, বোরো ধানের লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। তবে তাদেরকে রিপোর্ট দিতে হয়েছে যে সব জমি ১৫ মার্চের মধ্যে রোপণ হয়েছে সেগুলো বোরো চাষ হিসেবে চিহ্নিত করে। আর ১৫ মার্চের পরে যে সব জমিতে রোপণ হয়েছে কৃষকেরা সেটি বোরো চাষ বললেও রিপোর্ট দিতে হয় আউস চাষ হিসেবে। ১৫মার্চের পরে প্রায় ৩হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। আশা করছি লক্ষমাত্রার চাইতেও বেশি ফলন হবে। তবে কয়েকদিন পর প্রতিবিঘা জমিতে কি পরিমাণ ফলন হচ্ছে তা জানা যাবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।